মোহাম্মদ হোসেন হ্যাপী:
নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার কালীরবাজার এলাকায় সোমবার (১৯ জানুয়ারি) ওষুধ প্রশাসনের উদ্যোগে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়েছে। বেলা ১২টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত চলা এই অভিযানে বিভিন্ন ওষুধের দোকানে একাধিক অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া যায়, যার কারণে পাঁচটি প্রতিষ্ঠানকে অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়েছে।
জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সোহা তাবিনের নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে পুলিশের একটি টিম সার্বিক সহযোগিতা করেছে। অভিযানের প্রসিকিউশন প্রদান করেন জেলা ওষুধ তত্ত্বাবধায়ক সাইফুল্লাহ মাহমুদ।
ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে যেসব অনিয়ম ধরা পড়ে, তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো—অনিবন্ধিত প্রেগন্যান্সি স্টিক মজুত ও বিক্রি, বিক্রয় নিষিদ্ধ ওষুধ সংরক্ষণ, অনিবন্ধিত ওষুধ বিক্রি, মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ মজুত ও বিক্রি এবং বৈধ ড্রাগ লাইসেন্স না থাকা। এসব লঙ্ঘনের দায়ে জরিমানা প্রদান করা হয়।
অভিযান শেষে জরিমানাপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানগুলো হলো—সাফি ড্রাগ হাউজ, আদিবা ফার্মেসি, খোরশেদা ফার্মেসি, জয়নব ফার্মেসি; প্রত্যেককে ৩ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। এছাড়া বিসমিল্লাহ সার্জিকেল-কে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
অভিযানের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর কালীরবাজারের অনেক ওষুধের দোকান সাময়িকভাবে বন্ধ করে দোকানমালিকরা হঠাৎ পরিস্থিতিতে সটকে পড়েন, জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
জেলা ওষুধ তত্ত্বাবধায়ক সাইফুল্লাহ মাহমুদ বলেন, “জনস্বাস্থ্যের সঙ্গে কোনো ধরনের আপস করা হবে না। অনিবন্ধিত, মেয়াদোত্তীর্ণ বা বিক্রয় নিষিদ্ধ ওষুধ মানুষের জন্য মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ। যারা নিয়ম না মেনে ব্যবসা পরিচালনা করছেন, তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
তিনি আরও বলেন, “জনস্বার্থ রক্ষায় এ ধরনের অভিযান নিয়মিতভাবে পরিচালনা করা হবে। আমাদের লক্ষ্য, প্রতিটি ওষুধ বিক্রেতা যেন আইন মেনে ওষুধ ব্যবসা পরিচালনা করে এবং সাধারণ মানুষ সুরক্ষিত ওষুধের সুবিধা পায়।”
স্থানীয়রা আশা প্রকাশ করেছেন যে, এই অভিযান ভবিষ্যতে সকল অনিয়ম বন্ধে কার্যকর ভূমিকা রাখবে এবং সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় সহায়ক হবে।