বিশ্বকাপে সরাসরি খেলা নিয়ে অনিশ্চয়তায় বাংলাদেশ, সামনে বড় চ্যালেঞ্জ

শেষ দুই বছর ধরে ওয়ানডে ফরম্যাটে বাংলাদেশের পারফরম্যান্স যেন ভুলে যাওয়া অধ্যায়। জয়ের দেখা মিলছে খুবই কম। ধারাবাহিক হারের কারণে আইসিসি ওয়ানডে র‍্যাঙ্কিংয়ে পিছিয়ে পড়েছে টাইগাররা। এমন পরিস্থিতি অনেকটা মনে করিয়ে দিচ্ছে চলতি শতাব্দীর শুরুর দিকের দুর্বল সময়গুলোর কথা—যখন জয়ের চেয়ে হারই ছিল বাংলাদেশের ওয়ানডে ক্রিকেটের নিয়মিত চিত্র।

এই খারাপ ফর্মের সরাসরি প্রভাব পড়েছে ২০২৭ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপের যোগ্যতা অর্জনের পথে। আইসিসির নিয়ম অনুযায়ী ২০২৭ বিশ্বকাপে সরাসরি খেলবে র‍্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ আট দল। বর্তমানে বাংলাদেশের অবস্থান সেই তালিকার ১০ নম্বরে। অর্থাৎ, এখনই যদি অবস্থার উন্নতি না ঘটে, তবে বাছাইপর্বের বাধা পেরিয়ে টুর্নামেন্টে উঠতে হবে সাকিব-তামিমদের উত্তরসূরিদের।

২০২৭ সালের ৩১ মার্চ পর্যন্ত বাংলাদেশ দলের হাতে সময় রয়েছে র‍্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ আটে ওঠার জন্য। এই সময়ের মধ্যে পর্যাপ্ত পয়েন্ট সংগ্রহ করতে না পারলে বাছাইপর্বে খেলতে হবে দলকে।

বিশ্বকাপটিতে অংশ নেবে মোট ১৪টি দল। এর মধ্যে র‍্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ ৮ দল স্বয়ংক্রিয়ভাবে টিকিট পাবে মূল পর্বে। বাকি ৬ দলকে আসতে হবে বাছাইপর্ব খেলে। বর্তমানে মাত্র ৭৬ রেটিং পয়েন্ট নিয়ে ১০ নম্বরে অবস্থান করছে বাংলাদেশ, যা সরাসরি খেলার আশা ক্ষীণ করে তুলেছে।

এই অবস্থায় টাইগারদের জন্য সামনে থাকা সিরিজগুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। আফগানিস্তানের বিপক্ষে সিরিজের পর বাংলাদেশ আতিথ্য দেবে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে। এরপর ঘরের মাঠে পাকিস্তান, অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষেও সিরিজ খেলার সম্ভাবনা রয়েছে। নির্বাচিত সরকার ক্ষমতায় এলে ভারতকেও আসতে দেখা যেতে পারে বাংলাদেশ সফরে।

এই সব সিরিজে ভালো পারফরম্যান্স দেখাতে পারলেই কেবল পয়েন্ট বাড়ানোর সুযোগ পাবে দল। পাশাপাশি শ্রীলঙ্কা, আফগানিস্তান কিংবা পাকিস্তানের মতো দলগুলোর পারফরম্যান্সও খারাপ হতে হবে, যাতে বাংলাদেশ পয়েন্ট তালিকায় এগিয়ে যেতে পারে।

বিশ্লেষকদের মতে, সরাসরি বিশ্বকাপ খেলার আশা বাঁচিয়ে রাখতে হলে আগামী এক বছর বাংলাদেশ দলের জন্য হবে “করো বা মরো” সময়। কারণ বাছাইপর্বে গিয়ে টিকিট নিশ্চিত করা শুধু কঠিনই নয়, ঝুঁকিপূর্ণও।

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) এক কর্মকর্তা বলেন, “এখন থেকে প্রতিটি সিরিজই আমাদের জন্য ফাইনালের মতো। দলের পারফরম্যান্স ও পরিকল্পনা নতুনভাবে সাজাতে হবে।”

২০২৭ সালের বিশ্বকাপকে সামনে রেখে ইতোমধ্যে নতুন করে স্কোয়াড গঠনের কথাও ভাবছে বোর্ড। তরুণ ক্রিকেটারদের পারফরম্যান্স নজরে রাখা হচ্ছে ঘরোয়া ও ‘এ’ দলের ম্যাচগুলোতে। কোচিং স্টাফও জানে, এবার ভুলের সুযোগ খুবই কম।

বাংলাদেশ যদি সময়মতো ঘুরে দাঁড়াতে পারে, তবে সরাসরি বিশ্বকাপ খেলার সুযোগ থাকবে। না হলে ২০২৩ সালের মতো কঠিন বাছাইপর্বের চ্যালেঞ্জই হতে পারে টাইগারদের জন্য আরেকটি কঠিন বাস্তবতা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *