রাজুকের নিয়মনীতি তোয়াক্কা না করে বহুতল ভবন নির্মাণ করছেন এমদাদুল হক ফেরদৌস

রাজধানীর দক্ষিণ যাত্রাবাড়ী শেখের পাড়া এলাকায় রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) এর নিয়ম লঙ্ঘন করে বহুতল ভবন নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে ইসলামী চিন্তাবিদ ইমদাদুল হক ফেরদৌসের বিরুদ্ধে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, প্রভাবশালী এই ব্যক্তি রাজউক কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করে প্রকাশ্যে অনিয়ম করছেন।
যাত্রাবাড়ী থানাধীন শেখের পাড়া এলাকার ২৪৯/এ নম্বর সড়কে আমির হোসেনের বাড়ির পাশে নির্মাণাধীন এই ভবনটি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, নির্মাণ কাজ শুরুর আগে যথাযথ অনুমোদন নেওয়া হয়নি এবং ভবনটির নকশা রাজউকের বিধিমালা পরিপন্থী।
এলাকাবাসীদের অভিযোগ, ফেরদৌস সাহেব একজন ইসলামী চিন্তাবিদ ও সমাজসেবক হিসেবে পরিচিত হলেও তিনি নিজেই অনিয়মের আশ্রয় নিয়েছেন। “যিনি মানুষকে সৎ পথে চলার উপদেশ দেন, তিনি নিজেই কীভাবে এমন অনিয়ম করতে পারেন?” – প্রশ্ন তুলেছেন এক প্রতিবেশী।
রাজধানীতে অপরিকল্পিত নগরায়ণ ও বিল্ডিং কোড লঙ্ঘন একটি পুরনো সমস্যা। রাজউক সূত্রে জানা যায়, অনেক ক্ষেত্রে প্রভাবশালীরা কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগসাজশ করে নিয়ম ভঙ্গ করে ভবন নির্মাণ করেন। এতে একদিকে যেমন নগরের পরিকল্পিত উন্নয়ন ব্যাহত হয়, অন্যদিকে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি বাড়ে।
আমির হোসেনসহ আশপাশের বাড়ির মালিকরা জানান, নির্মাণাধীন ভবনটি তাদের বাড়ির অত্যন্ত কাছাকাছি হওয়ায় তাদের আলো-বাতাসের ব্যাঘাত ঘটছে। এছাড়া নির্মাণ সামগ্রী রাস্তায় রেখে যাতায়াতেও সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছে।
স্থানীয় একজন সমাজকর্মী বলেন, “রাজউকের উচিত এই ধরনের অবৈধ নির্মাণ অবিলম্বে বন্ধ করা। আইন সবার জন্য সমান হওয়া উচিত। কেউ প্রভাবশালী বলে ছাড় পাবেন, এটা গ্রহণযোগ্য নয়।”
এ বিষয়ে রাজউকের একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “আমরা বিষয়টি খতিয়ে দেখব। যদি কোনো অনিয়ম পাওয়া যায়, তাহলে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” তবে তিনি স্বীকার করেন যে, প্রভাবশালীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে অনেক সময় প্রশাসনিক জটিলতার সম্মুখীন হতে হয়।
নগর পরিকল্পনাবিদরা বলছেন, ঢাকা শহরে এ ধরনের অনিয়ম বন্ধ না হলে নগরের সুষম উন্নয়ন সম্ভব নয়। রাজউকের উচিত কঠোর হস্তে এসব অনিয়ম দমন করা এবং দায়ী কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া।
এদিকে, ইমদাদুল হক ফেরদৌসের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। স্থানীয় বাসিন্দারা দাবি করেছেন, যত দ্রুত সম্ভব এই অবৈধ নির্মাণ বন্ধ করা হোক এবং ভবিষ্যতে যেন এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি না হয় সে ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হোক।
রাজধানীবাসী এখন অপেক্ষা করছে, এবারও কি প্রভাবশালীদের ছাড় দেওয়া হবে, নাকি আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *