মোহাম্মদ হোসেন হ্যাপী, ব্যুরো চিফ
নারায়ণগঞ্জ জেলার ফতুল্লা এলাকায় আবারও সফল অভিযান পরিচালনা করেছে পুলিশ। এবার ৭০ (সত্তর) পিস ইয়াবাসহ এক চিহ্নিত মাদক কারবারিকে আটক করেছে ফতুল্লা মডেল থানা পুলিশ। মঙ্গলবার (২৮ অক্টোবর) দুপুর আনুমানিক ১২টা ২০ মিনিটে ফতুল্লা থানাধীন ধর্মগঞ্জ এলাকার পাকাপুল জাগরণী ক্রীড়া চক্র ক্লাব সংলগ্ন স্থানে এ অভিযান পরিচালিত হয়।
অভিযানটি পরিচালনা করেন নারায়ণগঞ্জ জেলার ‘ক’ সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. হাসিনুজ্জামান এর তত্ত্বাবধানে ফতুল্লা মডেল থানার সাব-ইন্সপেক্টর (নিঃ) ইয়াছিন আরাফাত, সঙ্গীয় ফোর্সসহ। ঘটনাস্থলে পৌঁছে পুলিশ দেখতে পায়, স্থানীয় জনতা এক মাদক ব্যবসায়ীকে ইয়াবাসহ হাতে-নাতে আটক করে রেখেছে এবং গণধোলাই দিচ্ছে। পরে পুলিশ দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে ওই ব্যক্তিকে আটক করে নিজেদের হেফাজতে নেয়।
গ্রেপ্তারকৃত মাদক কারবারির নাম মো. আব্দুল কাইয়ুম (৩২), পিতা—জমসের আলী, মাতা—সাফিয়া খাতুন, সাং—মধ্য ধর্মগঞ্জ, থানা—ফতুল্লা, জেলা—নারায়ণগঞ্জ। জিজ্ঞাসাবাদে সে স্বীকার করে যে, সে দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় ইয়াবা ট্যাবলেট বিক্রির সঙ্গে জড়িত। পুলিশ তার শরীর তল্লাশি করে ৭০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করে এবং ঘটনাস্থলেই জব্দ তালিকা প্রস্তুত করা হয়।
ফতুল্লা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জানান, “গ্রেপ্তারকৃত কাইয়ুম একজন চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী। তার বিরুদ্ধে পূর্বে ৫টি মাদক মামলা রয়েছে। সে এলাকার তরুণদের মাদকাসক্ত করতে দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় ছিল।” তিনি আরও বলেন, “আমরা মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করছি। এলাকায় কেউ মাদক ব্যবসায় জড়িত থাকলে তাকে কোনো অবস্থাতেই ছাড় দেওয়া হবে না।”
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. হাসিনুজ্জামান বলেন, “নারায়ণগঞ্জে মাদক নির্মূল অভিযান চলমান রয়েছে। সমাজ থেকে এই ভয়াবহ অভিশাপ দূর করতে পুলিশের পাশাপাশি জনসাধারণেরও সহযোগিতা প্রয়োজন। জনগণ যদি তথ্য দেয়, আমরা সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নেব।”
এ ঘটনায় গ্রেপ্তারকৃত আসামির বিরুদ্ধে ফতুল্লা মডেল থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ অনুযায়ী নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং তাকে বুধবার সকালে বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ফতুল্লা এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযান আরও জোরদার করা হবে, যাতে এই ধরনের অপরাধ পুরোপুরি নির্মূল করা যায়।
স্থানীয় জনগণ এ ধরনের অভিযানে পুলিশের ভূমিকার প্রশংসা জানিয়ে বলেন, “ফতুল্লা এলাকা এখন মাদকমুক্ত দেখতে চাই। পুলিশের এমন উদ্যোগ সত্যিই প্রশংসনীয়। আমরা চাই প্রশাসন আরও কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করুক।”