ইসলাম ও জীবন ডেস্ক:
কোনো মুসলিম ব্যক্তি মারা গেলে তাঁর রেখে যাওয়া সম্পত্তি স্ত্রী, সন্তান ও অন্যান্য ওয়ারিশের মধ্যে কীভাবে বণ্টন হবে—এ নিয়ে অনেকের মধ্যেই প্রশ্ন থাকে। সঠিক তথ্যের অভাবে অনেক সময় কেউ কেউ তাঁদের প্রাপ্য অধিকার থেকেও বঞ্চিত হন। তাই উত্তরাধিকার সম্পত্তি বণ্টনের ক্ষেত্রে শরিয়তের বিধান জানা গুরুত্বপূর্ণ।
ধরা যাক, কোনো মুসলিম ব্যক্তি মৃত্যুকালে একজন স্ত্রী, ৬ জন পুত্র ও ৩ জন কন্যা রেখে গেছেন এবং তাঁর অন্য কোনো ওয়ারিশ নেই। এ ক্ষেত্রে শরিয়তের নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী সম্পত্তি বণ্টনের পদ্ধতি হবে নিম্নরূপ।
সম্পত্তি বণ্টনের আগে প্রথমে মরহুমের কাফন-দাফনের স্বাভাবিক ও যুক্তিসংগত খরচ পরিশোধ করতে হবে, যদি তা অন্য কেউ স্বেচ্ছায় বহন না করে থাকেন। এরপর তাঁর কোনো ঋণ বা দেনা থাকলে, যেমন বকেয়া দেনমোহর কিংবা অন্যের কাছ থেকে নেওয়া ঋণ, তা পরিশোধ করতে হবে।
এরপর বৈধ কোনো ওসিয়ত থাকলে, ঋণ পরিশোধের পর অবশিষ্ট সম্পদের সর্বোচ্চ এক-তৃতীয়াংশ থেকে তা কার্যকর করা যাবে। এসব খরচ, ঋণ ও বৈধ ওসিয়ত সম্পন্ন করার পর অবশিষ্ট সম্পত্তিই উত্তরাধিকারীদের মধ্যে বণ্টনযোগ্য হবে।
শরিয়তি বিধান অনুযায়ী, মৃত ব্যক্তির সন্তান থাকলে তাঁর স্ত্রী মোট সম্পত্তির ১/৮ অংশ পাবেন। এরপর অবশিষ্ট ৭/৮ অংশ ৬ পুত্র ও ৩ কন্যার মধ্যে বণ্টন করা হবে।
এ ক্ষেত্রে কুরআনের নির্ধারিত নীতি অনুযায়ী, একজন পুত্রের অংশ হবে দুই কন্যার অংশের সমান। অর্থাৎ ৬ পুত্রের জন্য ১২টি অংশ এবং ৩ কন্যার জন্য ৩টি অংশ—সব মিলিয়ে সন্তানদের মধ্যে মোট ১৫টি অংশ হবে।
ফারায়েজের হিসাব সহজ করার জন্য পুরো সম্পত্তিকে ১২০টি সমান অংশে ভাগ করা যায়। এর মধ্যে স্ত্রী পাবেন ১৫ অংশ, যা মোট সম্পত্তির ১/৮ অংশ। অবশিষ্ট ১০৫ অংশ সন্তানদের মধ্যে বণ্টন হবে।
১৫টি অংশের মধ্যে ৬ পুত্রের জন্য ৮৪ অংশ এবং ৩ কন্যার জন্য ২১ অংশ নির্ধারিত হবে। ফলে প্রত্যেক পুত্র পাবেন ১৪ অংশ এবং প্রত্যেক কন্যা পাবেন ৭ অংশ।
অর্থাৎ ১২০ ভাগের হিসাবে—
স্ত্রী: ১৫ অংশ
প্রত্যেক পুত্র: ১৪ অংশ করে
৬ পুত্র: মোট ৮৪ অংশ
প্রত্যেক কন্যা: ৭ অংশ করে
৩ কন্যা: মোট ২১ অংশ
এভাবে স্ত্রী ও সন্তানদের নির্ধারিত অংশ পূর্ণ হওয়ার পর ১২০ অংশের সম্পত্তি সম্পূর্ণ বণ্টন হয়ে যাবে।
তবে বাস্তব কোনো উত্তরাধিকার সম্পত্তি বণ্টনের ক্ষেত্রে মৃত ব্যক্তির বাবা-মা, অন্য স্ত্রী, সন্তান বা অন্যান্য শরিয়তি ওয়ারিশ জীবিত আছেন কি না, তা যাচাই করা জরুরি। কারণ ওয়ারিশের সংখ্যা ও সম্পর্ক পরিবর্তিত হলে হিসাবও পরিবর্তিত হতে পারে। তাই নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে সম্পত্তি বণ্টনের আগে অভিজ্ঞ আলেম বা ফারায়েজ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত।