স্টাফ রিপোর্টার:
চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলার জোরারগঞ্জ হাইওয়ে থানাকে ঘিরে এক চাঞ্চল্যকর চাঁদাবাজির অভিযোগ সামনে এসেছে। অভিযোগ উঠেছে, ‘এসআই’ পরিচয়ে এক ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় অবৈধভাবে চাঁদা আদায় করে আসছেন, যার পেছনে থানার কিছু সদস্যের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ সংশ্লিষ্টতারও দাবি করছেন ভুক্তভোগীরা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জোরারগঞ্জ থানাধীন চৌধুরীহাট বাজার সংলগ্ন এলাকায় অবস্থিত এই হাইওয়ে থানাটি একটি গুরুত্বপূর্ণ স্টেশন হিসেবে পরিচিত। কিন্তু সম্প্রতি এখানে এমন কিছু কার্যক্রম দৃশ্যমান হয়েছে, যা অতীতে দেখা যায়নি বলে দাবি করছেন এলাকাবাসী।
অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা ব্যক্তি ‘এসআই জামাল’ নামে পরিচিত হলেও বাস্তবে তিনি পুলিশের কোনো সদস্য নন বলে জানা গেছে। লক্ষ্মীপুর জেলার বাসিন্দা এই জামাল নিজেকে পুলিশ কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে সিএনজি, অটোরিকশা, মিনি পিকআপসহ বিভিন্ন যানবাহনের চালক ও মালবাহী ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে নিয়মিত চাঁদা আদায় করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, সড়কে চলাচলের সময় প্রায়ই জামাল ও তার সহযোগীরা গাড়ি থামিয়ে টাকা দাবি করেন। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে গাড়ির চাকা পাংচার করে দেওয়া, থানায় নিয়ে যাওয়ার হুমকি এবং শারীরিক নির্যাতনের ভয় দেখানো হয়। ফলে অনেকেই বাধ্য হয়ে নিয়মিত মাসোহারা দিচ্ছেন।
এই বিষয়ে জোরারগঞ্জ হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাকারিয়ার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, ‘জামাল’ নামে কাউকে তিনি চেনেন না। তবে অনুসন্ধানে উঠে এসেছে ভিন্ন চিত্র। একাধিক সূত্র দাবি করছে, ওসি জাকারিয়ার নির্দেশেই এই চাঁদাবাজি কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
অন্যদিকে, অভিযুক্ত জামালের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি নিজেই দাবি করেন, থানার ওসির নির্দেশেই তিনি কাজ করছেন এবং সহযোগী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
ঘটনায় আরও উঠে এসেছে, জোরারগঞ্জ হাইওয়ে থানার সাবেক কনস্টেবল মামুন হোসেনের নাম। তিনি আগে ফাজিলপুর হাইওয়ে থানায় ওসি জাকারিয়ার ক্যাশিয়ার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন বলে জানা যায়। ২০২৫ সালের আগস্ট মাসে তার বদলি হয়ে রংপুর রিজিয়নের দশমাইল হাইওয়ে থানায় গেলেও প্রায়ই তাকে জোরারগঞ্জ এলাকায় দেখা যায়।
স্থানীয়রা বলছেন, মামুন হোসেনের সঙ্গে জামালের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে এবং তাদের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন এক সিএনজি চালক বাদশা মিয়া। এই চক্রটি সম্মিলিতভাবে এলাকায় চাঁদাবাজি পরিচালনা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
এছাড়া, সম্প্রতি চাঁদাবাজির বিষয়টি প্রকাশ্যে চলে আসার পর দায়িত্ব ভাগাভাগি করে দেওয়া হয়েছে বলেও জানা গেছে। বর্তমান কনস্টেবল গোলাম সারোয়ার (৩৩৭)-এর ওপরও চাঁদা তোলার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয় ব্যবসায়ী ও চালকদের দাবি, হাইওয়ে পুলিশের নাম ভাঙিয়ে এ ধরনের কর্মকাণ্ডে তারা অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ তদন্ত করে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী। তারা মনে করেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নাম ব্যবহার করে এ ধরনের অপকর্ম চলতে থাকলে জনসাধারণের আস্থা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।