মো: নাবিন আহমেদ:
আসন্ন ১৩ই নভেম্বর স্বৈরাচার শেখ হাসিনার সরকারের রায়কে কেন্দ্র করে সারাদেশে উত্তেজনা বিরাজ করছে। এমন প্রেক্ষাপটে আওয়ামী লীগ সমর্থিত সন্ত্রাসীরা সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়ানো ও অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টির পাঁয়তারা চালাতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন ঢাকা-৫ আসনের বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী নবীউল্লাহ নবী। তিনি বলেন, সরকারবিরোধী আন্দোলনকে দমন করার উদ্দেশ্যে আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসী বাহিনী নানা ধরনের উস্কানিমূলক কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হতে পারে।
নবীউল্লাহ নবী এক বিবৃতিতে বলেন, ১৩ই নভেম্বরের দিনটি বাংলাদেশের ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ একটি দিন হতে যাচ্ছে। তাই এই দিনে কোনো ধরনের সহিংসতা বা বিশৃঙ্খলার মাধ্যমে পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার সুযোগ দেওয়া যাবে না। তিনি বিশেষ করে রাজধানীর দক্ষিণাঞ্চল—যাত্রাবাড়ী, শনিআখড়া, রায়েরবাগ, ডেমরা, সাইনবোর্ড ও আমুলিয়া মডেল টাউন এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও বিএনপির নেতাকর্মীদের সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, “আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীরা জনগণের ভয়ভীতি সৃষ্টি করে আন্দোলনের গতি ভিন্ন খাতে নিতে চাইবে। তাই আমাদের সবাইকে ঐক্যবদ্ধ ও সজাগ থাকতে হবে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের প্রতি আহ্বান, যেন তারা জনগণের পাশে থেকে নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালন করেন।”
যাত্রাবাড়ী থানা বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে নবীউল্লাহ নবী নির্দেশ দেন, যাত্রাবাড়ী চৌরাস্তা, শনিআখড়া, রায়েরবাগসহ গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে অবস্থান নিয়ে এলাকার নিরাপত্তা ও শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতে হবে। একইভাবে ডেমরা থানা বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের স্টাফ কোয়ার্টার, সাইনবোর্ড, আমুলিয়া মডেল টাউন ও কোনাপাড়ায় অবস্থান নেওয়ার অনুরোধ জানান তিনি।
নবীউল্লাহ নবী বলেন, “আমরা গণতন্ত্রের পুনঃপ্রতিষ্ঠার আন্দোলন করছি। তাই কোনো উস্কানিতে পা না দিয়ে শান্তিপূর্ণভাবে মাঠে থাকতে হবে। জনগণের পাশে থেকেই আমাদের আন্দোলন চালিয়ে যেতে হবে।”
বিএনপি নেতার এই আহ্বানকে কেন্দ্র করে ঢাকা-৫ আসনের বিভিন্ন এলাকায় নেতাকর্মীদের মধ্যে সতর্কতা ও প্রস্তুতি দেখা গেছে। তারা জানিয়েছেন, শান্তিপূর্ণভাবে অবস্থান কর্মসূচি পালন করা হবে, তবে আওয়ামী সন্ত্রাসীরা যদি হামলার চেষ্টা করে, তাহলে তা প্রতিহত করতে প্রস্তুত রয়েছেন সবাই।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ১৩ই নভেম্বরের রায়কে কেন্দ্র করে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হতে পারে। তবে বিএনপির কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতৃত্বের এই সতর্ক আহ্বান মাঠপর্যায়ের কর্মীদের মধ্যে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সহায়ক ভূমিকা রাখবে বলেও তারা আশা প্রকাশ করেছেন।