মোহাম্মদ হোসেন হ্যাপী:
জেলার সার্বিক জ্বালানি সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে নারায়ণগঞ্জে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে মোবাইল কোর্ট অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। শনিবার (৭ মার্চ ২০২৬) নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক মোঃ রায়হান কবিরের নির্দেশনায় এ অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযানে জেলার বিভিন্ন ফিলিং স্টেশন পরিদর্শন করে জ্বালানি বিক্রয় ও সরবরাহ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হয়।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, সাম্প্রতিক সময়ে জ্বালানি সরবরাহ ও বিক্রয় নিয়ে কোনো ধরনের অনিয়ম, কৃত্রিম সংকট বা অতিরিক্ত মজুত যেন না ঘটে সে বিষয়টি নিশ্চিত করতেই এ মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়। অভিযানের অংশ হিসেবে প্রাইম ফিলিং স্টেশন, চৌরঙ্গী ফিলিং স্টেশন এবং ফিরোজ ফিলিং স্টেশন পরিদর্শন করা হয়।
পরিদর্শনকালে দেখা যায়, প্রাইম ফিলিং স্টেশন ও চৌরঙ্গী ফিলিং স্টেশন সরকার নির্ধারিত সীমার মধ্যে জ্বালানি বিক্রয় করছে। তবে বেশ কয়েকজন ক্রেতাকে বিক্রয় রশিদ প্রদান করা হচ্ছে না বলে লক্ষ্য করা যায়। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ফিলিং স্টেশন কর্তৃপক্ষকে সতর্ক করা হয় এবং সরকার নির্ধারিত সকল বিধি-বিধান মেনে জ্বালানি বিক্রয় করা ও প্রতিটি ক্রেতাকে বিক্রয় রশিদ প্রদান নিশ্চিত করার জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়।
মোবাইল কোর্টের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা জানান, জ্বালানি বিক্রয়ের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা বজায় রাখা এবং ভোক্তাদের অধিকার নিশ্চিত করার জন্য প্রতিটি ফিলিং স্টেশনকে বিক্রয় রশিদ প্রদান বাধ্যতামূলকভাবে নিশ্চিত করতে হবে। ভবিষ্যতে এ ধরনের অনিয়ম ধরা পড়লে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও সতর্ক করা হয়।
অভিযান চলাকালে ফিরোজ ফিলিং স্টেশনটি গত কয়েকদিন ধরে বন্ধ রয়েছে বলে জানা যায়। কেন স্টেশনটি বন্ধ রয়েছে এবং কবে থেকে পুনরায় চালু হবে সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন অভিযানে অংশ নেওয়া কর্মকর্তারা।
এ সময় উপস্থিত ভোক্তাদের সঙ্গে কথা বলে কোনো ধরনের গুরুতর অভিযোগ পাওয়া যায়নি। তবে কিছু ভোক্তার মধ্যে অতিরিক্ত জ্বালানি সংগ্রহের প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে সবাইকে সচেতন থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে এবং প্রয়োজনের অতিরিক্ত জ্বালানি সংগ্রহ না করার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।
জেলা প্রশাসন জানায়, জেলার জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখতে নিয়মিতভাবে এমন তদারকি ও মোবাইল কোর্ট অভিযান অব্যাহত থাকবে। কোনো ফিলিং স্টেশন যদি সরকার নির্ধারিত নিয়ম ভঙ্গ করে অতিরিক্ত দামে জ্বালানি বিক্রি, মজুতদারি বা কৃত্রিম সংকট তৈরি করার চেষ্টা করে, তবে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
জেলা প্রশাসক মোঃ রায়হান কবির জানান, জেলার সাধারণ মানুষ যেন নির্বিঘ্নে ও নির্ধারিত মূল্যে জ্বালানি সংগ্রহ করতে পারেন, সে বিষয়টি নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসন সবসময় তৎপর রয়েছে। এজন্য নিয়মিত তদারকি ও প্রয়োজনে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হবে।