পাইকগাছা (খুলনা) প্রতিনিধি:
বাংলাদেশের মানুষ গণতন্ত্র চায়, ন্যায়বিচার চায়, ভোটাধিকার চায়। জনগণের সরাসরি ভোটে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা পাবে। খুলনার দক্ষিণাঞ্চলের অবহেলিত কয়রা–পাইকগাছা উন্নয়ন বঞ্চিত জনসাধারণ স্বাভাবিক যোগাযোগ ব্যবস্থার নিশ্চয়তা চায় ও শান্তিপূর্ণ গণতান্ত্রিক এবং মুক্ত সমাজব্যবস্থা। “আমাকে ধানের শীষে ভোট দিয়ে আপনাদের সেবক হিসেবে নির্বাচিত করুন, আমি কথা দিচ্ছি এ অঞ্চলকে নগরীর আদলে ঢেলে সাজাবো।” —পাইকগাছার লস্কর ইউনিয়নের উঠান বৈঠকে খুলনা–৬ (কয়রা–পাইকগাছা) আসনে বিএনপির মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী এস এম মনিরুল হাসান বাপ্পী এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, কেউ কেউ ভোটের মাঠে মিথ্যা ও কাল্পনিক প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন। তাদের উদ্দেশ্যে বলছি—এই অঞ্চলের সহজ–সরল শ্রমজীবী জনসাধারণকে বোকা বানানোর চেষ্টা করবেন না। আপনাদের মিথ্যাচারের জবাব ব্যালটের মাধ্যমে, ভোট গণনার মাধ্যমেই প্রকাশ পাবে।
তিনি আরও বলেন, “রাজনীতি কেবল বক্তৃতার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকা উচিত নয়। বরং মানুষের দুঃখ–কষ্ট জানা, তাদের কথা শোনা—এইটাই প্রকৃত রাজনীতি।” আর এটাই চেয়েছেন আমাদের বিএনপি ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। আমরা প্রতিটি অঞ্চলে মানুষের দ্বারে দ্বারে যাচ্ছি। তাদের দুঃখ–দুর্দশার কথা শুনছি। গ্রাম থেকে গ্রামের চিত্র দেখে মনে হচ্ছে, ’৯১–পরবর্তী এই অঞ্চলে কোনো উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি। সুবিধাবঞ্চিত এই অঞ্চলকে পুঁজি করে নেতারা আলীশান বাড়ি–গাড়ি করেছেন, আর জনসাধারণ অসহায় অবস্থায় জীবনযাপন করে।
“এই অঞ্চলের জনসাধারণের জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন করতে চাই। একবারের জন্য আপনারা আমাকে সুযোগ দিন—আমি টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণের মাধ্যমে আপনাদের দুশ্চিন্তামুক্ত করতে চাই। বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা করতে চাই। শিক্ষার পরিবেশ তৈরি করতে চাই, স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়ন করতে চাই।”
গতকাল বিকেলে পাইকগাছার লস্কর ইউনিয়নের লক্ষীখোলা পশ্চিম পাড়া আয়োজিত উঠান বৈঠক ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি আসাদুজ্জামান খোকনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়।
তিনি বলেন, এ অঞ্চলের হতদরিদ্র মানুষ জলদস্যু, বনদস্যু ও চাঁদাবাজদের অত্যাচারে নিপীড়িত হচ্ছে দীর্ঘদিন ধরে। মাছচাষি, জেলে, মৌয়াল, বাওয়ালি ও শ্রমজীবী মানুষদের কাছে চাঁদাবাজি এবং মুক্তিপণ দাবি করে সর্বস্ব কেড়ে নিচ্ছে। “ইতিমধ্যেই আমি চেষ্টা করেছি—এই অঞ্চলকে বনদস্যু, জলদস্যু ও চাঁদাবাজ–মুক্ত দক্ষিণাঞ্চল গড়তে। ধানের শীষে ভোট দিন—আমি আপনাদের প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ পেলে আপনাদের নিরবচ্ছিন্ন নিরাপত্তায় কাজ করবো।”
এসময়ে উপস্থিত ছিলেন—খুলনা জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক আশরাফুল আলম নান্নু, পাইকগাছা উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক ডা. আব্দুল মজিদ, পাইকগাছা উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব এস এম ইমদাদুল হক, খুলনা জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব আব্দুল মান্নান মিস্ত্রী।
অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন—সেলিম রেজা লাকি, তহিদুরজ্জামান মুকুল, তুষার কান্তি মন্ডল, অ্যাড. টিএম সাইফুদ্দিন সুমন, মো. নজরুল ইসলাম, করিম গাইন, মেছের আলী সানা, গাজী মোস্তাকিম, মুরশিদ আলম, হাবিবুর মোল্লা, মান্নান গাইন, খান জাহাজ আলী, টিএম মঈন উদ্দিন শিমুল, আকিজ উদ্দিন, সম্রাট কাগজী, হুসাইন মোল্লা, আনারুল জোয়ার্দার, আবিদুজ্জামান, মো. লিটন গাজী, ডা. সাম্মাদ, জসিম উদ্দিন, মো. ফজলু মোল্লা, হুরায়রা বাদশা, শহিদুর রহমান, আজাদ বিশ্বাস, আবু সুফিয়ান, মারুফুল হক প্রিন্স, রাইহান পারভেজ টিপু, সোহেল রানা, কামাল হোসেন, নাজমুল হুদা, সম্রাট আহসান, মো. অজিয়ার রহমান, মো. আফজাল গাজী, শাহারিয়ার নাফিজ, তিতাস, লাভলু, আজিজুর, রিপুন, আবির, সুমন, বাবুল, আয়জুল, রানা, আহসান প্রমুখ।
তিনি সকাল ১০টায় বাগালী ইউনিয়ন বিএনপি–সহ অঙ্গ–সহযোগী সংগঠনের সাংগঠনিক সভা করেন। কয়রা উপজেলার আল–হেরা জামে মসজিদে জুম্মার নামাজ আদায় ও উপস্থিত ধর্মপ্রাণ মুসুল্লিদের কাছে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সুস্থতা কামনায় দোয়া এবং সকলের সাথে কুশল বিনিময় করেন। কয়রা উপজেলা কাঁকড়া ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির আয়োজিত ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলা উদ্বোধন করেন। রাতে তিনি পাইকগাছার আলমতলা লক্ষীখোলায় যজ্ঞ অনুষ্ঠানে উপস্থিত সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সাথে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।