মিতালী স্কুলের পাশে সরকারি ট্রাক সেলে গ্রাহক সেবা নিশ্চিত; সাংবাদিক আনজারের উপস্থিতিতে স্বচ্ছ বিক্রয়

মোঃ আনজার শাহ:

রাজধানীর টিকাটুলী এলাকার মিতালী স্কুলের পাশে খাদ্য অধিদপ্তর কর্তৃক পরিচালিত সরকারি ট্রাক সেলে গতকাল শনিবার (০১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) গ্রাহকরা সুষ্ঠু ও নিরবচ্ছিন্ন সেবা পেয়েছেন। দৈনিক স্বাধীন সংবাদ পত্রিকার সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার মোহাম্মদ আনজার শাহ ও সংশ্লিষ্ট তদারককারীর উপস্থিতিতে সারাদিন স্বচ্ছতার সঙ্গে খাদ্যপণ্য বিক্রয় কার্যক্রম পরিচালিত হয়।
খাদ্য মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত এই ট্রাক সেল কার্যক্রমে দিনের শুরুতে ১,৫০০ কেজি চাল এবং ২,০০০ কেজি আটা নিয়ে বিক্রয় শুরু হয়। সরকার নির্ধারিত ভর্তুকি মূল্যে প্রতি কেজি চাল ৩০ টাকা এবং আটা ২৬ টাকা দরে সাধারণ ক্রেতাদের কাছে খাদ্যপণ্য বিক্রি করা হয়। প্রতিজন ক্রেতা সর্বোচ্চ ৫ কেজি করে চাল অথবা আটা ক্রয়ের সুযোগ পান।
দিনব্যাপী বিক্রয় শেষে হিসাব অনুযায়ী মোট ৮৮০ কেজি চাল এবং ৯৩০ কেজি আটা বিক্রি হয়। বিক্রয় কার্যক্রম শেষে অবশিষ্ট ছিল ৭০ কেজি চাল এবং ১,২২০ কেজি আটা। সন্ধ্যা ৫টায় তদারককারী সাংবাদিক মোহাম্মদ আনজার শাহসহ উপস্থিত সকলকে ব্যালেন্সশিট প্রদর্শন করে হিসাবের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করেন।
ডিলার মোহাম্মদ রাজু হাওলাদারের (ঠিকানা: ১৩/১, কে এম দাস লেন, টিকাটুলী; মোবাইল: ০১৮৬৮-৬০৫৪৫১) পরিচালনায় ট্রাক সেল কেন্দ্রটি পরিচালিত হয়। তিনি জানান, সকাল থেকেই ক্রেতাদের ব্যাপক উপস্থিতি ছিল এবং সবাই সুশৃঙ্খলভাবে খাদ্যপণ্য ক্রয় করতে পেরেছেন।
অবশিষ্ট মালামাল সম্পর্কে জানতে চাইলে সংশ্লিষ্ট তদারককারী জানান, রাত ৯টার মধ্যে পরবর্তী ট্রাক সেল কোথায় বসানো হবে তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নির্ধারণ করবে। এ বিষয়ে সাংবাদিক মোহাম্মদ আনজার শাহকে অবহিত করা হবে বলেও তিনি নিশ্চিত করেন।
উল্লেখ্য, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির এই সময়ে সাধারণ মানুষের কাছে সাশ্রয়ী মূল্যে খাদ্যপণ্য পৌঁছে দিতে সরকার ট্রাক সেল কার্যক্রম পরিচালনা করছে। খাদ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় নিয়মিত এ কার্যক্রম চালু রয়েছে এবং সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে স্বচ্ছতার সঙ্গে বিক্রয় কার্যক্রম সম্পন্ন করা হচ্ছে।
এদিকে স্থানীয়দের অভিযোগ, অনেক এলাকায় সাংবাদিকদের উপস্থিতি না থাকলে বিকেল ৫টার আগেই সব চাল ও আটা বিক্রি হয়ে গেছে বলে দেখানো হয়। ফলে প্রশ্ন উঠেছে, অন্যান্য ওয়ার্ডে ট্রাক সেল কার্যক্রমে কীভাবে এত দ্রুত খাদ্যপণ্য শেষ হয়ে যাচ্ছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।
খাদ্য অধিদপ্তর ও খাদ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে যেকোনো অনিয়ম বা অভিযোগ জানাতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে যোগাযোগ করার জন্য সাধারণ জনগণকে অনুরোধ জানানো হয়েছে। সরকারি এই উদ্যোগ সাধারণ মানুষের মধ্যে ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *