স্টাফ রিপোর্টার:
মৃত্তিকা সম্পদ উন্নয়ন ইনস্টিটিউটে গবেষণা কার্যক্রম পুরোপুরি স্থবির হয়ে পড়েছে। স্থবিরতার কারণ হিসেবে মহাপরিচালক ড. বেগম সামিয়া সুলতানার বিরুদ্ধে অনিয়ম ও স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগের পাহাড় উঠেছে।
শেখ হাসিনার সঙ্গে রাজনীতি করেছি বলে বেড়াতেন মৃত্তিকা সম্পদ উন্নয়ন ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক ড. বেগম সামিয়া সুলতানা। ফ্যাসিস্টের দোসর খ্যাত এই কর্মকর্তার খুঁটির জোর নিয়েও নানা মহলে প্রশ্ন উঠেছে। ছাত্র-জনতার গণঅভুত্থানের ফলে শেখ হাসিনার সরকার পালালেও রহস্যজনকভাবে মৃত্তিকা সম্পদ উন্নয়ন ইনস্টিটিউটে প্রতাপ রয়ে গেছে তারই দোসর খ্যাত ড. বেগম সামিয়া সুলতানার। জানতে চাইলে, গতকাল সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিবও কোনো সদুত্তর দেননি।
মৃত্তিকা সম্পদ উন্নয়ন ইনস্টিটিউটে অনুসন্ধানে জানা গেছে, কেন্দ্রীয় গবেষণাগারের অ্যাক্রিডিটেশন প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে এসেও থেমে গেছে। সংশ্লিষ্টরা এজন্য প্রতিষ্ঠানের মহাপরিচালক ড. বেগম সামিয়া সুলতানার প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের অপব্যবহারকে দায়ী করছেন। সূত্র জানায়, অ্যাক্রিডিটেশন প্রক্রিয়া সম্পন্নের আগে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কোয়ালিটি ম্যানেজার ও টেকনিক্যাল ম্যানেজারকে ঢাকার বাইরে বদলি করা হয়েছে। তাদের পরিবর্তে এমন কর্মকর্তাদের পদায়ন করা হয়, যাদের ল্যাবরেটরি ব্যবস্থাপনায় কোনো অভিজ্ঞতা নেই। এ কারণে বাংলাদেশ অ্যাক্রিডিটেশন বোর্ডের দেওয়া শর্ত পূরণ করাও সম্ভব হয়নি।
অ্যাক্রিডিটেশন বোর্ডের সবশেষ পরিদর্শনে ১৭টি নন-কনফরমিটি শনাক্ত করে তিন মাসের মধ্যে তা সংশোধনের নির্দেশ দেওয়া হয়। অথচ পাঁচ মাস অতিক্রান্ত হলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি। দক্ষ জনবল না থাকায় কেন্দ্রীয় গবেষণাগারের অন্তত দশ কোটি টাকার বিভিন্ন যন্ত্রপাতি অচল হয়ে পড়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, মহাপরিচালক প্রতিষ্ঠানের দক্ষ ও অভিজ্ঞ কর্মকর্তাদের বদলি করে রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী বা আস্থাভাজন কিছু জুনিয়র কর্মকর্তাকে গুরুত্বপূর্ণ পদে বসিয়েছেন। এতে প্রশাসনিক অস্থিরতা সৃষ্টি হয়েছে এবং বিভিন্ন গবেষণাগারের কার্যক্রম প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে।
মাইক্রোবায়োলজি গবেষণাগারের রাসায়নিক দ্রব্যাদি ও যন্ত্রপাতি ক্রয়ের জন্য ১ কোটি ৭০ লক্ষ টাকার দরপত্র আহবান করা হয়। দরপত্র কমিটির সূত্রে জানা যায়, ডিজি তার পছন্দের প্রতিষ্ঠান “মেসার্স সজীব ট্রেডার্স” কে কাজ পাইয়ে দেওয়ার জন্য দরপত্র মূল্যায়ণ কমিটিকে চাপ দেন। “মেসার্স সজীব ট্রেডার্স” কাজ পাওয়ার শর্ত পূরণ করতে ব্যর্থ হওয়ায় দরপত্র মূল্যায়ণ কমিটি কাজ দিতে অস্বীকৃতি জানালে ডিজি দরপত্র বাতিল করেন।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, প্রতিষ্ঠানে নিজের আধিপত্য বজায় রাখতে জৈষ্ঠ্যতার তালিকায় ৩৭ নম্বরে থাকা ড. নাজমুল হক খান, জৈষ্ঠ্যতার তালিকায় ৪১ নম্বরে থাকা মোঃ সিরাজুল ইসলাম উর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা চলতি দায়িত্ব চেয়ে কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব বরাবর আবেদন করলেও মহাপরিচালক তাদের আবেদন মন্ত্রণালয়ে প্রেরণ না করে মহাপরিচালকের পছন্দের কর্মকর্তা হিসেবে জৈষ্ঠ্যতার তালিকায় ৬৩ নম্বরে থাকা মোঃ কিবরিয়াকে প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা চলতি দায়িত্বে নিয়োগ দেন। একইভাবে নন-ক্যাডার অংশের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মোঃ জয়নাল আবেদিন, ড. এস.এম. শামচুজ্জামান এবং ড. এনায়েত উল্লাহর আবেদনও মহাপরিচালক বেআইনিভাবে অগ্রাহ্য করেন। বরং মোঃ জয়নাল আবেদিনকে এনালাইটিক্যাল সার্ভিসেস উইং-এর পরিচালক পদে রুটিন দায়িত্ব প্রদান করা হয়। এছাড়াও ৪০তম বিসিএস-এর নিয়মিত করণের আবেদনও ছয় মাস আটকে রাখার অভিযোগ রয়েছে মহাপরিচালকের বিরুদ্ধে।
প্রতিষ্ঠানের সংশ্লিষ্টরা জানান, গবেষণামূলক কাজের পরিবর্তে এখন অধিকাংশ কর্মকর্তা প্রশাসনিক কাজ ও বাজেট তদারকিতে ব্যস্ত। এতে গবেষণার গতি কমে গেছে এবং সরকারের রাজস্ব ব্যয়ে কেনা যন্ত্রপাতির যথাযথ ব্যবহার বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এ বিষয়ে মৃত্তিকা সম্পদ উন্নয়ন ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক ড. বেগম সামিয়া সুলতানার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর মন্তব্য পাওয়া যায়নি।