নিজস্ব প্রতিবেদক:-
রাজধানীর কদমতলী থানাধীন স্মৃতি দ্বার–৮ নম্বর রোডের গামছার বিল সংলগ্ন এলাকায় রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক)-এর নির্মাণবিধি লঙ্ঘন করে বহুতল ভবন নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, লন্ডনপ্রবাসী কাইয়ুম চৌধুরী অনুমোদিত নকশা ও রাজউকের নির্ধারিত শর্ত উপেক্ষা করে ভবনটি সাততলা পর্যন্ত নির্মাণ করছেন। দীর্ঘদিন ধরে প্রকাশ্যে নির্মাণকাজ চললেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ না থাকায় জনমনে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, নির্মাণাধীন ভবনটির উচ্চতা, সেটব্যাক, অনুমোদিত নকশা এবং অন্যান্য কারিগরি শর্ত যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়নি। নির্মাণকাজ শুরুর পর থেকেই বিষয়টি একাধিকবার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরে আনা হলেও রহস্যজনক কারণে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি বলে দাবি তাদের।
এ ঘটনায় রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) জোন–৭-এর দায়িত্বপ্রাপ্ত অথরাইজড কর্মকর্তা ইলিয়াস এবং সংশ্লিষ্ট কয়েকজন পরিদর্শকের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা। তাদের অভিযোগ, নিয়মিত তদারকির দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে এলেও কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেননি। ফলে সরকারি সংস্থার দায়িত্ব পালনের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
নির্মাণকাজ তদারকির সঙ্গে সম্পৃক্ত এক ব্যক্তি, পরিচয় প্রকাশ না করার শর্তে, প্রতিবেদককে বলেন, “আপনারা তো সবই জানেন, বুঝেন। টাকা দিলে কী না হয়!” তার এই বক্তব্য স্থানীয়দের অভিযোগকে আরও জোরালো করলেও, এ বক্তব্যের স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
স্থানীয়দের ভাষ্য, রাজধানীতে অবৈধ ভবন নির্মাণের বিরুদ্ধে রাজউক নিয়মিত অভিযান পরিচালনার কথা বললেও প্রভাবশালী ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে অনেক সময় সেই কঠোরতা কার্যকরভাবে প্রতিফলিত হয় না। এতে একদিকে যেমন নগর পরিকল্পনা ব্যাহত হচ্ছে, অন্যদিকে ভবিষ্যতে জননিরাপত্তা, অগ্নিনিরাপত্তা এবং পরিবেশগত ঝুঁকিও বাড়ছে।
অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে রাজউকের জোন–৭-এর অথরাইজড কর্মকর্তা ইলিয়াসের সঙ্গে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। খুদে বার্তা পাঠানো হলেও কোনো জবাব পাওয়া যায়নি। ফলে অভিযোগের বিষয়ে তার বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।
একইভাবে ভবনের মালিক হিসেবে অভিযুক্ত লন্ডনপ্রবাসী কাইয়ুম চৌধুরীর বক্তব্য জানার জন্যও যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। তবে প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তার কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। ভবিষ্যতে তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা যথাযথ গুরুত্বের সঙ্গে প্রকাশ করা হবে।
নগর পরিকল্পনাবিদদের মতে, অনুমোদিত নকশার বাইরে ভবন নির্মাণ কেবল আইন লঙ্ঘন নয়; এটি জননিরাপত্তা, অগ্নিনিরাপত্তা এবং পরিবেশের জন্যও গুরুতর ঝুঁকি সৃষ্টি করতে পারে। তাই এ ধরনের অভিযোগ দ্রুত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি।
এদিকে এলাকাবাসী ও সচেতন নাগরিকরা রাজউকের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে নির্মাণকাজ অবিলম্বে বন্ধ, অনুমোদিত নকশা যাচাই এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন তারা।