স্টাফ রিপোর্টার :
রাজধানীর বিমানবন্দর রেলওয়ে স্টেশন সংলগ্ন এলাকায় ফুটপাত দখল ও চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠেছে স্টেশন মাস্টার শাহাদাত হোসেন এবং নিরাপত্তা ইনচার্জ সালাউদ্দিনের বিরুদ্ধে। অভিযোগ রয়েছে, ফুটপাতের অসহায় দোকানদারদের কাছ থেকে প্রতিদিন নিয়মিত অর্থ আদায় করা হচ্ছে, যার ফলে সাধারণ মানুষ ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে বিভিন্ন প্রশাসনিক দুর্নীতি ও অনিয়মের শিকার হয়েছে দেশের সাধারণ মানুষ। গত ৫ আগস্ট সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ার পর অনেকেই আত্মগোপনে গেলেও প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে এখনও আগের সরকারের নিয়োগপ্রাপ্ত কিছু কর্মকর্তা রয়ে গেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
এদিকে বর্তমান সরকার দুর্নীতি, মাদক ও চাঁদাবাজিমুক্ত দেশ গড়ার ঘোষণা দিলেও মাঠপর্যায়ে কিছু অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীর কারণে সেই প্রচেষ্টা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে বলে দাবি করছেন ভুক্তভোগীরা।
বিমানবন্দর রেলওয়ে স্টেশনের আশপাশের ফুটপাতের দোকানদাররা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, প্রতিদিন তাদের কাছ থেকে ৩০০ থেকে ১ হাজার টাকা পর্যন্ত নেওয়া হয়। টাকা দেওয়ার পরও মাঝে মাঝে লোক দেখানো অভিযান চালিয়ে তাদের ধাওয়া করে উঠিয়ে দেওয়া হয়।
একাধিক দোকানদার অভিযোগ করে বলেন, “আমরা প্রতিদিন টাকা দেওয়ার পরও মাঝে মাঝে আমাদের তাড়িয়ে দেওয়া হয়। আবার কিছুক্ষণ পর আগের মতোই বসতে দেওয়া হয়। তখন আবার টাকা দিতে হয়। মূলত লোক দেখানোর জন্যই মাঝে মাঝে ধাওয়া করা হয়।”
তারা আরও বলেন, “এখানে অনেক খালি জায়গা আছে। আমরা জীবিকার তাগিদে বসেছি। যদি কোনো টাকা দিতে হয়, আমরা সরকারকে দিতে রাজি আছি। কিন্তু ব্যক্তিগতভাবে স্টেশন মাস্টার শাহাদাত হোসেন ও নিরাপত্তা ইনচার্জ সালাউদ্দিন কেন সেই টাকা নেবেন?”
এ বিষয়ে স্টেশন মাস্টার শাহাদাত হোসেনের বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি বলেন, “আমি এখন ডিউটিতে আছি, এ বিষয়ে কথা বলতে পারব না।”
অন্যদিকে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে নিরাপত্তা ইনচার্জ সালাউদ্দিনকে কয়েকজন দোকানদারকে সরে যেতে বলতে দেখা যায়। এ সময় তিনি লাঠি হাতে তাড়ানোর চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তবে সাংবাদিকরা সেখান থেকে চলে যাওয়ার কিছুক্ষণ পর আবার আগের মতো ফুটপাত বসিয়ে টাকা আদায় করা হচ্ছে বলে জানান স্থানীয়রা।
বিষয়টি নিয়ে বিমানবন্দর রেলওয়ের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন সাধারণ মানুষ। তারা দ্রুত তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।