গ্রাম আদালতে ন্যায়বিচার পৌঁছাক প্রতিটি দোরগোড়ায়, বরুড়ায় সমন্বিত কর্মশালা অনুষ্ঠিত

মোঃআনজার শাহ

ন্যায়বিচার যদি সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় না পৌঁছায়, তাহলে আইনের শাসন অর্থহীন হয়ে পড়ে। গ্রামের দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষ যেন সহজে, দ্রুত এবং কম খরচে ন্যায়বিচার পান সেই লক্ষ্যকে সামনে রেখে কুমিল্লার বরুড়া উপজেলায় অনুষ্ঠিত হলো গ্রাম আদালত বিষয়ক এক গুরুত্বপূর্ণ কর্মশালা।

মঙ্গলবার (৯ জুন) সকাল সাড়ে নয়টায় বরুড়া উপজেলা হলরুমে “গ্রাম আদালত সম্পর্কে ব্যাপক জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে স্থানীয় সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানসমূহের অংশগ্রহণে সমন্বিত পরিকল্পনা প্রণয়ন” শীর্ষক এই কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। প্রশাসনের দায়িত্বশীল কর্মকর্তা, বিভিন্ন এনজিওর প্রতিনিধি এবং স্থানীয় সাংবাদিকদের সক্রিয় অংশগ্রহণে কর্মশালাটি প্রাণবন্ত ও ফলপ্রসূ হয়ে ওঠে।

কর্মশালার উদ্দেশ্য ও গুরুত্ব,

গ্রাম আদালত বাংলাদেশের বিচারব্যবস্থার একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যমে পরিচালিত এই আদালত গ্রামের সাধারণ মানুষের ছোট ছোট বিরোধ দ্রুত ও স্বল্প ব্যয়ে নিষ্পত্তি করতে সক্ষম। কিন্তু সচেতনতার অভাবে অনেক মানুষ এই সুবিধা থেকে বঞ্চিত থাকছেন। এই সংকট নিরসনে সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে একই ছাদের নিচে এনে সমন্বিত পরিকল্পনা তৈরির লক্ষ্যেই এই কর্মশালার আয়োজন করা হয়।

সভাপতির বক্তব্য,

কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন বরুড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আসাদুর রহমান রনি। তিনি বলেন, গ্রাম আদালত শুধু একটি বিচারিক প্রতিষ্ঠান নয়,  এটি সাধারণ মানুষের অধিকার রক্ষার একটি শক্তিশালী হাতিয়ার। তৃণমূল পর্যায়ে এই আদালত সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানো গেলে বিরোধ নিষ্পত্তিতে উচ্চ আদালতের ওপর অযথা চাপ কমবে এবং সাধারণ মানুষের মূল্যবান সময় ও অর্থ বাঁচবে। তিনি সরকারি ও বেসরকারি সকল প্রতিষ্ঠানকে এই লক্ষ্যে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান।

কর্মশালায় উপস্থিত বিশিষ্টজনদের বক্তব্য,

কর্মশালায় উপস্থিত ছিলেন সহকারী কমিশনার আহসান হাফিজ। তিনি বলেন, গ্রাম আদালতকে কার্যকর করতে হলে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও সদস্যদের যথাযথ প্রশিক্ষণ এবং জনগণের মধ্যে ব্যাপক সচেতনতা সৃষ্টি করা অপরিহার্য।

সমাজসেবা কর্মকর্তা রনি বলেন, সমাজের সুবিধাবঞ্চিত ও দরিদ্র জনগোষ্ঠী গ্রাম আদালতের মাধ্যমে সবচেয়ে বেশি উপকৃত হতে পারেন। তাদের কাছে এই সেবার তথ্য পৌঁছে দেওয়াই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

বাঁচার ঠিকানা উন্নয়ন সংস্থার নির্বাহী পরিচালক স্বপন মজুমদার বলেন, এনজিওগুলো মাঠ পর্যায়ে কাজ করার কারণে সাধারণ মানুষের কাছে সহজেই পৌঁছাতে পারে। গ্রাম আদালত বিষয়ক সচেতনতামূলক কার্যক্রমে এনজিওগুলো সরকারের পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

দিয়ার নির্বাহী আবুল কাসেম বলেন, গ্রামের মানুষ প্রায়ই জমিজমা, পারিবারিক বিরোধ ও ছোটখাটো সংঘাতের জন্য থানা ও আদালতে ছোটেন। গ্রাম আদালত সম্পর্কে সচেতন হলে তারা ঘরের কাছেই সমাধান পেতেন।

সমন্বিত পরিকল্পনা গ্রহণ,

কর্মশালায় আলোচনা শেষে সরকারি প্রতিষ্ঠান ও এনজিওগুলোর সমন্বয়ে একটি কার্যকর পরিকল্পনা প্রণয়ন করা হয়। পরিকল্পনায় বরুড়া উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়নে গ্রাম আদালত বিষয়ক উঠান বৈঠক, লিফলেট বিতরণ, মাইকিং এবং স্থানীয় গণমাধ্যমে সচেতনতামূলক প্রচারণা পরিচালনার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।

প্রত্যাশা,

বরুড়া উপজেলায় অনুষ্ঠিত এই কর্মশালা গ্রাম আদালতের কার্যকর বাস্তবায়নে একটি মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। অংশগ্রহণকারীরা আশা প্রকাশ করেন যে, এই কর্মশালার মাধ্যমে প্রণীত পরিকল্পনা সঠিকভাবে বাস্তবায়িত হলে বরুড়ার প্রতিটি গ্রামের সাধারণ মানুষ গ্রাম আদালতের সুবিধা সম্পর্কে সচেতন হবেন এবং ন্যায়বিচার তাদের দোরগোড়ায় পৌঁছে যাবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *