৯৫% বর্জ্য পুড়িয়ে ৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনসহ বছরে ১,০০০ কোটি টাকা সাশ্রয়ের সম্ভাবনা : প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা

দেশের বিভিন্ন শহরের ময়লার ভাগাড় থেকে কমপক্ষে ৪০০-৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব। এতে বছরে প্রায় ১,০০০ কোটি টাকারও বেশি সাশ্রয় হবে। পাশাপাশি সময়োপযোগী পরিকল্পনা বাস্তবায়নের মাধ্যমে অর্থের অপচয় রোধ হবে এবং শহর হবে পরিচ্ছন্ন। অথচ কিছু অসাধু কর্মকর্তার পকেট ভারী করতে আটকে রাখা হয়েছে এমন মেগাপ্রকল্প।

চীনের মতো দেশে ময়লা পুড়িয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদনের ৪০০টিরও বেশি প্ল্যান্ট চালু রয়েছে। তাদের দেশে এখন ময়লার এতই অভাব যে বিদ্যুৎকেন্দ্র চালাতে বিদেশ থেকে বর্জ্য আমদানি করতে হয়। তাহলে আমাদের দেশ কেন বর্জ্য (ময়লার স্তূপ) থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে পারবে না? চেষ্টা করলে আমাদের দেশেও তা সম্ভব বলে মনে করেন সচেতন মহল।

ঢাকা, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন বিভাগের ডাস্টবিন ও রাস্তায় ময়লার স্তূপ এবং দুর্গন্ধ সহ্য করতে হচ্ছে নাগরিকদের। অথচ এই ময়লা ব্যবহার করেই কমপক্ষে ৪০০-৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব। ফলে কয়লা বা এলএনজি আমদানির চাপ কমবে এবং বছরে দেশের হাজার কোটি টাকা সাশ্রয় হবে। সম্প্রতি একটি চীনা প্রতিষ্ঠান চট্টগ্রামে বর্জ্য থেকে ৪০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রস্তাবও দিয়েছে।

তাহলে এত বছর ধরে ময়লা থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে না কেন— এমন প্রশ্ন করছেন দেশের সচেতন মহল।

প্রতি বছর ময়লার ভাগাড় বা ল্যান্ডফিল এবং জমি অধিগ্রহণের নামে শত শত কোটি টাকার বাজেট পাস হয়, যা লুটপাটের অভিযোগ রয়েছে। ময়লা পুড়িয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হলে ল্যান্ডফিলের প্রয়োজন অনেকাংশে ফুরিয়ে যাবে, কারণ প্রায় ৯৫% বর্জ্যই পুড়ে যাবে। ল্যান্ডফিল না থাকলে অসাধু কর্মকর্তাদের অবৈধ আয়ের পথও চিরতরে বন্ধ হয়ে যাবে।

তাই তারা বছরের পর বছর পরিবেশ ছাড়পত্র না দেওয়া, “ময়লায় পানি বেশি”— এমন নানা অজুহাত দেখিয়ে ঢাকার আমিনবাজারসহ অন্যান্য বর্জ্য-ভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্প আটকে রাখছে।

আমরা কেন ময়লার স্তূপে বসে থেকে বিদেশ থেকে চড়া দামে জ্বালানি কিনব? সময়োপযোগী পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা গেলে অর্থের অপচয় রোধ হবে, শহর হবে পরিচ্ছন্ন এবং দেশের বিদ্যুৎ ঘাটতিও অনেকাংশে কমে যাবে।

এই ল্যান্ডফিল সিন্ডিকেট ভাঙতে বর্জ্য-ভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্পগুলোকে সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অধীনে নিয়ে একটি উচ্চ পর্যায়ের টাস্কফোর্স গঠন করা এখন সময়ের দাবি। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা গেলে দেশের বর্জ্যই হয়ে উঠতে পারে দেশের মূল্যবান সম্পদ।

এস এম জহিরুল ইসলাম
বিদ্যুৎ সাংবাদিক, মানবাধিকার কর্মী ও কলামিস্ট।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *