স্টাফ রিপোর্টার:
কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার মোহাম্মদপুর পশ্চিম ইউনিয়নের নৌকা প্রতীকের চেয়ারম্যান দুলালকে ঘিরে ফের ওঠেছে অপকর্ম, দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং অবৈধ সম্পদ গঠনের বিস্তৃত অভিযোগ। এলাকাবাসীর দাবি, একসময়ের দুর্দান্ত প্রতাপশালী এই জনপ্রতিনিধি এখনো নিষিদ্ধ আওয়ামী রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছেন এবং গোপনে বিভিন্ন মহলকে সঙ্গে নিয়ে প্রভাব বিস্তার বজায় রাখছেন।
স্থানীয়দের ভাষ্য, ক্ষমতায় না থাকলেও দুলাল চেয়ারম্যান “গোপন রাজনৈতিক তৎপরতা” চালিয়ে যাচ্ছেন। তিনি নিয়মিত নিজের ঘনিষ্ঠ লোকজনকে ব্যবহার করে এলাকায় দাপট দেখিয়ে যাচ্ছেন এবং আবারও আওয়ামী লীগকে মাঠে আনার চেষ্টা করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এ নিয়ে এলাকাজুড়ে চলছে কানাঘুষা ও তীব্র সমালোচনা।
এলাকাবাসী জানায়, ঢাকার মিরপুরে দুলাল চেয়ারম্যানের একাধিক বাড়ি, প্লট ও বিলাসবহুল ফ্ল্যাট রয়েছে। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তিনি বিভিন্ন প্রকল্প, সুবিধা ও সুযোগের আড়ালে কোটিকোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন বলে অভিযোগ। তার আয়ের উৎস নিয়ে প্রশ্ন তুললেও কোনো সঠিক ব্যাখ্যা এখনও দিতে পারেননি তিনি।
অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে দুলাল চেয়ারম্যান সাংবাদিকদের কাছে অকপটে বলেন,
“আওয়ামী লীগকে মোটামুটি টাকা দিয়েই নৌকা প্রতীক এনে আমি নির্বাচিত হয়েছি। এখনো টাকার জোরেই বহাল তবিয়তে আছি। আসলে টাকা যার, দুনিয়াটা তার। টাকার জোরে আমি সবকিছু করতে পারব।”
তার এই বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর এলাকায় তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। অনেকেই বলছেন, একজন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধির মুখে এমন বক্তব্য পুরো ইউনিয়নের জন্য লজ্জাজনক।
দুলাল চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ বহুদিনের হলেও কেউ মুখ খোলার সাহস পাননি। এখন তার বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে অভিযোগ ওঠায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে। অনেকেই বলছেন,
— “ক্ষমতার জোরে তিনি দীর্ঘদিন যা খুশি করেছেন, এখন সময় হয়েছে তদন্তের।”
— “একজন চেয়ারম্যান কীভাবে এমন অবৈধ সম্পদের মালিক হন তা সরকারকে খতিয়ে দেখতে হবে।”
স্থানীয় সূত্র জানায়, বিভিন্ন অভিযোগের ভিত্তিতে প্রশাসন ইতোমধ্যে প্রাথমিকভাবে কিছু তথ্য সংগ্রহ করছে। তবে আনুষ্ঠানিক কোনো তদন্ত এখনো শুরু হয়নি।