রাজউক নিয়ম অমান্য করে পুরাকৈরে ৮তলা ভবন নির্মাণ, প্রশ্ন উঠছে অনুমোদন নিয়েও

স্টাফ রিপোর্টার:

রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) জোন–২/১ এর আওতাধীন পুরাকৈর মৌজার মোল্লারটেক এলাকায় রাজউকের নিয়ম–কানুন উপেক্ষা করে একটি ৮ তলা ভবন নির্মাণ করছেন আমেরিকা প্রবাসী মো. লোকমান হোসেন বাবু। ২০২১ সালের অক্টোবর মাসে সি,এস/আরএস নং–২৫৮/৬১৯ দাগে বেজমেন্টসহ বহুতল ভবন নির্মাণের অনুমোদন নেন তিনি। বর্তমানে ভবনটির মূল কাঠামো সম্পূর্ণ এবং বাহিরের সাইটে প্লাস্টারের কাজ চলছে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, রাজউকের নির্ধারিত শর্তের অনেকগুলোই মানা হয়নি এই নির্মাণে। ভবন নির্মাণ বিধিমালা অনুযায়ী ৮ তলা ভবনের অনুমোদনের জন্য ন্যূনতম ২০ ফিট রাস্তা থাকা বাধ্যতামূলক হলেও ভবনটির সামনে এমন প্রশস্ত সড়ক নেই। সরু রাস্তায় ভারী নির্মাণসামগ্রী ওঠানামায় স্থানীয়দের দৈনন্দিন চলাচলও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

শুধু তাই নয়—নির্মাণাধীন ভবনে তথ্যসংবলিত সাইনবোর্ড টানানো, শ্রমিক–পথচারীদের নিরাপত্তার জন্য পর্যাপ্ত সেফটি নেট ব্যবহার করার নিয়ম থাকলেও ভবনটিতে এসবের কিছুই দেখা যায়নি। এতে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার ঝুঁকি রয়েছে বলে আশঙ্কা স্থানীয়দের।

রাজউক ভবন নির্মাণবিধি অনুযায়ী ৮ তলা ভবনের সেটব্যাকে সামনের দিকে কমপক্ষে ১.৫০ মিটার, পিছনে ২.০০ মিটার এবং দুই পাশে ১.২৫ মিটার জায়গা রেখে ভবন নির্মাণ করার কথা। কিন্তু এই ভবনে তার কোনোটিই অনুসরণ করা হয়নি। ফলস্বরূপ ভবনটি পাশের বাড়ির সঙ্গে অস্বাভাবিকভাবে গা ঘেঁষে উঠে দাঁড়িয়েছে, যা ভবিষ্যতে আলো–বাতাস প্রবাহে বাধা সৃষ্টি করতে পারে।

স্থানীয় এক কলেজ শিক্ষক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন,
“এই ভবনটি রাজউকের নিয়ম মেনে নির্মাণ করা হলে ছাদের আয়তন হতো সর্বোচ্চ ২ হাজার থেকে ২২’শ স্কয়ার ফিট। কিন্তু এখানে ৩ হাজার স্কয়ার ফিটেরও বেশি নির্মাণ করা হয়েছে। এত সরু রাস্তায় ৮ তলা ভবনের অনুমতিই বা কীভাবে পেল—বোঝা যায় না।”

তিনি আরও অভিযোগ করেন, “রাজউকের কাজ হচ্ছে একটি বাসযোগ্য নগর গড়ে তোলা। কিন্তু নিয়ম না মানলেও যদি কোনো ভবন নির্মাণ হয়ে যায় এবং কর্তৃপক্ষ নীরব থাকে, তাহলে এসব নিয়ম থাকারই বা কী মানে?”

এ বিষয়ে ভবন নির্মাণের দায়িত্বে থাকা নুরুজ্জামানের কাছে জানতে চাইলে তিনি দাবি করেন, ভবনটি রাজউকের নিয়ম অনুযায়ীই নির্মাণ করা হয়েছে। মালিক দীর্ঘদিন প্রবাসে থাকার কারণে তার ছোট ভাই জাহাঙ্গীর আলম পুরো তত্ত্বাবধানে ছিলেন জানিয়ে তিনি বলেন, “আমি মাত্র দুই মাস হলো কাজের দায়িত্ব নিয়েছি।”

এদিকে স্থানীয়রা বলছেন, নিয়ম ভঙ্গের অভিযোগের পরও রাজউকের পক্ষ থেকে কোনো পরিদর্শন বা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। এতে প্রশ্ন উঠছে—নিয়ম ভঙ্গের পরও নির্মাণযজ্ঞ কিভাবে নির্বিঘ্নে চলছে?

নগর পরিকল্পনা–সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, এই ধরনের ভবন রাজউকের নীতিমালাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে এবং এলাকা পরিকল্পনার ভবিষ্যত নিরাপত্তা—উভয়ই ঝুঁকিতে ফেলে। তাদের দাবি, অনিয়ম প্রমাণ হলে ভবনটির বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *