(নওগাঁ জেলা সংবাদদাতা) :
প্রকৃতি যেন তার রূপের ডালি সাজিয়ে বসেছে নওগাঁর পত্নীতলায়। চারপাশ সবুজ মাঠে ঢেকে থাকা এই অঞ্চলে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে হাজার হাজার সূর্যমুখী ফুল। বাতাসে দোল খেতে খেতে সূর্যের দিকে মুখ করা এই ফুলের সৌন্দর্য এখন স্থানীয়দের মুগ্ধতা ছড়াচ্ছে। বিশেষ করে উপজেলার মোবারকপুর বাজার সংলগ্ন আলোহা স্কুলের সামনের বাগানটি এখন বিনোদনপ্রেমীদের অন্যতম গন্তব্যস্থল।
সৌন্দর্যের মোহনায় মোবারকপুর
হলুদ রঙের এই বিশাল গালিচা দেখতে প্রতিদিন ভিড় করছে শত শত মানুষ। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত সব বয়সী মানুষের পদচারণায় মুখরিত থাকছে এলাকাটি। শুধু স্থানীয়রাই নয়, দূর-দূরান্ত থেকেও ফুল-প্রেমীরা আসছেন এই অপরূপ দৃশ্য উপভোগ করতে।
স্মৃতি যখন ফ্রেমে বন্দি
তরুণ-তরুণীদের মাঝে সূর্যমুখী ফুলের সাথে ছবি ও সেলফি তোলার হিড়িক পড়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও এখন পত্নীতলার এই সূর্যমুখী বাগানের জয়জয়কার চলছে।
পরিবেশ ও আমেজ
বিকেলের নরম আলোয় যখন বাগানটি সোনালী রূপ ধারণ করে, তখন সেখানে এক অপার্থিব পরিবেশ তৈরি হয়। অনেকেই পরিবার নিয়ে আসছেন প্রকৃতির সান্নিধ্যে কিছুটা সময় কাটাতে।
পর্যটনের নতুন সম্ভাবনা
আঞ্চলিক এই ছোট অঞ্চলটি এখন যেন একটি উন্মুক্ত বিনোদন কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, এই বাগানের কারণে মোবারকপুর বাজার এলাকা আগের চেয়ে অনেক বেশি প্রাণবন্ত হয়ে উঠেছে।
“সূর্যমুখী মানেই যেন একরাশ আনন্দ। আলোহা স্কুলের সামনে এই হলুদের সমারোহ দেখে চোখ ফেরানো যাচ্ছে না। এমন দৃষ্টিনন্দন বাগান আমাদের এলাকায় আরও হওয়া উচিত।”
— একজন নিয়মিত দর্শনার্থী
কৃষিতে নতুন মাত্রা
সৌন্দর্য ছড়ানোর পাশাপাশি সূর্যমুখী চাষে আগ্রহী হচ্ছেন স্থানীয় কৃষকরাও। কম খরচে লাভজনক এই ফসল যেমন তেলের চাহিদা মেটাচ্ছে, তেমনি এলাকার নান্দনিকতাও বৃদ্ধি করছে। কৃষি কর্মকর্তাদের মতে, পত্নীতলার মাটি ও আবহাওয়া সূর্যমুখী চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী।