নাগরপুর উপজেলা ভূমি অফিসে অধস্তন কর্মচারীর দৌরাত্ম্য, সাধারণ জনগণ জিম্মি এক সিন্ডিকেটের কাছে

টাঙ্গাইল প্রতিনিধি:

টাঙ্গাইল জেলার সর্বদক্ষিণে নাগরপুর উপজেলা। ভৌগোলিক কারণে এ জনপদ বরাবরই অবহেলিত। সহজ-সরল মানুষ, যাদের জীবনের ইতিহাস জমিদারের শোষণ থেকে শুরু করে আধুনিক প্রশাসনিক নিপীড়নে দগ্ধ। একদিন জমিদারের রক্তচক্ষুতে সাধারণ মানুষ ভীতসন্ত্রস্ত ছিল, আজ সেই ভীতি ঘনীভূত হচ্ছে উপজেলা ভূমি অফিসের স্থানীয় অধস্তন কর্মচারীর হাতে। সে হলেন—নাজির সজীব।

জনগণের অভিযোগ, এই সজীব তৈরি করেছে এক ভয়ঙ্কর সিন্ডিকেট; যাদের কাছে সেবা নয়, বরং ভোগান্তি এখন নিয়মিত চিত্র।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বালু ব্যবসায়ী বলেন—
রাতের আঁধারে বালু খেকোদের কাছ থেকে টাকা নিয়ে অবৈধ বালু কাটার মৌখিক অনুমতি দেওয়া। স্থানীয় প্রশাসন মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করতে বের হলে আগে থেকেই খুদেবার্তায় খবর পাঠিয়ে দেওয়া; ফলে অপরাধীদের ধরা যায় না।

মাটিকাটার যন্ত্রপাতির ব্যাটারি খুলে এনে বিক্রি করা। জনবান্ধব স্টাফদের চরিত্রহননের হুমকি।
খারিজের ফাইলকে কেন্দ্র করে দালালি, তদবির ব্যবসা চালানো। বিধিমোতাবেক খারিজ না হলে দালালদের উসকে দিয়ে ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট মিথ্যা হয়রানিমূলক অভিযোগ করানো।

রাজনৈতিক পরিচয়ের মুখোশ পাল্টে নেওয়া—স্বৈরাচার আমলে কখনো ছাত্রলীগ, বর্তমানে বিএনপির আত্মীয় পরিচয় দিয়ে মানুষকে বিভ্রান্ত করা। বাজার থেকে প্রশাসনের নাম ভাঙিয়ে নিয়মিত চাঁদা তোলা। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা একবার নাজির সজীব ও রকিবুলকে বেঁধে মারপিটও করেছে; পরে প্রশাসন তাদের উদ্ধার করে।

নাম: মো. সজীব পারভেজ / পিতা: মো. নুরুল ইসলাম / মাতা: মিসেস রহিমে বেগম / গ্রাম: বেকড়া / পোস্ট: বেকড়া / থানা: নাগরপুর / জেলা: টাঙ্গাইল। প্রথম স্ত্রী: মিসেস কান্তা আক্তার / প্রথম স্ত্রীর বাবার নাম: মিয়া চান / গ্রাম: কালিহাতী।
দ্বিতীয় স্ত্রী: মিসেস সাবিনা আক্তার / দ্বিতীয় স্ত্রীর বাবার নাম: মৃত মো. সোনা মিয়া / গ্রাম: বেকড়া।

প্রায় ছয় বছর ধরে একই উপজেলায়। বিয়ের চুক্তিতে শ্বশুরবাড়ির সহযোগিতায় ঘুষ দিয়ে চাকরি পান স্বৈরাচার সরকারের আমলে। নিজে পরকীয়ায় জড়ালে স্ত্রীর অভিযোগের জেরে স্ত্রীকে মারপিট করায় বিচ্ছেদ হয়। কোর্টের রায়ে দেনমোহরের ২০ লাখ টাকা মাসিক ২৪ হাজার টাকা কিস্তিতে পরিশোধ করছেন। পরে আবার নতুন বিয়ে; স্ত্রী নার্সিং কলেজে পড়ছেন। শহরে ১০ হাজার টাকা বাসা ভাড়া, মাসিক টিউশন ফি ৮ হাজার টাকা—সব মিলিয়ে ৬০–৭০ হাজার টাকার ব্যয়।

গ্রামের বাড়িতে তিন তলা ফাউন্ডেশন, দোতলা কমপ্লিট—প্রায় কোটি টাকা খরচ; অথচ বেতন মাত্র ২৪ হাজার টাকা। সজীবের সাথে ফোনে কথা বললে সাংবাদিককে প্রাণনাশের হুমকি এবং মামলা দেওয়ার ভয় দেখায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *