আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
হরমুজ প্রণালির প্রবেশমুখে আটক করা মার্কিন একটি চালকবিহীন ডুবোযানের প্রযুক্তি বিশ্লেষণ করে রিভার্স ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মাধ্যমে নিজেদের কাজে ব্যবহারের উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়েছে ইরান। দেশটির ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হোসেইন মোহেবি এ তথ্য জানিয়েছেন।
মঙ্গলবার এক সাক্ষাৎকারে মোহেবি বলেন, আটক করা ডুবোযানটির প্রযুক্তি ও কাঠামো বিশ্লেষণ করে এটি কীভাবে তৈরি ও পরিচালিত হয়, তা বোঝার চেষ্টা করবে ইরান। এরপর সেখান থেকে পাওয়া প্রযুক্তিগত জ্ঞান নিজেদের কাজে ব্যবহারের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
এর আগে ৮ সেপ্টেম্বর আইআরজিসি নেভি হরমুজ প্রণালির প্রবেশমুখে একটি মার্কিন চালকবিহীন ডুবোযান আটকের দাবি করে। ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে যানটিকে যুক্তরাষ্ট্রের অ্যান্ডুরিল ইন্ডাস্ট্রিজের তৈরি ‘ডাইভ-এলডি’ স্বয়ংক্রিয় ডুবোযান হিসেবে শনাক্ত করা হয়।
ডাইভ-এলডি একটি স্বয়ংক্রিয় আন্ডারওয়াটার ভেহিকল, যা নজরদারি, সমুদ্রতলের মানচিত্র তৈরি, অবকাঠামো পরিদর্শন ও মাইন শনাক্তকরণসহ বিভিন্ন কাজে ব্যবহারের জন্য তৈরি করা হয়েছে। প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, এটি প্রায় ৫ দশমিক ৮ মিটার দীর্ঘ এবং সর্বোচ্চ ৬ হাজার মিটার গভীরতায় কাজ করতে পারে।
তবে ড্রোনটি আটকের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বক্তব্য ইরানের দাবির সঙ্গে পুরোপুরি এক নয়। মার্কিন সামরিক কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, ড্রোনটি এক দিনেরও বেশি সময় আগে বিকল হয়ে পড়েছিল। এটি পুরোনো মডেলের ছিল এবং এতে সংবেদনশীল তথ্য, শ্রেণিবদ্ধ সোনার বা রাডার সরঞ্জাম ছিল না বলেও দাবি করেছে যুক্তরাষ্ট্র।
অন্যদিকে, আইআরজিসির মুখপাত্র মোহেবি দাবি করেছেন, ডুবোযানটিতে উন্নত প্রযুক্তি রয়েছে এবং এর প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বিশ্লেষণ করে রিভার্স ইঞ্জিনিয়ারিং শুরু করা হবে। এর মাধ্যমে যানটির নকশা, কাঠামো ও ব্যবহৃত প্রযুক্তি সম্পর্কে ধারণা নেওয়ার চেষ্টা করবে ইরান।
বিশ্লেষকদের মতে, আটক করা ডুবোযান থেকে ইরান প্রযুক্তিগত কিছু জ্ঞান অর্জন করতে পারলেও সেখান থেকে সরাসরি একই ধরনের উন্নত প্রযুক্তি তৈরি করা সহজ নয়। রয়টার্সের প্রতিবেদনে উদ্ধৃত বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, ঘটনাটি ইরানকে কিছু প্রযুক্তিগত সুবিধা দিতে পারে, তবে তা থেকে বড় ধরনের সামরিক সুবিধা পাওয়া নিশ্চিত নয়।
হরমুজ প্রণালি ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের উত্তেজনার মধ্যেই ডুবোযান আটকের ঘটনাটি সামনে আসে। ফলে ঘটনাটি সামরিক প্রযুক্তি ও সমুদ্রভিত্তিক নজরদারি সক্ষমতা নিয়ে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।