সাগর চৌধুরী ভোলা:
২৪ নভেম্বর ২০২৫ জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে এক মানববন্ধনে পেনশন বঞ্চিত হাজারো পরিবার তাদের বর্তমান দুর্দশার কথা তুলে ধরে বলেন, দীর্ঘ ৩৮ থেকে ৪০ বছর ধরে দেশের সামরিক অবকাঠামো ও প্রতিরক্ষার মেরুদণ্ড গড়ে তোলা সামরিক প্রকৌশল সেবা (MES)-এর অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা তাদের ন্যায্য পেনশন ও অবসরকালীন সুবিধার দাবিতে আজ রৌদ্রতাপে দাঁড়িয়ে এক তীব্র প্রতিবাদ সমাবেশ করেছেন। বক্তারা সরাসরি অভিযোগ করেছেন, কেবলমাত্র কর্তৃপক্ষের সীমাহীন দায়িত্বহীনতা ও গাফিলতির কারণে প্রায় ১২০৪ পরিবার আজ চরম আর্থিক বঞ্চনা ও মানবিক সংকটের শিকার।
আজকের প্রতিবাদ সমাবেশ থেকে অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা জানান, তাঁরা জীবনের শ্রেষ্ঠ সময়টুকু দেশসেবায় নিয়োজিত করেছেন। কিন্তু বার্ধক্যে এসে, যখন চিকিৎসা-ওষুধের জন্য নিয়মিত অর্থের প্রয়োজন, তখন তাঁরা জানতে পারেন যে দীর্ঘ সেবার বিনিময়ে তাঁদের জন্য কোনো অবসরকালীন সুবিধা বা পেনশন বরাদ্দ নেই।
প্রবীণ এক কর্মচারী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “এটি কেবল আর্থিক বঞ্চনা নয়, এটি আমাদের দীর্ঘদিনের সামরিক সেবার সম্মান ও ত্যাগের ওপর এক চরম আঘাত। আমরা ভিক্ষা চাই না, আমাদের ন্যায্য অধিকার ও সম্মান ফিরে পেতে চাই।”
বক্তাদের অভিযোগের মূল কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন MES-এর প্রধান, ইঞ্জিনিয়ার-ইন-চিফ (E-in-C) মহোদয়। প্রতিবাদ মঞ্চ থেকে স্পষ্ট দাবি করা হয়, ২৮ মার্চ ১৯৬৯ সালের সরকারি নির্দেশনায় সুস্পষ্টভাবে বলা ছিল যে ওয়াকচার্জড কর্মীদের পাঁচ বছর এবং কন্টিনজেন্ট কর্মীদের দশ বছর চাকরি পূর্ণ হলে তাঁদের চাকরি অবশ্যই অর্থ বিভাগের সাথে পরামর্শ করে স্থায়ী করতে হবে।
কিন্তু E-in-C এই গুরুত্বপূর্ণ কাজটি সম্পন্ন করেননি। বক্তারা তাঁর এই চরম ও নগ্ন অবহেলাকে ‘কর্তৃপক্ষের বিশ্বাসঘাতকতা’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তাঁদের দাবি, তাঁর ব্যবস্থাপনার ত্রুটির দরুনই ১২০৪ পরিবার পেনশন নামক মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়েছেন।
সুস্পষ্ট প্রমাণের বিষয়ে
প্রতিবাদকারীরা তথ্য দিয়ে জানান, তাঁদের নিয়োগ একই বিধি মোতাবেক হলেও তাঁদের পূর্ববর্তী ২,৩২৩ জন সহকর্মী বর্তমানে পেনশন পাচ্ছেন। সেক্ষেত্রে ১২০৪ জনের ক্ষেত্রে যে বৈষম্য, সেটার কোনো ভিত্তি নেই।
তাঁরা উল্লেখ করেন, সরকারি আইন অনুযায়ী ২৩ জানুয়ারি ১৯৮৬ সালের পূর্বের নিয়োগপ্রাপ্ত হওয়ায় তাঁদের মধ্যে ১,২০৪ জন কর্মীকে নিয়মিত বা স্থায়ী করার সুস্পষ্ট নিয়ম রয়েছে। অথচ কর্তৃপক্ষ সেই আইনি বিধানও বাস্তবায়ন করছে না।
সবশেষে, সমাবেশের সমাপ্তিতে বক্তারা মাননীয় প্রধান উপদেষ্টার প্রতি বিনীত নয়, বরং দৃঢ় আবেদন জানান। তারা বলেন, এই জটিলতাটি একটি প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত, যা কেবল তাঁর সর্বোচ্চ সদিচ্ছা এবং একটি মাত্র সইয়ের মাধ্যমে দ্রুত নিরসন হতে পারে।
বক্তারা বলেন, “আমরা জানি সরকার জনগণের জন্য কাজ করে। আপনার একটি মানবিক সিদ্ধান্ত আমাদের হাজার হাজার পরিবারকে বাঁচিয়ে দেবে এবং দেশের প্রতি আমাদের ত্যাগের সম্মান রক্ষা করবে।”