৭৫ হাজার টাকার শাড়ি নিয়ে ফের আইনি জটিলতায় তানজিন তিশা

বিনোদন ডেস্ক:

অভিনেত্রী তানজিন তিশাকে ঘিরে শাড়ি নিয়ে বিতর্ক আবারও আদালত পর্যন্ত গড়িয়েছে। ৭৫ হাজার টাকা মূল্যের একটি শাড়ি ফেরত না দেওয়ার অভিযোগে করা মামলায় অধিকতর তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। এর এক দিন পরই আগের মামলাটি তুলে নিতে হুমকি দেওয়ার অভিযোগে তার বিরুদ্ধে আরও একটি মামলা করেছেন ফ্যাশন ডিজাইনার আয়েশাহ আনুম ফায়যাহ সানায়া চৌধুরী।

সানায়া চৌধুরীর অভিযোগ, ২০২৪ সালের ১৩ ডিসেম্বর একটি অনুষ্ঠানে পরার জন্য তানজিন তিশা তার কাছ থেকে ৭৫ হাজার টাকা মূল্যের একটি শাড়ি নিয়েছিলেন। অনুষ্ঠান শেষে পরদিন শাড়িটি ফেরত দেওয়ার কথা থাকলেও তা ফেরত দেওয়া হয়নি বলে দাবি করেন তিনি।

শাড়িটি ফেরত চাওয়াকে কেন্দ্র করে তানজিন তিশার বিরুদ্ধে গালাগাল ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগও করেন সানায়া। এ ঘটনায় ২০২৫ সালের ২৭ নভেম্বর আদালতে মামলা করেন তিনি। মামলাটির তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয় পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই)।

তদন্ত শেষে গত ২৫ মে আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেয় পিবিআই। প্রতিবেদনে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি উল্লেখ করে তানজিন তিশাকে অব্যাহতি দেওয়ার সুপারিশ করা হয়। তবে তদন্ত প্রতিবেদনে সন্তুষ্ট না হয়ে এর বিরুদ্ধে আদালতে নারাজি আবেদন করেন বাদীপক্ষ।

গত ২৫ অক্টোবর বাদীপক্ষের আবেদন গ্রহণ করেন আদালত। একই সঙ্গে মামলাটির অধিকতর তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয় পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগকে (সিআইডি)। আগামী ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

এদিকে, আগের মামলার তদন্তে নতুন মোড় আসার এক দিনের মাথায়, গত ২৬ অক্টোবর তানজিন তিশার বিরুদ্ধে আরও একটি মামলা করেন সানায়া চৌধুরী। এবার তার অভিযোগ, আগের মামলাটি প্রত্যাহার করে নিতে তাকে হুমকি দেওয়া হয়েছে। মামলার অভিযোগে তিনি দাবি করেন, অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের মাধ্যমেও তাকে ভয় দেখানো হয়েছে। মামলা তুলে না নিলে বাংলাদেশে থাকতে দেওয়া হবে না বলেও হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

আদালত বাদীর জবানবন্দি রেকর্ড করে মামলাটি গ্রহণ করেছেন। পাশাপাশি আগামী ২৩ নভেম্বর তানজিন তিশাকে আদালতে হাজির হয়ে অভিযোগের বিষয়ে কারণ দর্শানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

তবে শাড়ি ফেরত না দেওয়া এবং মামলা প্রত্যাহারে হুমকি দেওয়ার অভিযোগগুলো এখনো বিচারাধীন। এসব অভিযোগের বিষয়ে আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসেনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *