ঢাকা ৫ আসনে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে নবীউল্লাহ নবীর মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত

হাসান আলী:

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ঢাকা–০৫ সংসদীয় আসনে নির্বাচনী তৎপরতা জোরদার করেছে বিএনপি। এরই ধারাবাহিকতায় নির্বাচনী প্রচারণার অংশ হিসেবে জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ডেমরা ও যাত্রাবাড়ী এলাকার বীর মুক্তিযোদ্ধাদের অংশগ্রহণে আয়োজিত এ সভা নির্বাচনী রাজনীতিতে ভিন্নমাত্রা যোগ করেছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা–০৫ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী আলহাজ্ব । তিনি বক্তব্যে বলেন, বীর মুক্তিযোদ্ধাদের আত্মত্যাগ ও অবদানের কারণেই বাংলাদেশ একটি স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। তাদের আদর্শ ও চেতনাকে ধারণ করেই দেশের রাজনীতি ও রাষ্ট্র পরিচালনা করা উচিত। তিনি আরও বলেন, “আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন দেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জনগণের ভোটাধিকার নিশ্চিত করা এবং গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠাই আমাদের প্রধান লক্ষ্য।”

প্রার্থী নবীউল্লাহ নবী বলেন, একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমেই জনগণের প্রকৃত প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা সম্ভব। তিনি বীর মুক্তিযোদ্ধাদের দিকনির্দেশনা ও সমর্থনকে নিজের রাজনৈতিক পথচলার জন্য গুরুত্বপূর্ণ শক্তি হিসেবে উল্লেখ করেন এবং ভবিষ্যতে এলাকার উন্নয়ন ও জনস্বার্থ রক্ষায় কাজ করার আশ্বাস দেন।

সভায় সভাপতিত্ব করেন বীর মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার নজরুল ইসলাম। সভাপতির বক্তব্যে তিনি বলেন, “বীর মুক্তিযোদ্ধারা শুধু স্বাধীনতা যুদ্ধেই নয়, স্বাধীনতার পর দেশ গঠন ও গণতন্ত্র রক্ষার আন্দোলনেও সবসময় সচেতন ভূমিকা পালন করে আসছেন।” তিনি আশা প্রকাশ করেন, আগামী নির্বাচনে জনগণের রায় সঠিকভাবে প্রতিফলিত হবে এবং দেশ একটি গণতান্ত্রিক ধারায় এগিয়ে যাবে।

অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন বীর মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার শহীদ বাবলু। তিনি সভার শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত আলোচনার ধারাবাহিকতা বজায় রাখেন এবং উপস্থিত মুক্তিযোদ্ধাদের বক্তব্য উপস্থাপনের সুযোগ করে দেন।

মতবিনিময় সভায় ডেমরা ও যাত্রাবাড়ী এলাকার বীর মুক্তিযোদ্ধারা জাতীয় ও স্থানীয় বিভিন্ন বিষয়ে নিজেদের মতামত তুলে ধরেন। তারা বলেন, নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের অবশ্যই জনগণের কল্যাণে কাজ করতে হবে এবং উন্নয়ন কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে তারা মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ও চেতনা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের মাঝে ছড়িয়ে দেওয়ার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন।

সভা শেষে বীর মুক্তিযোদ্ধারা দেশ ও জনগণের স্বার্থে দায়িত্বশীল নেতৃত্ব নির্বাচনের প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করেন এবং আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সচেতন ভূমিকা পালনের অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে এ ধরনের মতবিনিময় সভা নির্বাচনী মাঠে প্রার্থীর অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করতে পারে। একই সঙ্গে এটি নির্বাচনী প্রচারণায় মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধকে সামনে আনার একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *