হালিশহরে কিশোরকে অপহরণ ও যৌন নির্যাতনের অভিযোগে গ্রেপ্তার ১

নিজস্ব প্রতিবেদক:

চট্টগ্রামের হালিশহরে ১৭ বছর বয়সী এক কিশোরকে অপহরণ করে যৌন নির্যাতন এবং ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগে করা মামলায় মো. মোয়াজ্জেম (৩৭) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

রোববার (২৫ অক্টোবর) রাতে হালিশহর থানা পুলিশের বিশেষ অভিযানে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, তিনি মামলাটির এজাহারভুক্ত দ্বিতীয় আসামি। মামলার প্রধান আসামি নূর হোসাইন নূর পলাতক রয়েছেন।

গ্রেপ্তার মোয়াজ্জেম কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলার জোয়াগ ইউনিয়নের বাসিন্দা। বর্তমানে তিনি চট্টগ্রামের হালিশহরের কে-ব্লকের ওয়াপদা মোড় এলাকায় বসবাস করেন। তিনি নিজেকে যুবদলের সংগঠক হিসেবে পরিচয় দেন বলে জানা গেছে।

তবে চট্টগ্রাম মহানগর যুবদলের সভাপতি মোশারফ হোসেন দীপ্তি ঢাকা পোস্টকে বলেছেন, মোয়াজ্জেম যুবদলের কেউ নন এবং সংগঠনে তাঁর কোনো পদ-পদবি নেই। রাজনৈতিক পরিচয় যা-ই হোক, অপরাধে জড়িত ব্যক্তির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ১২ অক্টোবর ভুক্তভোগী কিশোর হালিশহর থানায় মামলা করেন। তিনি চট্টগ্রামের নিউমার্কেট এলাকার একটি কাপড়ের দোকানে কাজ করতেন। এজাহারে অভিযোগ করা হয়, গত ২৩ আগস্ট সন্ধ্যায় বাসায় ফেরার পথে নূর হোসাইন নূর (৩৮) ও মো. মোয়াজ্জেম তাঁকে ডেকে নেন। পরে জোরপূর্বক ফইল্ল্যাতলী বাজারসংলগ্ন মেডিসিন বাজারের একটি ভবনের ওপরতলায় নিয়ে যাওয়া হয়।

এজাহারের বর্ণনা অনুযায়ী, সেখানে কিশোরকে ভয়ভীতি দেখিয়ে তাঁর মুখ ও হাত-পা বেঁধে রাখা হয়। এ সময় মোয়াজ্জেম ও অজ্ঞাতপরিচয় আরেক ব্যক্তি পাহারা দিয়ে সহযোগিতা করেন এবং নূর হোসাইন নূর মোবাইল ফোনে তাঁর আপত্তিকর ভিডিও ধারণ করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

মামলায় আরও অভিযোগ করা হয়, ঘটনার বিষয়ে কাউকে জানালে ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। পরে ২৪ আগস্ট রাত ১টার দিকে কিশোরকে ওই স্থান থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

ভুক্তভোগী কিশোরের অভিযোগ, পরবর্তী সময়ে ধারণ করা ভিডিও ব্যবহার করে তাঁকে ব্ল্যাকমেইল করা হতো। কখনো টাকা দাবি করা হতো, আবার কখনো অভিযুক্তদের ডাকে সাড়া দিতে বাধ্য করা হতো। অন্য কিশোরদের বিষয়ে তথ্য চাওয়ার অভিযোগও করেন তিনি।

কিশোরটি জানায়, সামাজিক মর্যাদা ক্ষুণ্ন হওয়ার আশঙ্কায় প্রথমে কাউকে বিষয়টি জানায়নি। তবে দিনের পর দিন ব্ল্যাকমেইলের শিকার হওয়ায় শেষ পর্যন্ত আইনের আশ্রয় নেয় সে।

হালিশহর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জয়নাল আবেদীন মন্ডল বলেন, কে-ব্লক এলাকা থেকে বিশেষ অভিযান চালিয়ে অপহরণপূর্বক ধর্ষণ ও পর্নোগ্রাফি মামলার আসামি মোয়াজ্জেমকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তিনি মামলার এজাহারভুক্ত দ্বিতীয় আসামি। প্রধান আসামি নূর হোসাইন নূরকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *