রাজউকের নির্দেশনা উপেক্ষা করে সিদ্ধেশ্বরীতে বহুতল ভবন নির্মাণ করছে এল ডোরাডো ডেভেলপমেন্ট

স্টাফ রিপোর্টার:

রাজধানীর সিদ্ধেশ্বরী সুধি সমাজ এলাকায় হোল্ডিং নং ১২/খ/৩-এ অবৈধভাবে একটি ভবন নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এই নির্মাণ কাজটি পরিচালনা করছে এল ডোরাডো ডেভেলপমেন্ট, যার চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ। তিনি নিজে রাজধানীর রাজবাড়ি এলাকায় বসবাস করেন।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, ভবনটির পেছনের অংশে পর্যাপ্ত খোলা স্থান রাখা হয়নি, যা সরাসরি রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক)-এর স্থাপত্য ও নিরাপত্তা বিধিনিষেধের পরিপন্থী। সূত্ররা জানায়, এল ডোরাডো ডেভেলপমেন্ট নির্মাণ কাজ চালাতে গিয়ে রাজউকের কোনো নিয়ম বা নির্দেশনার প্রতি মনোযোগ দেয়নি।

একজন স্থানীয় বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “আমরা বহুবার রাজউকে অভিযোগ করেছি, কিন্তু কোনো পদক্ষেপ নেই। ভবনের নকশা এমনভাবে করা হয়েছে যাতে খোলা স্থান খুব কম থাকে, যা ভবিষ্যতে আগুন, জরুরি সেবা বা গ্যাস লাইনের জন্য বিপদজনক হতে পারে।”

নির্মাণকাজে নিরাপত্তা মান ও খোলা স্থান কম রাখার কারণে আশেপাশের এলাকায় বসবাসকারীরা আতঙ্কিত। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, ভবনটির নির্মাণকালে জমি সংলগ্ন খাল বা ফুটপাত ব্যবহার করা হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নজরদারি যথেষ্ট নেই।

রাজউকের নিয়ম অনুযায়ী, যে কোনো বহুতল ভবন নির্মাণের জন্য পর্যাপ্ত খোলা স্থান, জরুরি বাহিনী এবং সিভিল সেবা সংযোগ নিশ্চিত করতে হয়। কিন্তু সিদ্ধেশ্বরীর এই প্রকল্পে তা মেনে চলা হচ্ছে না। এলাকায় পরিদর্শন করলে দেখা যায়, ভবনটি নির্মাণের শেষ পর্যায়ে পৌঁছেছে, কিন্তু নিরাপত্তা ব্যবস্থা, ফায়ার এক্সেস রোড এবং খোলা স্থান নিশ্চিত করা হয়নি।

রাজউকের একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “যদি এটি সত্যি হয়, তাহলে এল ডোরাডো ডেভেলপমেন্ট নিয়ম ভঙ্গ করেছে এবং আমাদের নোটিশ জারি করা উচিত। সাধারণত এমন ক্ষেত্রে নির্মাণ সাময়িকভাবে বন্ধ করে দিয়ে নকশা সংশোধনের নির্দেশ দেওয়া হয়।”

উল্লেখ্য, এল ডোরাডো ডেভেলপমেন্টের চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ এখনও এই অভিযোগের বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেননি।

এলাকার বাসিন্দারা আশঙ্কা করছেন, রাজনৈতিক প্রভাব বা প্রভাবশালী পরিচিতির কারণে প্রতিষ্ঠানটি আইনের আওতার বাইরে থাকতে পারে। তারা মনে করছেন, এই অবৈধ নির্মাণ শুধু স্থাপত্য নীতি লঙ্ঘন করছে না, বরং এলাকার মানুষের নিরাপত্তা ও জীবনযাত্রার ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে।

বাসিন্দারা দাবি করছেন, প্রশাসন দ্রুত পদক্ষেপ নিক এবং ভবনের নকশা ও নির্মাণ কার্যক্রম তদারকি করা হোক। তারা বলেন, “আমরা চাই এল ডোরাডো ডেভেলপমেন্ট কর্তৃপক্ষ রাজউকের নির্দেশনা মেনে ভবন নির্মাণ সম্পন্ন করুক, নয়তো আমরা আইনানুগ পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হব।”

নির্মাণ খাতে নিয়মের অবহেলা এবং প্রভাবশালীদের অনিয়ম চিহ্নিত করার ক্ষেত্রে এই ঘটনা একটি সতর্কবার্তা হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে। আশেপাশের এলাকায় নিরাপত্তা, যান চলাচল এবং জনজীবনের ওপর এর প্রভাব নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পদক্ষেপ জরুরি হয়ে পড়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *