কক্সবাজার প্রতিনিধি:
পর্যটন নগরী কক্সবাজারের সুগন্ধা পয়েন্টে ফুটপাত দখল করে ফিশ ফ্রাই দোকান বসানোর নামে প্রতিদিন ৫০–৬০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে একটি সংগঠিত সিন্ডিকেটের মাধ্যমে এসব অবৈধ দোকান পরিচালিত হলেও সংশ্লিষ্ট প্রশাসন নীরব ভূমিকা পালন করছে।
জানা গেছে, জেলা প্রশাসনের কার্যালয় থেকে যাদেরকে দোকান পরিচালনার জন্য বৈধ কার্ড প্রদান করা হয়েছিল, তাদের অনেকেরই বর্তমানে মাঠে কোনো অস্তিত্ব নেই। অথচ অনুমতিবিহীন অসংখ্য নতুন দোকান ফুটপাত দখল করে গড়ে উঠেছে। এসব দোকান থেকেই প্রতিদিন বিপুল অঙ্কের টাকা আদায় করা হচ্ছে। তবে এ অর্থ কার পকেটে যাচ্ছে—তা নিয়ে উঠেছে নানান প্রশ্ন।
স্থানীয় ও পর্যটকদের অভিযোগ, সুগন্ধা পয়েন্টের প্রধান ফুটপাতের বেশিরভাগ অংশ এখন দখলদারদের কবলে। হাঁটার পথ সংকুচিত হয়ে পড়েছে, পর্যটকদের চলাচলে সৃষ্টি হয়েছে চরম দুর্ভোগ। সৈকতের বালিয়াড়ি দখলমুক্ত করতে মাঝে মাঝে অভিযান দেখা গেলেও সুগন্ধা পয়েন্টের ফুটপাত উচ্ছেদে দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ নেই।
স্থানীয়দের অভিযোগ, মাঝে মাঝে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হলেও তা স্থায়ী হয় না। দিনের বেলায় উচ্ছেদ হলেও রাত নামতেই আবার আগের জায়গায় দোকান বসিয়ে দেওয়া হয়। এতে স্পষ্ট হয়, একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট নিয়মিতভাবে এসব অবৈধ কর্মকাণ্ডকে নিয়ন্ত্রণ ও তদারকি করছে।
পর্যটকদের নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব থাকা সত্ত্বেও ট্যুরিস্ট পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা। তারা বলছেন, সুগন্ধা পয়েন্টে প্রতিদিন চাঁদাবাজি ও ফুটপাত দখল চললেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ নেই।
দেশের প্রধান পর্যটনকেন্দ্র কক্সবাজারের এমন পরিস্থিতি নিয়ে সচেতন মহল উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, অবৈধ দোকান এবং চাঁদাবাজির কারণে পর্যটন এলাকার পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে, যা পর্যটকদের কাছে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
সচেতন মহলের দাবি, সুগন্ধা পয়েন্টের ফুটপাত অবিলম্বে দখলমুক্ত করা, চাঁদাবাজ চক্র শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা, অনুমতিবিহীন দোকান উচ্ছেদ ও স্থায়ী তদারকি ও জেলা প্রশাসন ও ট্যুরিস্ট পুলিশের কার্যকর পদক্ষেপ।
স্থানীয় বাসিন্দা ও পর্যটন সংশ্লিষ্টরা বলেন,
“সিন্ডিকেটের দখল ও চাঁদাবাজি বন্ধ না হলে কক্সবাজারের পর্যটন খাত মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। প্রশাসনের উচিত দ্রুত ও দৃঢ় পদক্ষেপ নেওয়া।”