মোঃ হাসান আলী:
দীর্ঘদিন ধরে এই বেআইনি কাজটি করা হচ্ছে, অথচ তা প্রতিরোধে কারও কোনো উদ্যোগ নেই।
শনিবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সাগরদিঘী ইউনিয়নের জোড়দিঘী, ফুলমালির চালা ও মালিরচালা গ্রামে বন বিভাগের জমিতে আল-আমিন এবং শরীফ নামে দুই ব্যক্তি দুটি করে হ্যাচারি ও পোলট্রি ফার্ম করছেন।
এ বিষয়ে তাদের কাছে জানতে গেলে তারা বলেন, বিট কর্মকর্তা এবং কর্মচারীদের মোটা অঙ্কের টাকা দিলেই তারা বনের জায়গা দখল করার অনুমতি দিয়ে দেন।
তবে গত কয়েক বছরে বনের জায়গায় ঘর তোলার সংখ্যা বেড়েছে। সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, গত আট বছরে নতুন করে দুই শতাধিক বাড়ি নির্মাণ করা হয়েছে। সব মিলিয়ে প্রায় চার হাজার বাড়ি রয়েছে বনের জায়গায়।
এভাবে বাড়ি নির্মাণ করার কারণে এই ইউনিয়নে বন বিভাগের প্রায় চার ভাগের তিন ভাগ জমি বেদখলে চলে গেছে।
স্থানীয় লোকজন যারা ঘর নির্মাণ করেছেন, তারা বলেন ঘর তোলার ক্ষেত্রে টাকার বিনিময়ে তাদের সহযোগিতা করছেন বন বিভাগেরই কর্মচারী ও ক্ষমতাসীন দলের নেতারা।
এর চেয়ে হতাশাজনক খবর আর কী হতে পারে? খোদ বন বিভাগের লোকজনই যদি এই অবৈধ কাজে সহযোগিতা করেন, তাহলে দখলদারদের কে ঠেকাবে? এ তো শর্ষেতেই ভূত।
অবশ্য এমন ঘটনা যে এই প্রথমবার ঘটেছে, এমনটি নয়। অতীতেও অনেকবার ঘটেছে। দেশের বিভিন্ন স্থানে বন বিভাগের জমি দখল করে বাড়ি নির্মাণ ছাড়াও শিল্পপ্রতিষ্ঠান, মৎস্য খামার, হ্যাচারি ও পোলট্রি ফার্ম গড়ে তোলা হয়েছে। নির্মাণ করা হয়েছে সড়ক। বনের জমি দখল করতে কোটি কোটি টাকার গাছ আগুনে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়েছে। আর এসব কাজ করা হয়েছে বন বিভাগের লোকজনের মদদেই।
বনের জায়গায় ঘরবাড়ি নির্মাণের বিষয়গুলো নিয়ে সাগরদিঘী বিট কর্মকর্তা মেঃ আবু ইউনুসের সাথে কোনো যোগাযোগ করা যায়নি। একাধিকবার ফোন দেওয়ার পরেও তার কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে ধলাপাড়ার রেঞ্জ কর্মকর্তা মোঃ সাব্বির হোসাইন বলেন, ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এ কথা বললেও কিন্তু কোনো আইন অনুযায়ী কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি এবং তারা দিনে দিনে এই ধরনের কাজ করে যাচ্ছে।
এতে করে বন হারাচ্ছে তার ভারসাম্য, মানুষ হারাচ্ছে বন।