মোঃ সাইদুল ইসলাম:
সাভারের আশুলিয়ায় অপরাধ, চাঁদাবাজি, ঘুষ বাণিজ্য, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ও বিভিন্ন ধরনের হয়রানির বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে আশুলিয়া ঐক্য সেন্ট্রাল প্রেসক্লাব। ভুক্তভোগী ও অসহায় মানুষের অভিযোগ তুলে ধরা, অনিয়ম ও দুর্নীতির তথ্য অনুসন্ধান এবং গণমাধ্যমের শক্তিকে কাজে লাগিয়ে অপরাধীদের মুখোশ উন্মোচনে ধারাবাহিকভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
সম্প্রতি এক জরুরি সভায় আশুলিয়া ঐক্য সেন্ট্রাল প্রেসক্লাবের নেতৃবৃন্দ বলেন, সাংবাদিকরা সমাজের দর্পণ। সমাজে কোথাও অন্যায়, অনিয়ম, দুর্নীতি কিংবা মানুষের ওপর জুলুম হলে তা গণমাধ্যমে তুলে ধরা সাংবাদিকদের অন্যতম দায়িত্ব। সেই দায়িত্ববোধ থেকেই আশুলিয়ার সাধারণ মানুষের পাশে থেকে কাজ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সংগঠনটি।
সভায় আশুলিয়া এলাকার বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে আলোচনা করা হয়। এর মধ্যে বিশেষভাবে উঠে আসে সন্ত্রাসী চক্রের চাঁদাবাজি, বিভিন্ন সেবা খাতে ঘুষ বাণিজ্য, সাধারণ মানুষের নিরাপত্তাহীনতা এবং মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানির অভিযোগ। এসব সমস্যা নিরসনে প্রশাসনের পাশাপাশি গণমাধ্যমকেও কার্যকর ভূমিকা রাখার আহ্বান জানানো হয়।

সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ভুক্তভোগীদের সহায়তার জন্য একটি সহায়তা কেন্দ্র ও আইনি-সাংবাদিকতা সহায়তা সেল গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কোনো নাগরিক অপরাধ, চাঁদাবাজি, ঘুষ, হয়রানি কিংবা অন্যায়-অবিচারের শিকার হলে তার অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে যাচাই করে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেওয়ার চেষ্টা করা হবে।
এ ছাড়া আশুলিয়ার বিভিন্ন এলাকায় অপরাধী চক্র, দুর্নীতি ও অনিয়মের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সংগঠনের সংবাদকর্মীরা মাঠপর্যায়ে তথ্য সংগ্রহ করে অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ের মাধ্যমে বিষয়গুলো গণমাধ্যমে তুলে ধরবেন বলে সভায় জানানো হয়।
প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও সভায় আলোচনা হয়। সংগঠনের নেতৃবৃন্দ বলেন, কোনো কর্মকর্তা বা দায়িত্বশীল ব্যক্তির বিরুদ্ধে দুর্নীতি কিংবা অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেলে তা যথাযথভাবে যাচাই করে সংবাদ প্রকাশের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হবে। একই সঙ্গে প্রকৃত অপরাধীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণে প্রশাসনকে কার্যকর ভূমিকা পালনের আহ্বান জানানো হবে।
নির্যাতিত ও অসহায় মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ভুক্তভোগী কোনো নাগরিক আইনি জটিলতায় পড়লে সংগঠনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সহযোগিতা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে। তবে অভিযোগের ক্ষেত্রে তথ্য-প্রমাণ যাচাই এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়ার কথাও জানানো হয়েছে।
আশুলিয়া ঐক্য সেন্ট্রাল প্রেসক্লাবের সভাপতি হাজী দেওয়ান মোহাম্মদ জিল্লুর রহমান এবং সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ মোফাজ্জল হোসেন (রাজু) বলেন, সাংবাদিকরা সমাজের দর্পণ। সাধারণ মানুষের অধিকার ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় গণমাধ্যমের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। আশুলিয়া ঐক্য সেন্ট্রাল প্রেসক্লাব কোনো অন্যায়কারীর কাছে মাথা নত করবে না। সাধারণ মানুষের অধিকার আদায় এবং আশুলিয়াকে অপরাধমুক্ত করার লক্ষ্যে সংগঠনের সংবাদকর্মীরা নিয়মিত মাঠে কাজ করবেন।
তারা আরও বলেন, কোনো নিরীহ মানুষ যেন অন্যায়ভাবে হয়রানির শিকার না হন এবং অপরাধী বা দুর্নীতিবাজদের কারণে সাধারণ মানুষ যেন জিম্মি হয়ে না পড়েন, সে বিষয়ে সংগঠনটি সচেতন থাকবে। একই সঙ্গে মিথ্যা অভিযোগ বা বিভ্রান্তিকর তথ্যের পরিবর্তে সঠিক তথ্য ও প্রমাণের ভিত্তিতে সংবাদ প্রকাশের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে।
প্রেসক্লাবের নেতৃবৃন্দ আশুলিয়ার যেকোনো ভুক্তভোগী নাগরিককে নির্ভয়ে সংগঠনের সঙ্গে যোগাযোগ করে তথ্য ও সহযোগিতা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তাদের মতে, সম্মিলিতভাবে সচেতনতা তৈরি এবং প্রশাসন, গণমাধ্যম ও সাধারণ মানুষের সমন্বিত প্রচেষ্টার মাধ্যমেই আশুলিয়ায় অপরাধ, চাঁদাবাজি, ঘুষ বাণিজ্য ও হয়রানি প্রতিরোধ করা সম্ভব।
আশুলিয়া ঐক্য সেন্ট্রাল প্রেসক্লাবের নেতৃবৃন্দ
সংগঠনের সভাপতি হাজী দেওয়ান মোহাম্মদ জিল্লুর রহমান, সিনিয়র সহসভাপতি কেএম মোহাম্মদ হোসেন রিজভী, সহসভাপতি মোঃ ইসমত মোল্লা ও জিএম নজরুল ইসলাম।
সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ মোফাজ্জল হোসেন (রাজু), যুগ্ম সম্পাদক মোঃ হাবিবুর রহমান (ভূঁইয়া) ও মোহাম্মদ নাসিম খান।
সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ শিহাব উদ্দিন সরকার, মোহাম্মদ মাসুদ রানা ও মোঃ সাইদুল ইসলাম। অর্থ সম্পাদক মোহাম্মদ শেখ ফরিদ, দপ্তর সম্পাদক দেওয়ান মোহাম্মদ সাবির, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক মোঃ মাজেদুল ইসলাম, সমাজকল্যাণ সম্পাদক মোঃ তরিকুল ইসলাম তারেক, আইনবিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট সাগর আহমেদ, তথ্য ও প্রযুক্তি সম্পাদক মোঃ আবু হানিফ, মহিলা বিষয়ক সম্পাদক মোসাম্মৎ কাকুলি আক্তার, সাংস্কৃতিক সম্পাদক মোঃ আল-আমিন ভূঁইয়া।
এ ছাড়া নির্বাহী সদস্য হিসেবে রয়েছেন মোঃ আলমগীর হোসেন নিরব, মোঃ শাহাদাত হোসেন আরিফ এবং মোঃ মোশারফ হোসেন।
সংগঠনের নেতৃবৃন্দ জানান, আশুলিয়ার সাধারণ মানুষের স্বার্থে আগামী দিনগুলোতে আরও সক্রিয়ভাবে মাঠে কাজ করা হবে। অপরাধ, দুর্নীতি ও অনিয়মের বিরুদ্ধে জনসচেতনতা তৈরি এবং ভুক্তভোগীদের কথা গণমাধ্যমে তুলে ধরাই হবে সংগঠনের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।