১৯১৭ সালের ঝুঁকিপূর্ণ ও জরাজীর্ণ সাতকানিয়া থানা পরিদর্শন করলেন চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার

আবদুল আজিজ:

দক্ষিণ চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী সাতকানিয়া থানা আকস্মিক পরিদর্শন করেছেন চট্টগ্রাম জেলার পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম, বিপিএম। দীর্ঘদিন ধরে ঝুঁকিপূর্ণ ও জরাজীর্ণ অবস্থায় থাকা শতবর্ষী এই থানার সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন তিনি।

গত শনিবার (৬ জুন) রাত আনুমানিক ১০টার দিকে পুলিশ সুপার সাতকানিয়া থানায় পৌঁছান। পরিদর্শনকালে তিনি থানায় কর্মরত সকল কর্মকর্তা ও সদস্যদের রোলকল গ্রহণ করেন এবং তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।

থানা সূত্রে জানা যায়, পরিদর্শনের সময় পুলিশ সুপার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ, জনসেবা বৃদ্ধি এবং পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালনের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা প্রদান করেন। তিনি পুলিশ সদস্যদের সততা, নিষ্ঠা ও জনবান্ধব আচরণের মাধ্যমে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিএসবি)-এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জুনায়েত কাউছার, সাতকানিয়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আরিফুল ইসলাম সিদ্দিকী, সাতকানিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি)সহ থানার অন্যান্য কর্মকর্তা ও পুলিশ সদস্যরা।

সংশ্লিষ্টদের মতে, পুলিশ সুপারের এই আকস্মিক পরিদর্শন এবং দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য থানায় কর্মরত সদস্যদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা ও কর্মস্পৃহা সৃষ্টি করবে।

পরিদর্শন শেষে রাত সাড়ে ১১টার দিকে পুলিশ সুপার সাতকানিয়া থানা প্রাঙ্গণ ত্যাগ করেন।

এদিকে পরিদর্শন শেষে দৈনিক স্বাধীন সংবাদ-এর প্রতিনিধি সাতকানিয়া থানার জরাজীর্ণ ভবন, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সংকুচিত কর্মপরিবেশ এবং ভাঙাচোরা আসবাবপত্র ব্যবহার করে দায়িত্ব পালনের বিষয়ে জানতে চাইলে পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম বলেন, “আমি ঘুরে অনেক কিছু দেখলাম। বিষয়গুলো সম্পর্কে অবগত হয়েছি। ধীরগতিতে হলেও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

উল্লেখ্য, ১৯১৭ সালে প্রতিষ্ঠিত সাতকানিয়া থানা ভবনটি বর্তমানে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ ও জরাজীর্ণ অবস্থায় রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে ভবনের সংস্কার কিংবা আধুনিকায়নের দাবি জানিয়ে আসছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সদস্যরা। থানার বিভিন্ন কক্ষ সংকীর্ণ, আসবাবপত্র নষ্ট এবং অবকাঠামোগত নানা সমস্যার মধ্যেও পুলিশ সদস্যরা দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন।

স্থানীয়দের প্রত্যাশা, জেলা পুলিশ সুপারের পরিদর্শনের পর শতবর্ষী এই থানার অবকাঠামোগত উন্নয়নে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য একটি নিরাপদ ও আধুনিক কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *