রুহুল আমিন নানা ভাই:
একজন সরকারি ইঞ্জিনিয়ার কীভাবে নিজের বেতনের সীমা অতিক্রম করে একাধিক পরিবারে বিলাসী জীবনযাপন করছেন, বিদেশে সন্তানদের পড়াশোনা করাচ্ছেন এবং একই সঙ্গে আরেকটি পরিবারকে চরম অবহেলা ও অভাবের মধ্যে ঠেলে দিচ্ছেন—এমন গুরুতর অভিযোগ তুলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি হৃদয়বিদারক আত্মকথা প্রকাশ করেছেন দোলা ইসলাম তানিয়া নামের এক নারী।
ফেসবুকে দেওয়া ওই লেখায় তিনি দাবি করেন, সংশ্লিষ্ট সরকারি ইঞ্জিনিয়ার সরকারি অর্থ আত্মসাৎ করে দুই পরিবারে বিলাসী জীবনযাপন করলেও তাকে এবং তার অসুস্থ সন্তানকে ন্যূনতম ভরণপোষণ ও চিকিৎসা থেকেও বঞ্চিত করছেন। একই সঙ্গে তিনি প্রাণনাশের হুমকিসহ নানা ধরনের ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগও এনেছেন।
দোলা ইসলাম তানিয়ার ফেসবুক পোস্ট অনুযায়ী, ওই সরকারি ইঞ্জিনিয়ার সরকারি টাকা চুরি করে অফিসে মিথ্যা তথ্য দিয়ে অসুস্থতার অজুহাতে ছুটি নেন এবং তৃতীয় স্ত্রীকে নিয়ে দেশ-বিদেশে ভ্রমণ করেন। অভিযোগে বলা হয়, তিনি পতিতা নিয়ে কক্সবাজারে ভ্রমণ করেছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। পাশাপাশি বড় মেয়েকে কানাডায় রেখে সেখানে অর্থ পাচার এবং স্থায়ীভাবে বসবাসের পরিকল্পনাও করছেন বলে দাবি করা হয়।
অভিযোগকারী নারী জানান, ওই ইঞ্জিনিয়ার তার বড় স্ত্রী ও তৃতীয় স্ত্রীকে নিয়ে বিলাসী জীবনযাপন করছেন। বড় সন্তানদের নামী-দামী স্কুলে পড়ানো হচ্ছে, বিদেশ ভ্রমণ, ব্যয়বহুল জীবনযাপন এবং কানাডায় বাড়ি কেনার মতো কর্মকাণ্ড চালানো হচ্ছে। অথচ প্রশ্ন উঠেছে—একজন সরকারি ইঞ্জিনিয়ারের বেতন কত হলে একই সঙ্গে দুই স্ত্রীর এমন বিলাসী জীবন চালানো সম্ভব?
ফেসবুক পোস্টে আরও উল্লেখ করা হয়, দ্বিতীয় স্ত্রী হিসেবে তিনি এবং তার সন্তান চরম অবহেলার শিকার। তার সন্তানের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা করানো হয়নি, যার ফলে একটি সুস্থ শিশু ধীরে ধীরে শারীরিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েছে। শিশুটি নিয়মিত খাবার, চিকিৎসা এবং সুস্থ পরিবেশ—কোনোটিই পায়নি বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
দোলা ইসলাম তানিয়ার ভাষ্য অনুযায়ী, সরকারি অর্থ আত্মসাৎ করে দুই স্ত্রীকে নিয়ে দেশ-বিদেশে ঘোরানো হলেও তার সন্তান চিকিৎসার অভাবে কষ্ট পাচ্ছে। তিনি দাবি করেন, কানাডায় বাড়ি ও অর্থ পাচারের বিষয়ে তার কাছে প্রমাণ রয়েছে।
সবচেয়ে উদ্বেগজনক অভিযোগগুলোর একটি হলো প্রাণনাশের হুমকি। তিনি লিখেছেন, ওই ইঞ্জিনিয়ার ও তার দুই স্ত্রী তাকে নিয়মিত হুমকি দিচ্ছেন—খুন করা, গুম করার ভয় দেখানো হচ্ছে। তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন, ভবিষ্যতে তার বা তার সন্তানের কোনো ক্ষতি হলে এর সম্পূর্ণ দায় ওই ইঞ্জিনিয়ার, তার দুই স্ত্রী এবং তার স্বামী হিসেবে পরিচিত ওই ইঞ্জিনিয়ারের ওপর বর্তাবে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, তিনি বর্তমানে একা বসবাস করছেন। দীর্ঘদিন ধরে কেউ তার খোঁজ নেয় না। সব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও যোগাযোগের পথ থেকে তাকে ব্লক করে রাখা হয়েছে। দিনের পর দিন তিনি আতঙ্কের মধ্যে জীবনযাপন করছেন এবং যেকোনো সময় বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা করছেন।
ফেসবুক পোস্টে শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগও রয়েছে। তিনি দাবি করেন, কিছুদিন আগে তাকে গাঁজাখোর লোক দিয়ে মারধর করানো হয়েছে এবং সেই ঘটনার সঙ্গে ওই ইঞ্জিনিয়ারের সরাসরি সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। পাশাপাশি তৃতীয় স্ত্রী মাঝেমধ্যে তার বাসায় লোক পাঠিয়ে তালা ভাঙার চেষ্টা করেছে বলেও অভিযোগ করা হয়।
এই অভিযোগগুলো সামনে আসার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেকেই বিষয়টির নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেছেন এবং সরকারি কর্মকর্তা হয়েও কীভাবে একজন ব্যক্তি এভাবে একাধিক পরিবারে বিলাসী জীবনযাপন করতে পারেন—সে প্রশ্ন তুলেছেন।
তবে এ বিষয়ে অভিযুক্ত ইঞ্জিনিয়ার বা তার পরিবারের পক্ষ থেকে এখনো কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকেও এ নিয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।
ভুক্তভোগী নারী প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচারের দাবি জানিয়েছেন। তার ভাষায়, “আমি শুধু আমার সন্তানকে বাঁচাতে চাই। সরকারি ক্ষমতা ও অর্থের দাপটে যেন আর কোনো মা ও শিশু এমন অবহেলার শিকার না হয়।”