মানুষকে সেবা দিতে এসেছি, চাই সহযোগিতা….মাসুদুজ্জামান মাসুদ

ব্যুরো চিফ মোহাম্মদ হোসেন হ্যাপী

 

মানুষকে সেবা দিতে এসেছি, চাই সহযোগিতা
শীতলক্ষ্যার দুইপাড়ে সদর ও বন্দর এলাকা নিয়ে গঠিত নারায়ণগঞ্জ-৫ সংসদীয় আসন। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাজধানীর পাশে গুরুত্বপূর্ণ এ আসনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) মাসুদুজ্জামান মাসুদকে ধানের শীষের প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করেছে। সমাজসেবক, ক্রীড়া ও শিক্ষানুরাগী বলে পরিচিত মাসুদুজ্জামান, ব্যবসাখাতেও রেখেছেন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। নারায়ণগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সাবেক এ সভাপতি কথা বলেছেন দৈনিক স্বাধীন সংবাদ পত্রিকা ও ডিজিটাল মাল্টিমিডিয়া সঙ্গে জানিয়েছেন তার ভবিষ্যত পরিকল্পনার কথা। বিশেষ সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন দৈনিক স্বাধীন সংবাদ পত্রিকা ও ডিজিটাল মাল্টিমিডিয়ার নারায়নগন্জ জেলার ব্যুরো চিপ মোহাম্মদ হোসেন হ্যাপী।

রাজধানীর পাশে গুরুত্বপূর্ণ নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে জাতীয়তাবাদী দল আপনাকে ধানের শীষের প্রার্থী হিসেবে মনোনীত করেছে। কোন দিক বিবেচনায় দল আপনাকে এই আসনে বেছে নিয়েছে বলে মনে করেন? মাসুদুজ্জামান মাসুদ: আসলে নমিনেশনের বিষয়টি একটি বড় প্রক্রিয়া। কেননা, জাতীয়তাবাদী দল অনেক বড় একটা দল। দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও স্থায়ী কমিটির অনেকগুলো টিম মাঠপর্যায়ে কাজ করেছে। তারা এই মাঠে নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করেছে। একাধিক সংস্থার মাধ্যমে চার থেকে পাঁচটি স্তরে রিপোর্ট সংগ্রহ করেছে। এমনকি দল নমিনেশন দেওয়ার পরও প্রতিনিয়ত তারা কাজ করছে, রিপোর্ট দিচ্ছে। আমরা (সারাদেশে মনোনীত প্রার্থীরা) কে কী করছি এবং জনগণের সাথে আমরা কীভাবে কানেক্ট থাকতে পারছি, প্রোগ্রামগুলো কীভাবে করছি; সেই দিকটা এখনো কিন্তু বিবেচনায় আছে।

দল আমাকে বিবেচনা করেছে, আমাকে বেছে নিয়েছে। এজন্য আমি জাতীয়বাদী দল, দলের স্থায়ী কমিটির সদস্যবৃন্দ এবং ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জনাব তারেক রহমানকে ধন্যবাদ জানাই। আমরা তো কাজ করেছি এবং কাজ করে যাচ্ছি। আমাকে দিলে এই আসনটায় আমরা পেরে উঠবো, সেই বিবেচনায় হয়তো দল দিয়েছে। এবং আমি ধন্যবাদ জানাই নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের জনগণকে, যারা আমার পক্ষে রায় দিয়েছেন এবং সেই রায়ের মাধ্যমেই এই নমিনেশন।

আমি আমি মনে করি যে, আমার বিগত দিনের কার্যক্রম এবং দলের পেছনে থেকে সারাদেশব্যাপী আমি বিভিন্ন সময়ে কাজ করেছি; সেইটা বিবেচনায় হয়তো নিয়েছেন, সেই কারণে আজকের এই নমিনেশন পাওয়া।

আপনি নির্বাচনে জয়ী হতে পারলে আপনার এলাকার তরুণ ও বেকার যুবকদের জন্য কী কী পদক্ষেপ নিবেন?

মাসুদুজ্জামান মাসুদ: আমি কিন্তু শুরু থেকেই বলেছি, আগামীর বাংলাদেশ হবে তারুণ্য-নির্ভর। আগামীর বাংলাদেশ হবে তরুণদের চোখে দেখা একটা বাংলাদেশ। ওরা স্বপ্ন দেখবে। আমরা যারা প্রবীণ আছি আমাদের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে একসাথে এগিয়ে যেতে হবে। এটা আমি প্রথম থেকেই বলছি। তরুণরা আগামীতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে ইনশাল্লাহ। আমি আশা করি- এই নারায়ণগঞ্জকে নিয়ে নতুন করে স্বপ্ন দেখার যে বিষয়টি তাতে তাদের কন্ট্রিবিউশন থাকবে সবচেয়ে বেশি।

নারায়ণগঞ্জ একটা ইন্ডাস্ট্রিয়াল হাব। আমরা ইতোমধ্যে প্রমাণও করেছি যে, এটি একটি শিল্পের শহর, সংস্কৃতির শহর। আমরা প্রমাণ করেছি এটা সম্প্রীতিরও শহর। এই যে সমন্বয়টা এটা কিন্তু একদিনে হয় নাই, এটা শত শত বৎসরের। এবং এই ইন্ডাস্ট্রির যে জায়গাটা আমরা অর্জন করেছি, আমরা চাই এটাকে আরো আগে বাড়াতে।

জাতীয়বাদী দল যদি সরকার গঠন করতে পারে তাহলে আমাদের চেষ্টা থাকবে- এই বন্দরে আমরা একটা ইকোনোমিক জোন প্রতিষ্ঠার। যেহেতু শহরে জায়গা নেই বললেই চলে কিন্তু সুযোগ আছে বন্দরে। বন্দরে ইকোনোমিক জোন করার স্বপ্ন আমাদের আছে।

আমরা যেটা চাই তা হলো- আমার শহরেই আমার কর্মসংস্থান হবে। আমাদের যাতে বাইরে যেতে না হয়। আমাদের শহরেই থাকবে সরকারি মেডিকেল কলেজ। আমাদের শহরেই থাকবে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়, পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়। সেটা আমাদের স্বপ্ন। সেই নিয়েই আমাদের কাজ করা। এটাই আমাদের স্বপ্ন।
আপনি নির্বাচিত হলে জাতীয় সংসদে আইনপ্রণেতা হবেন, রাষ্ট্রের নীতি-নির্ধারণী পর্যায়ে ভূমিকা রাখবেন। বাংলাদেশের বৃহৎ একটি জনগোষ্ঠী নারী। নারীর অধিকার ও নারীদের স্বাধীনতার বিষয়ে আপনার অবস্থান কী হবে?
মাসুদুজ্জামান মাসুদ: আমি এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিশ্বাস করে সমতা, নারীর ক্ষমতায়ন। আমাদের ৩১ দফায়ও কিন্তু এইটা আছে। আমরা চাই- এই যে বিশাল একটা নারী জনগোষ্ঠী আছে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে তথা সারাদেশে, আমরা চাই সবাই একসাথে একত্রিত হয়ে কাজ করবো। আগামীর বাংলাদেশ হবে সমতার বাংলাদেশ। এবং এটা শুধু ওই পুথিগত হলে চলবে না। এটা বাস্তবায়ন করতে হবে। এটি বাস্তবায়ন করতে আমাদের সর্বোচ্চ চেষ্টা থাকবে। আমাদের প্রচেষ্টা থাকবে, আমরা যাতে আমাদের মা-বোনদের নিয়ে সামনে এগিয়ে যেতে পারি এবং এই বাংলাদেশের উন্নয়নে তাদেরকে অন্তর্ভূক্ত করতে পারি। এবং তা অবশ্যই বাস্তবভিত্তিতে।

সদর ও বন্দরে যে নির্বাচনী এলাকাগুলো রয়েছে, নির্বাচিত হলে এলাকার উন্নয়নে কোন কোন বিষয় ও কাজগুলোকে আপনি অগ্রাধিকার দেবেন?

মাসুদুজ্জামান মাসুদ: আমি এই শহরে জন্ম নেওয়া একজন মানুষ। ছোটবেলা থেকে এই শহরেই বেড়ে ওঠা। আমার শৈশব-কৈশোর এই নদীতে, এই শীতলক্ষ্যা পাড়ে এবং এই মাটি-হাওয়ায় বেড়ে ওঠা। আমি ধীরে ধীরে দেখলাম, একটা পরিকল্পিত নগরী, একটা পরিকল্পিত নারায়ণগঞ্জ অপরিকল্পিত নগর হয়ে গেলো। এবং তা আমাদের চোখের সামনেই ঘটেছে। আমরা কেউই কিছু করতে পারলাম না।

যদি জাতীয়তাবাদী দল সরকার গঠন করে তাহলে আমাদের একটা ইচ্ছা আছে, পার্টিকুলার কোনো একটা জিনিস নিয়ে কাজ শুরু করা যাবে না। তাহলে আর যেসব বিষয় গুরুত্বপূর্ণ আছে সেগুলো পিছে পড়ে যাবে। এখানে ট্রাফিক ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে, এখানে অপরিকল্পিত নগরায়ন হয়েছে। এইখানে মাদকের সমস্যা আছে। এখানে সন্ত্রাসের সমস্যা আছে। এখানে কিশোর গ্যাংয়ের সমস্যা আছে। এই কিশোর গ্যাংদেরকে আমরা নানা ট্যাগ দেই। কিন্তু তারা আমাদেরই সন্তান। এদেরকে মূল ধারায়, সুস্থ ধারায় ফিরিয়ে আনতে হবে এবং কাজ করতে হবে প্রত্যেকটা ক্ষেত্রে।

যানজটের মতো পরিবেশও একটা প্রধান সমস্যা। আইনও একটা প্রধান সমস্যা। এ সবগুলোকে নিয়ে আসলে কাজ শুরু করতে হবে। এখানে আগে কোনটা এবং পরে কোনটা সেটা বললে আমার মনে হয় যে, গুরুত্বপূর্ণ অনেক সাবজেক্টগুলি পেছনে পড়ে যাবে। আমাদেরকে আসলে একসাথে কাজ করতে হবে সমস্ত বিষয় নিয়েই।
অর্থাৎ সবগুলো বিষয়কেই গুরুত্ব দিয়ে সমন্বয়ের মাধ্যমে পরিকল্পনামাফিক কাজ করতে চাচ্ছেন আপনি? এবং নগরীর সমস্যাগুলোও আপনি শনাক্ত করেছেন ইতোমধ্যে।

মাসুদুজ্জামান মাসুদ: ছোটবেলায় আমার একটা পরিকল্পিত এলাকায় পড়ালেখার সুযোগ হয়েছে। সেটা কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্টের ভেতরেÑ ইস্পাহানি পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজে। আমি ছোটবেলা থেকেই দেখেছি যে, একটা পরিকল্পিত আবাসিক এলাকা, পরিকল্পিত একটা বাসযোগ্য স্থান কেমন হতে পারে। নারায়ণগঞ্জ যেহেতু আমার জন্মভূমি সেটিও দেখেছি। এরপরে বিভিন্ন সময়ে ব্যবসা-বাণিজ্য করতে গিয়ে কর্মজীবনে সারাবিশ্বে আমার অনেক অভিজ্ঞতা হয়েছে। সেই কারণে মাথায় কিছু জিনিস, কিছু পরিকল্পনা আছে। ইনশাল্লাহ যদি কাজ করার সুযোগ পাই, নারায়ণগঞ্জের মানুষ, বন্দর ও শহরের মানুষ যদি কাজ করার সুযোগ দেন, আমার একটা চিন্তাভাবনা আছে। এবং আমার বিশ্বাস- সেই পরিকল্পনা অনুযায়ী সবাইকে নিয়ে একটা ভালো কিছু করতে পারবো।
আপনার পেশাগত ও রাজনৈতিক পথচলার ধারাবাহিকতা সম্পর্কে সংক্ষেপে কিছু বলবেন।
মাসুদুজ্জামান মাসুদ: এই শহরটাকে কেন্দ্র করেই আমার জীবন। এই শহরের ভেতরেই আমার বেড়ে ওঠা। এই শহরে ছোটবেলায় আমি ডাঙ্গুলিও খেলেছি, ফুটবল-ক্রিকেটও খেলেছি। হয়তো আমি স্টার হইতে পারি নাই (হাসি) কিন্তু খেলাটা খেলেছি। এরপর স্কুল জীবন গেছে, কলেজ জীবন গেছে। দেশের বাইরেও গিয়েছি, ব্যবসায় এসেছি। প্রত্যেকটা জায়গায় আমি চেষ্টা করেছি আমার সর্বোচ্চ এফোর্ট দেওয়ার। আমি আমার সর্বোচ্চ এফোর্ট যেখানে দেই, সেই জিনিসটাকে আমি ভালোবেসে, হৃদয়ে ধারণ করে নেই। আমি মনে করি যে, এইটাই আমার কাজ, এটা থেকে পেছনে ফেরা যাবে না। আমি মূলত সেবামূলক কাজের জন্য নেমেছি। সেবামূলক কাজ করার বিষয়টি আমার ভেতরে আছে বলে মনে করি এবং সবসময়ই তা ছিল। আমি চাই জনগণের সহযোগিতা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *