মোহাম্মদ হোসেন হ্যাপী:
নারায়ণগঞ্জ শহরের দীর্ঘদিনের যানজট নিরসন ও নগরবাসীর ভোগান্তি কমাতে চাষাঢ়া নারায়ণগঞ্জ মহিলা কলেজ থেকে দুই নম্বর রেলগেট পর্যন্ত প্রস্তাবিত বাইপাস সড়ক বাস্তবায়নের উদ্যোগ নতুন করে গতি পেয়েছে। রেল মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন মিললেই দ্রুত সময়ের মধ্যে সড়কটির নির্মাণকাজ শুরু করা হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) বেলা ১১টায় জেলা প্রশাসক মো. রায়হান কবির–এর সভাপতিত্বে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক সমন্বয় সভায় এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় জানানো হয়, প্রস্তাবিত বাইপাস সড়কটি রেলওয়ের জমির ওপর অবস্থিত হওয়ায় রেল মন্ত্রণালয়ের আনুষ্ঠানিক অনুমোদন প্রয়োজন।
রোববার রেজুলেশন, পাঠানো হবে চিঠি
সভায় সিদ্ধান্ত হয়, আগামী রোববার অনুষ্ঠিতব্য জেলার উন্নয়ন সভায় রেজুলেশন গ্রহণের মাধ্যমে রেল মন্ত্রণালয়ের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে ক্লিয়ারেন্স চেয়ে চিঠি পাঠানো হবে। অনুমোদন পাওয়া গেলে খুব দ্রুতই বাইপাস সড়কটির নির্মাণকাজ শুরু করা সম্ভব হবে।
সমন্বয় সভায় উপস্থিত ছিলেন
সমন্বয় সভায় উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সিনিয়র সহ-সভাপতি মোরশেদ সারোয়ার সোহেল, সহ-সভাপতি মোহাম্মদ আবু জাফর, পরিচালক সোহান আক্তার সোহেল, নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি রবিউর রাব্বি, নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নূর কুতুবুল আলম, নগর পরিকল্পনাবিদ মো. মঈনুল ইসলাম, নারায়ণগঞ্জ মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক আবুল কালাম আজাদ, সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের সহকারী প্রকৌশলী এবং রেলওয়ের প্রকৌশলীরা।
কারিগরি দিক ও সমাধান নিয়ে আলোচনা
সভায় প্রস্তাবিত সড়ক বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় কারিগরি দিক, নিরাপত্তা ও সম্ভাব্য প্রতিবন্ধকতা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলী ও কর্মকর্তারা বাস্তবসম্মত সমাধান এবং দ্রুত বাস্তবায়নের বিষয়ে মতামত প্রদান করেন।
ব্যবসায়ীদের প্রত্যাশা
এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সিনিয়র সহ-সভাপতি মোরশেদ সারোয়ার সোহেল বলেন,
“এই বাইপাস সড়কটি বাস্তবায়ন হলে নারায়ণগঞ্জ শহরের ভেতরের যানজট অনেকটাই কমে যাবে। প্রতিদিন লক্ষ লক্ষ মানুষ এই শহরে চলাচল করেন, কিন্তু সড়কের পরিমাণ সেই তুলনায় খুবই সীমিত। এই সড়ক চালু হলে শহরের যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজ হবে, ব্যবসা-বাণিজ্যে গতি আসবে এবং নাগরিক জীবনে স্বস্তি ফিরবে।”
তিনি আরও বলেন,
“কিছু মানুষের সাময়িক অসুবিধা হতে পারে, তবে লক্ষ মানুষের উপকারের জন্য আমাদের সবাইকে এই উদ্যোগের পাশে থাকতে হবে।”
আগেও পরিদর্শন ও মতবিনিময়
উল্লেখ্য, এর আগে গত ১৬ ডিসেম্বর নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক নারায়ণগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির প্রতিনিধিদের সঙ্গে নিয়ে প্রস্তাবিত বাইপাস সড়কটি সরেজমিনে পরিদর্শন করেন।
এছাড়া গত ২৭ অক্টোবর জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত রেল সেবার উন্নয়ন বিষয়ক মতবিনিময় সভায় রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব, বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক, জেলা প্রশাসক, সিটি করপোরেশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ নারায়ণগঞ্জের ব্যবসায়ী, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও নাগরিক প্রতিনিধিরা এই বাইপাস সড়ক চালুর বিষয়ে ইতিবাচক মতামত দেন।
নগরবাসীর স্বস্তির আশা
সংশ্লিষ্টরা জানান, রেল মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন পাওয়া গেলে নারায়ণগঞ্জ মহিলা কলেজ থেকে দুই নম্বর রেলগেট পর্যন্ত বাইপাস সড়কটি চালু হলে শহরের অভ্যন্তরীণ যানজট উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে। এতে নগরবাসীর চলাচল সহজ হওয়ার পাশাপাশি ব্যবসা-বাণিজ্যে গতি আসবে এবং নারায়ণগঞ্জ শহরের সামগ্রিক নাগরিক জীবনেও ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।