রাবিতে গণভোট বিষয়ক অনুষ্ঠানে হঠাৎ মাইকে ‘ফ্যাসিস্ট’ শিক্ষকদের নাম ঘোষণা আম্মারের

মো: নুরে ইসলাম মিলন, রাজশাহী ব্যুরো:

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে গণভোট বিষয়ক জনসচেতনতামূলক মতবিনিময় সভায় হঠাৎ ক্ষুব্ধ হয়ে কয়েকজন ‘ফ্যাসিস্ট শিক্ষকের’ নাম ঘোষণা করেছেন রাকসুর সাধারণ সম্পাদক (জিএস) সালাহউদ্দিন আম্মার। অনুষ্ঠানে আওয়ামীপন্থী শিক্ষকরা বক্তব্য রাখায় এবং উপস্থিত থাকায় তিনি এ ক্ষোভ প্রকাশ করেন। এ সময় আম্মার বলেন, “অনুষ্ঠানের সৌন্দর্য তো তখনই নষ্ট হয়েছে, যখন ফ্যাসিস্টদের সামনে বসিয়ে গণভোটের আলোচনা করা হচ্ছে। এখানে ১৬১ জন শিক্ষকের নাম আছে। এটা আমাকে বলতে দিতে হবে।”

সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) দুপুর সাড়ে ১২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় এবং বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) যৌথ আয়োজনে গণভোট বিষয়ক মতবিনিময় সভায় এ ঘটনা ঘটে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক ড. আলী রিয়াজ।

বিশ্ববিদ্যালয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, সিনেট ভবনে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (রুয়েট), বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়সহ ১৩টি সরকারি-বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের নিয়ে এ সভার আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষক ও বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক খাদেমুল ইসলাম মোল্ল্যা। তাঁর বক্তব্যের পরই অনুষ্ঠানে উপস্থিত হন সালাহউদ্দিন আম্মার। তিনি কিছু কাগজ হাতে মঞ্চের সামনে এসে সঞ্চালক ও রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ইফতিখারুল আলম মাসউদের নিকট বক্তব্য দেওয়ার জন্য এক মিনিট সময় চান।

সঞ্চালক অনুরোধ ফিরিয়ে দিলে আম্মার অনুষ্ঠানের সভাপতি ও রাবি উপাচার্য অধ্যাপক সালেহ্ হাসান নকীবের কাছে অনুরোধ করেন। উপাচার্য সম্মতি দিলে আম্মার তাঁর বক্তব্যে বলেন, “এখানে এমনও মানুষ বসে আছে যারা জুলাইয়ে নীরব ছিল। তারা আমাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ন্যারেটিভ তৈরি করেছে। এর মধ্যে পুণ্ড্র ও বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসিও আছেন।” এরপর তিনি জুলাই গণঅভ্যুত্থানে বিরোধিতাকারী ১৬১ জন শিক্ষকের তালিকা থেকে নাম প্রকাশ করতে শুরু করেন।

সঞ্চালক তাঁকে বাধা দিয়ে বলেন, “আম্মার, অনুষ্ঠানের সৌন্দর্য নষ্ট হচ্ছে।” প্রতিউত্তরে আম্মার বলেন, “সৌন্দর্য তখনই নষ্ট হয়েছে যখন ফ্যাসিস্টদের সামনে রাখা হয়েছে। আমাকে নাম বলতে না দিলে জুলাইয়ে আহত ও শহীদ পরিবারের সবাইকে নিয়ে অনুষ্ঠান থেকে বের হয়ে যাব।” একপর্যায়ে উপাচার্য নিজে এসে আম্মারকে শান্ত করেন এবং অনুষ্ঠান শেষে তাঁর কাগজপত্র জমা দিতে বলেন। উপাচার্যের আশ্বাসে আম্মার সেখান থেকে চলে যান।

মতবিনিময় সভা শেষে সালাহউদ্দিন আম্মার ওই মঞ্চেই সংবাদ সম্মেলন করেন। সেখানে তিনি ১৬১ জন শিক্ষকের তালিকা প্রকাশ করেন এবং জুলাইয়ের দিনগুলোতে তাঁদের বিতর্কিত ভূমিকার অভিযোগ তোলেন। এছাড়া আগামী ৫ ফেব্রুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কাউন্সিলের সভায় ওই শিক্ষকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে সভার বাইরে অবস্থান কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দেন তিনি।

তালিকায় থাকা উল্লেখযোগ্য শিক্ষকদের মধ্যে রয়েছেন— সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক গোলাম সাব্বির সাত্তার, সাবেক সহ-উপাচার্য অধ্যাপক সুলতান-উল-ইসলাম ও অধ্যাপক হুমায়ুন কবীর, সাবেক কোষাধ্যক্ষ ওবায়দুর রহমান প্রামাণিক, সাবেক প্রক্টর অধ্যাপক আসাবুল হক, সাবেক ছাত্র উপদেষ্টা অধ্যাপক জাহাঙ্গীর আলম, অধ্যাপক খাদেমুল ইসলাম মোল্ল্যা, শিক্ষক সমিতির বর্তমান সভাপতি হাবিবুর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক ওমর ফারুক সরকার প্রমুখ।

সংবাদ সম্মেলনে আম্মার অভিযোগ করেন, এই শিক্ষকরা জুলাই আন্দোলনে বিরোধী পক্ষকে অর্থায়ন, শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে অবস্থান এবং পুলিশের হামলার মদদ দেওয়ার মতো কাজ করেছেন। তিনি বলেন, “৫ ফেব্রুয়ারির সভায় এই ১৬১ জন শিক্ষকের বিচারের সিদ্ধান্ত না আসলে আমরা সভা শেষ হতে দেব না।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *