নেত্রকোনা মদনে কেয়ার পার্টনার স্বাবলম্বী অফিসে সন্ত্রাসী হামলা

নাছিমা খাতুন সুলতানা:

মদন উপজেলার তিয়শ্রী ইউনিয়নের ভবানীপুর গ্রামে গত ১ জানুয়ারি দুপুর আড়াইটায় কেয়ার পার্টনার/স্বাবলম্বী যৌথ উদ্যোগের অফিস ও স্কুলে সন্ত্রাসীরা হামলা চালিয়েছে। হামলায় অফিস ও স্কুলের সম্পদ ব্যাপকভাবে ভাঙচুর করা হয় এবং তিনজন আহত হন। আহতদের মদন উপজেলা ময়মনসিংহ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে, বর্তমানে তাদের চিকিৎসা চলছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, হামলার পেছনে দীর্ঘদিনের জমি ও সম্পত্তি বিরোধের জের কাজ করেছে। মৃত জাহের আলীর ছেলে মোঃ আলী আকবরের সঙ্গে গ্রামের ১২ জন ব্যক্তি উক্ত অফিসের জন্য স্থানীয় জমি ক্রয় ও দলিল করেছিল। সেখানে স্বাবলম্বী উদ্যোগের শিক্ষিকা মোছাঃ শিল্প আক্তার ও জেসমিন আক্তার মানুষকে লেখাপড়ার কার্যক্রম পরিচালনা করতেন। এ জমির পাশেই বেডিং ঘরে গ্রাম্য শালিস বৈঠকও হতো।

কিছুদিন আগে মোঃ আলী আকবর ওই জমি জোর পূর্বক দখল করার চেষ্টা করেন। এতে গ্রাম্য সালিশ বসে সমস্যার সমাধান করা হয় এবং কয়েকদিন পর আলী আকবর নিজে ঘর ত্যাগ করেন। তবে উভয় পক্ষের মধ্যে বিবাদ এ ঘটনার পরও পুরোপুরি মিটে যায়নি। এর জের ধরে শুক্রবার হামলার ঘটনা ঘটেছে।

হামলার সময় আহত হয়েছেন মোঃ ইব্রাহিম মিয়া, আলী আকবর ও নূরে আলম। এলাকাবাসী জানিয়েছেন, সন্ত্রাসীরা অফিস ও বেডিং ঘর ভেঙে লুটপাট করেছে। হামলার পর পুরো গ্রামে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে এবং স্থানীয় জনগণ শঙ্কা প্রকাশ করছেন যে, বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

স্থানীয়রা আরও জানান, হামলার পর আলী আকবর ও তার ছেলেরা গ্রামে রাস্তা ও ঘুপাঠ বন্ধ করে দেয়, যার ফলে সাধারণ জনগণ দৈনন্দিন কাজকর্মে ভোগান্তিতে পড়েছে। এই ঘটনার পর গ্রামে উত্তেজনা বাড়তে থাকে এবং জনগণ নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন।

এলাকাবাসী দাবি করেছেন, ঘটনাটি দ্রুত তদন্ত করে দোষীদের বিচারের আওতায় আনা উচিত। তারা জেলা প্রশাসন, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও জেলা পুলিশ সুপারকে সতর্কতার সঙ্গে ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। এ ব্যাপারে স্থানীয় নাগরিক সমাজ ও মানবাধিকার কর্মীরাও সরজমিনে তথ্য সংগ্রহ করছেন।

এলাকাবাসীর মধ্যে যারা হামলার সময় উপস্থিত ছিলেন বা ঘটনার সঙ্গে জড়িত, তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন মোঃ লুৎফর রহমান, মোঃ আবু কাসেম মিয়া, মোঃ মাসুদ মিয়া, মোঃ মোফাজ্জল মিয়া, মোঃ রতন মিয়া, মোঃ মৌওলা মিয়া, মোঃ নূর আহাম্মদ, মোঃ রুকেল মিয়া, মোঃ রফিকুল ইসলাম, গোলাম সামদানী, শিক্ষিকা মোছাঃ শিল্প আক্তার, জেসমিন আক্তার, মরিয়ম বেগম, মোছাঃ মারিন আক্তার ও মোছাঃ আছিয়া খাতুন।

গ্রামের সাধারণ মানুষ ও সচেতন মহল আশা করছেন, প্রশাসন দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে গ্রামের শান্তি ফিরিয়ে আনবে। তারা বলেন, এই ধরনের সহিংসতা ও সন্ত্রাসী কার্যক্রমের কারণে গ্রামজুড়ে আতঙ্ক ছড়ায় এবং সাধারণ মানুষ দৈনন্দিন জীবনে সমস্যায় পড়ে।

এ ঘটনার মাধ্যমে আবারও সচেতন হতে হবে যে, স্থানীয় সম্পত্তি বিরোধ, ক্ষমতার অপব্যবহার ও জমি দখল নিয়ে সংঘর্ষ কোন পরিস্থিতিতেই সহ্য করা যায় না। গ্রাম্য শান্তি ও সহমর্মিতার পরিবেশ ফিরিয়ে আনার জন্য প্রশাসনের সক্রিয় ভূমিকা অত্যন্ত জরুরি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *