সাংবাদিকদের উপর পুলিশের হামলা: স্বাধীন গণমাধ্যমের উপর আরেক আঘাত 

সুমন খান:

গতকাল রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে পুলিশের হামলায় আহত হয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয় মানবাধিকার সমিতির মিডিয়া উইং-এর সদস্য, সাংবাদিক মারুফ সরকার। এ সময় ঘটনাস্থলে থাকা উপস্থিত সাংবাদিকদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
ঘটনাটি ঘটে গতকাল (বুধবার) দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে । প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ইবতেদায়ী শিক্ষকরা যখন শান্তিপূর্ণভাবে অবস্থান করছিলেন, তখন পুলিশ আকস্মিকভাবে লাঠিচার্জ করে। এতে কয়েকজন শিক্ষক ও সাংবাদিক আহত হন, যার মধ্যে মারুফ সরকার গুরুতরভাবে আহত হন।
মানবাধিকার সমিতির গভীর উদ্বেগ: 
ঘটনার প্রতি গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করে বিবৃতি দিয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয় মানবাধিকার সমিতির চেয়ারম্যান মো. মঞ্জুর হোসেন ঈসা। তিনি বলেন — গণমাধ্যম একটি রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ। সাংবাদিকদের উপর হামলা মানে স্বাধীন গণমাধ্যমের উপর সরাসরি আঘাত। আমরা এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাই এবং আহত সাংবাদিক মারুফ সরকারের প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করছি। অবিলম্বে দোষীদের শনাক্ত করে শাস্তির আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছি।আজ যারা কলমধারী সাংবাদিকদের উপর হামলা করছে, তারা আসলে গণতন্ত্র ও মানবাধিকারের শত্রু। এই ঘটনার মাধ্যমে সরকার সংবাদমাধ্যমের কণ্ঠরোধ করতে চাচ্ছে, যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
সাংবাদিক সমাজের প্রতিবাদ: এ ঘটনায় সাংবাদিক সমাজের বিভিন্ন সংগঠন তাৎক্ষণিক প্রতিবাদ জানায়। বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএফইউজে), ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন (ডিইউজে) এবং জাতীয় প্রেসক্লাবের নেতৃবৃন্দ পৃথক বিবৃতিতে পুলিশের এই বর্বর হামলার নিন্দা জানান এবং দোষীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি তোলেন।
মারুফ সরকারের শারীরিক অবস্থা: বর্তমানে আহত সাংবাদিক মারুফ সরকারকে চিকিৎসার জন্য একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তার হাতে ও মাথায় আঘাতের চিহ্ন রয়েছে, তবে তিনি এখন শঙ্কামুক্ত।
গণতান্ত্রিক সমাজে সাংবাদিকদের নিরাপত্তা ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা রক্ষার দাবি আজ আবারও সামনে এসেছে। মানবাধিকার সংগঠন ও নাগরিক সমাজ মনে করছে।
এই ধরনের হামলা বন্ধ না হলে দেশে মুক্ত সাংবাদিকতা ও মানবাধিকারের পরিবেশ আরো সংকুচিত হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *