স্টাফ রিপোর্টার:
রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) মূলত ঢাকা শহর ও পার্শ্ববর্তী এলাকার উন্নয়ন ও পরিকল্পনার দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থা। কিন্তু বাস্তবে এ সংস্থাটি কিছু অনিয়ম—দুর্নীতি, হয়রানি আর ঘোষ বাণিজ্যের কেন্দ্র হিসেবে বিভিন্ন সময় আলোচিত সমালোচিত হয়েছে। এবার ধরা পড়লো আরেক অনিয়ম। মাকসুদ নামের একজন বহিরাগত দালাল (যিনি রাজউকের কর্মকর্তা বা কর্মচারী নয়) অথচ একজন চাকরিজীবী হিসেবে নিয়মিত অফিস করছেন।
সরেজমিনে ও গোপন অনুসন্ধানে জানা যায়, রাজউকের মূল ভবনের ২য় তলায় উপপরিচালক এস্টেট ভূমি ২- শাখায় তিনি চেয়ার টেবিল ও কম্পিউটার নিয়ে বসে আছেন। রাজউকের এক কর্মকর্তা ছত্রছায়ায় একজন চাকুরিজীবী হিসেবে সকল ফাইলের কাজ করছেন যাহা সম্পূর্ণ অবৈধ। মাকসুদের এই বিষয়ে অনুসন্ধানে বেরিয়ে আসে তার যত অপকর্ম। প্লট বরাদ্দ, বরাদ্দকৃত প্লটের রেজিস্ট্রেশন, এম আই এস যাচাইকরণ, আম মোক্তার নিয়োগ, হস্তান্তর, বরাদ্দকৃত প্লট জিরো হাইট দেখিয়ে ভালো লোকেশনে পূনঃবরাদ্দ করণ, স্বামী- স্ত্রীর নামে একাধিক প্লট বরাদ্দ রয়েছে এমন সকল প্লটের ডুপ্লিকেট এম আই এস রিপোর্ট তৈরি করণ থেকে হস্তান্তর অনুমোদন, বরাদ্দকৃত প্লট বন্ধকের অনুমতি প্রদান, ইমারত নির্মাণের ছাড়পত্র প্রদান, প্লটে নির্মিত ভবনের অকুপেন্সি সনদ তৈরিকরণ, ফ্ল্যাট হস্তান্তরসহ এমন কোন জালিয়াতি নেই যে এই মাকসুদ করেনা। অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, মাকসুদ উত্তরা এলাকায় ঘুরে ঘুরে বিভিন্ন পাতি দালালের কাছ থেকে জালিয়াতির কাজের তদবির নেন যে কাজ স্বাভাবিক ভাবে হওয়ার কথা নয়, এরকম কাজ। এর বিনিময়ে তিনি নথি উপস্থাপন কারী থেকে শুরু করে রাজউকের বিভিন্ন দপ্তরের জন্য একটা বাজেট হিসেব করে সাথে তার কমিশন ধরে চুক্তি নেন এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজটি সমাপ্ত করন বা অনুমোদন পত্রও দিয়ে দেন বলে জানা গেছে। এতে করে সমস্ত দুই নম্বর কাজের হিড়িক পড়ে গেছে এই মাকসুদের কাছে।
আরো জানা গেছে, এই মাকসুদ উত্তরা এস্টেট শাখার এক কর্মকর্তার ছত্রছায়ায় ঐ শাখার ভিতরে টেবিল, চেয়ার ও কম্পিউটার নিয়ে বসে সকাল সন্ধ্যা অফিস করছেন আর দালালদের কাজ ডেলিভারি দিচ্ছেন নিরলসভাবে। কারো বুঝার সাধ্য নেই, তিনি অফিসের কোন কর্মকর্তা বা কর্মচারী নয়। তিনি তার দুই নম্বর কাজের দালালির সিংহভাগ দেন তাকে সহায়তা করা ঐ কর্মকর্তাকে। কে সেই কর্মকর্তা? তার সাথে আরো কারা কারা জড়িত তা আমাদের পরবর্তী নিউজে প্রকাশিত হবে। এবং এই সিন্ডিকেটের প্রতেককে নিয়ে আলাদাভাবে ধারাবাহিক অনুসন্ধানী রিপোর্ট প্রকাশ করা হবে। তবে আজকে বহিরাগত মাকসুদকে নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করছি। এসব কাজের মাধ্যমে অনিয়ম করে শত কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে বাড়ি, গাড়ি , জমি এমনকি প্রতি দুই তিন মাস অন্তর অন্তর বিদেশ ভ্রমণ করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
এ বিষয়ে জানতে গেলে মাকসুদ বলেন, আমি রাজউকের কেউ নয়, চাকরিও করি না। এখানে কিছু কাজ করে সামান্য কিছু টাকা পাই। আরেক প্রশ্নে বলেন, আউটসোর্সিংয়ে যখন লোক নিবে তখন আমি ঢুকবো এখন লোক নিচ্ছে না। আপনি এখন অবৈধভাবে এখানে কাজ করছেন কিনা এমন প্রশ্ন বলেন, হ্যাঁ এটা অবৈধ বলে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ডিডি আসাদুজ্জান বিশ্বাস বলেন, আমার এখানে দক্ষ টাইপ করার লোক নাই তাই বাধ্য হয়ে মাকসুদকে দিয়ে কাজগুলো করে নিচ্ছি। মাকসুদ কে কোন আইনের ভিত্তিতে কাজ করাচ্ছেন এমন প্রশ্নের উত্তরে না দিয়ে ব্যস্ত আছি বলে এড়িয়ে গেছেন।