সাতক্ষীরা প্রতিনিধি:
আন্তর্জাতিকভাবে প্রবীণদের অধিকার দলিলীকরণে আলোচনায় জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকিতে থাকা উপকূলের প্রবীণদের অবস্থা বিবেচনায় আনতে হবে।
গতকাল (৭ মার্চ) শনিবার, বয়স্কদের মানবাধিকার সুরক্ষায় একটি আন্তর্জাতিক আইনগতভাবে বাধ্যতামূলক দলিল (জাতিসংঘ কনভেনশন) প্রণয়নের লক্ষ্যে ইউএন মানবাধিকার পরিষদ কর্তৃক গঠিত ‘আন্তঃসরকার ওয়ার্কিং গ্রুপের (আইজিডব্লিউজিই)’ ইউএন ভবনের প্রথম সভায় প্রবীণদের অধিকারের পক্ষের মানবাধিকার কর্মী হিসেবে অংশগ্রহণের অভিজ্ঞতা বিনিময় সভায় আশেক-ই-এলাহী আরও বলেন, বিশ্বব্যাপী জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে উপকূলে যে সংকট তৈরি হচ্ছে সেটি একটি মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা। প্রবীণ ব্যক্তিদের মানবাধিকার সংরক্ষণে আইনের দলিল প্রণয়নের ওয়ার্কিং গ্রুপকে বিষয়টি অবশ্যই বিবেচনায় আনতে হবে—এ বিষয়টি উপস্থাপন করা হয়।
উপকূলকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে ওয়ার্কিং গ্রুপের সকল জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ের আলোচনায় উপকূলের প্রবীণদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার দাবি করা হয়।
সাতক্ষীরা জিরো পেইন ক্লাব কর্তৃক আয়োজিত সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রবীণ বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যক্ষ সুভাষ সরকার। সভায় স্বাগত বক্তব্য দেন জিরো পেইন ক্লাবের সভাপতি অধ্যক্ষ পবিত্র মোহন দাশ। কবি এস. এম. তুহীনের সঞ্চালনায় সভায় অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট চিকিৎসক ও প্রবীণ কল্যাণ সংস্থার সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা ডা. সুশান্ত ঘোষ, সাতক্ষীরা সরকারি মহিলা কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ প্রফেসর আব্দুল হামিদ, জেলা নাগরিক কমিটির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট আজাদ হোসেন বেলাল, প্রথম আলোর স্টাফ রিপোর্টার বিশিষ্ট সাংবাদিক কল্যাণ ব্যানার্জী, সাতক্ষীরা আলিয়া মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মুফতি ড. আখতারুজ্জামান এবং বিশিষ্ট ব্যবসায়ী জাকির হোসেন লস্কর শেলী।
অন্যান্যদের মধ্যে আলোচনায় অংশ নেন স্বদেশের নির্বাহী প্রধান মাধব দত্ত, জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের সভাপতি ফরিদা আক্তার বিউটি, সহকারী অধ্যাপক নূর মোহাম্মদ পাড়, বাসদ নেতা নিত্যানন্দ সরকার, অর্জন ফাউন্ডেশনের নির্বাহী মহুয়া মঞ্জুরী, আরার নির্বাহী প্রধান আবুল কালাম আজাদ, ব্যাংকার মোফাখার হোসেন, উদীচীর সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান, জিরো পেইন ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ হোসেন আলী প্রমুখ।
সভায় বীর মুক্তিযোদ্ধা ডা. সুশান্ত ঘোষকে কনভেনার করে একটি ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠন এবং দাবির সাথে স্থানীয় নাগরিক সমাজ, জনপ্রতিনিধি, প্রশাসন ও সরকারের নীতি নির্ধারকদের সংহতি তৈরি করে ইউএন কমিটির কাছে বাংলাদেশের পক্ষে লবিং প্ল্যাটফর্ম গঠন করা হয়।
উল্লেখ্য, আশেক-ই-এলাহী (নির্বাহী প্রধান, প্রগতি) এশিয়ার একমাত্র প্রতিনিধি হিসেবে ইউএন মানবাধিকার কমিশনের আন্তঃসরকারীয় ওয়ার্কিং গ্রুপের প্রথম সভায় অংশ নেন।