হাসনাবাদ ব্রিজের পাশে রাজউকের নিয়ম ভেঙে অবৈধ বহুতল নির্মাণের অভিযোগ

স্টাফ রিপোর্টার:

রাজধানীর হাসনাবাদ ব্রিজ সংলগ্ন এলাকায় রাজউক-এর নির্ধারিত নিয়মনীতি উপেক্ষা করে একটি বহুতল ভবন নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ছাড়াই এবং নির্মাণ বিধিমালা লঙ্ঘন করে ভবনটি দ্রুতগতিতে নির্মাণ করা হচ্ছে, যা এলাকাবাসীর মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, ভবনটির মালিক সিরাজুল ইসলাম দীপ্তি (পিতা: হোসেন) দীর্ঘদিন ধরে প্রভাব খাটিয়ে নির্মাণকাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। স্থানীয় বাসিন্দাদের একাধিক সূত্র জানায়, ভবনটির নকশা অনুমোদন, সীমানা নির্ধারণ এবং উচ্চতা সংক্রান্ত কোনো নিয়মই যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়নি। এমনকি ভবনটির ভিত্তি নির্মাণেও মানসম্মত প্রকৌশল নির্দেশনা মানা হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, ভবনটি অত্যন্ত ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় নির্মাণ করা হচ্ছে, যেখানে অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা, পর্যাপ্ত সড়ক সুবিধা কিংবা জরুরি সেবা পৌঁছানোর পথ যথেষ্ট নেই। ফলে ভবিষ্যতে কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে তা মারাত্মক রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা। এছাড়া ভবনটির পার্শ্ববর্তী বাড়িগুলোর উপরও ঝুঁকি তৈরি হয়েছে, কারণ নির্মাণকাজে সঠিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি।

স্থানীয় একাধিক বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, তারা বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করলেও এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তাদের অভিযোগ, কিছু অসাধু কর্মকর্তা ও প্রভাবশালী মহলের যোগসাজশে এ ধরনের অবৈধ নির্মাণকাজ নির্বিঘ্নে চলতে পারছে।

এ বিষয়ে রাজউক-এর দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানায়, অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।

নগর পরিকল্পনাবিদরা বলছেন, রাজধানীতে নিয়মবহির্ভূত ভবন নির্মাণের প্রবণতা দিন দিন বাড়ছে, যা নগর ব্যবস্থাপনার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। তারা মনে করেন, এ ধরনের অনিয়ম বন্ধে কঠোর নজরদারি ও আইন প্রয়োগ নিশ্চিত করা জরুরি।

এলাকাবাসীর দাবি, অবিলম্বে এই অবৈধ নির্মাণকাজ বন্ধ করে যথাযথ তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক। অন্যথায় ভবিষ্যতে বড় ধরনের দুর্ঘটনা বা প্রাণহানির আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *