ভরা মৌসুমেও পর্যটক খরা কক্সবাজার, বিপাকে ব্যবসায়ীরা

নুরুল আমিন হেলালী:

বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকত বেষ্টিত পর্যটন নগরী কক্সবাজারে ভরা মৌসুমেও পর্যটক খরা চলছে। ফলে আয়-রোজগার না থাকায় বিপাকে পড়েছেন পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা। কথিত আছে, ডিসেম্বর মাসে পর্যটক টইটুম্বুর থাকায় বছরের সবচেয়ে ব্যস্ত সময় পার করেন কক্সবাজারের পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা। কিন্তু এ বছর সম্পূর্ণ ব্যতিক্রম।

সারাবছরের অপেক্ষায় থাকা পর্যটন নগরী হওয়ার কথা লাখো মানুষের পদচারণায় মুখর হওয়ার। কিন্তু এবারের দৃশ্য একেবারেই ভিন্ন—ফাঁকা সৈকত, খালি রুম, হতাশ ব্যবসায়ী এবং অনিশ্চয়তার ছাপ। দেশের দীর্ঘতম সমুদ্রসৈকত কক্সবাজার যেন থমকে আছে এক অঘোষিত নিরবতায়। ডিসেম্বর জুড়ে যে কক্সবাজারে পর্যটকের পদচারণায় উপচেপড়া ভিড় থাকার কথা, সেই শহরে চলছে এখন সুনসান নিরবতা।

পর্যটন স্পটগুলোর কোথাও নেই মৌসুমি পর্যটকদের চিরচেনা ভিড়। অলস সময় কাটাচ্ছেন পর্যটক সেবায় নিয়োজিত ঘোড়াওয়ালা, জেড স্কি অপারেটর, ফটোগ্রাফার, কিটকট ব্যবসায়ীসহ পর্যটন সংশ্লিষ্টরা।

ফটোগ্রাফার আসিফের মতে, “তার মতো অনেকের আয়-রোজগার নেই। জীবিকা চলছে অনেকটা ধার-দেনা করে।” সুগন্ধা বিচের ঘোড়াওয়ালা আব্দুল জাব্বার বলেন, “গত বছর এই সময় লাখের উপর পর্যটকের আসা-যাওয়া থাকতো। এই বছরের তুলনায় মোটেও নেই। অনেকের ব্যবসা প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে।”

কিটকট ব্যবসায়ী সেলিম মনে করেন, “এই বছর সবচেয়ে খারাপ মৌসুম চলছে। পর্যটক নেই, কাজ নেই। ফলে বসে বসে অলস সময় পার করা ছাড়া উপায় নেই।”

হোটেল সি প্যারাডাইসের সিইও দেলোয়ার হোসেন বলেন, “গত বছর ডিসেম্বর জুড়ে প্রতিদিন ৮৫-৯০ শতাংশ রুম বুকিং থাকত, কিন্তু এখন প্রায় ৭০ শতাংশ রুম খালি পড়ে থাকে।”

এদিকে রেঁস্তোরা ব্যবসায়ীরাও পড়েছেন বিপাকে। ফ্রেশ ইন রেঁস্তোরার স্বত্বাধিকারী নুরুল কবির বলেন, “বিক্রয় নেই, কর্মচারীদের বেতন দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।” রেঁস্তোরা মালিক সমিতির সভাপতি মোঃ আলী বলেন, “রাজনৈতিক অস্থিরতা, অর্থনৈতিক চাপ, ব্যাংক খাতের অচলাবস্থা—all মিলিয়ে পর্যটক আসতে হিমসিম খাচ্ছে।”

তবে ১৫ ডিসেম্বরের পর থেকে পর্যটক বাড়তে পারে বলে মন্তব্য করেন রেঁস্তোরা মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক জাবেদ ইকবাল। যাত্রীর আসায় ঠাঁই দাঁড়িয়ে থাকা কয়েকজন পর্যটক বাহনের চালক জানান, “সকাল থেকে দাঁড়িয়ে আছি, যাত্রী নাই। সন্ধ্যার পর মালিকের ভাড়া কিভাবে দেব, সেই দুশ্চিন্তায় খারাপ সময় পার করছি।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *