মোহাম্মদ হোসেন হ্যাপী:
ঈদকে সামনে রেখে নারায়ণগঞ্জ শহরের বিভিন্ন এলাকায় লাইটিং এবং সেহেরির ডাকের নামে অভিনব কৌশলে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। এতে সাধারণ বাসিন্দাদের মধ্যে ক্ষোভ ও বিরক্তি তৈরি হয়েছে।
ফ্ল্যাট মালিক, ভাড়াটিয়া ও স্থানীয়দের অভিযোগ, মাসদাইর, জামতলা, ইসদাইর সুগন্ধা আবাসিক, গলাচিপাসহ শহরের বেশ কয়েকটি এলাকায় ঈদ উপলক্ষে লাইটিং করার কথা বলে কিছু যুবক বাড়ি বাড়ি গিয়ে চাঁদার রশিদ পাঠাচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট অঙ্কের টাকা দিতে বাসিন্দাদের ওপর চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে বলে একাধিক অভিযোগ পাওয়া গেছে।
শহরের মাসদাইর, ইসদাইর, জামতলা ও ১নং বাবুরাইল এলাকায় সেহেরির ডাকের নামেও অভিনব কৌশলে জোরপূর্বক চাঁদা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়রা জানান, প্রতি বিল্ডিংয়ের প্রতিটি ফ্ল্যাট থেকে ২০০ টাকা কিংবা তার বেশি নেওয়া হচ্ছে। ভাড়াটিয়ারা অস্বীকৃতি জানালে হুমকি প্রদানের ঘটনা ঘটেছে।
বাবুরাইল, মাসদাইর ও ইসদাইর সুগন্ধা আবাসিক এলাকার একাধিক বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, “এখন প্রায় প্রতিটি বাড়িতে মোবাইল ফোন এবং এলার্ম আছে। তারপরও সেহেরির ডাকের নামে টাকা আদায় করা হচ্ছে। কেউ স্বেচ্ছায় দিলে সমস্যা নেই, কিন্তু জোরপূর্বক রশিদ ধরিয়ে দিয়ে টাকা নেওয়া সঠিক নয়।”
আরেক বাসিন্দা বলেন, “সেহেরিতে মানুষকে ডেকে দেওয়া যদি কেউ সওয়াবের আশায় করে, সেটা ভালো কাজ। কিন্তু এখন অনেকেই এটাকে বাধ্যতামূলক করে অভিনব কৌশলে চাঁদার মতো করে ফেলেছে।”
গলাচিপা এলাকার এক বাসিন্দা আরও জানান, “ঈদে লাইটিং করা ভালো উদ্যোগ, কিন্তু জোর করে চাঁদা আদায় করা হলে বিষয়টি ভালো লাগে না। অনেকেই অস্বস্তির মধ্যে টাকা দিচ্ছে। সরেজমিনে খোঁজে দেখা গেছে, প্রায় প্রতিটি পাড়ায় একটি চক্র এ ধরনের কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছে।”
স্থানীয় সচেতন মহল জানাচ্ছেন, ধর্মীয় ও সামাজিক কাজের আড়ালে এই ধরনের চাঁদাবাজি বন্ধে জেলা প্রশাসন ও পুলিশ সুপারের হস্তক্ষেপ জরুরি। পাশাপাশি, এলাকাবাসীকেও সচেতন হয়ে এই ধরনের কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে একাত্মভাবে প্রতিবাদ করার আহ্বান জানানো হয়েছে।