ভারতীয় আগ্রাসন ও সীমান্ত হত্যার প্রতিবাদে গণঅধিকার পরিষদের বজ্রকণ্ঠ

 

মোঃআনজার শাহ

ভারত কর্তৃক বাংলাদেশের সীমান্তে অনুপ্রবেশ, নিরীহ বাংলাদেশি নাগরিকদের হত্যা এবং ক্রমবর্ধমান ভারতীয় আগ্রাসনের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে আজ বুধবার (১০ জুন) বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে গণঅধিকার পরিষদ। সংগঠনের নেতা-কর্মীরা রাজপথে নেমে গগনবিদারী স্লোগানে প্রকম্পিত করে তোলেন চারদিক। এই বিক্ষোভ কর্মসূচিতে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার হাজারো মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন।

বিক্ষোভ মিছিলটি নির্ধারিত স্থান থেকে শুরু হয়ে প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে সমাবেশস্থলে এসে শেষ হয়। মিছিলে অংশগ্রহণকারীরা “সীমান্ত হত্যা বন্ধ করো”, “ভারতীয় আগ্রাসন নিপাত যাক”, “বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা করো”  এ ধরনের প্ল্যাকার্ড ও ব্যানার বহন করেন এবং তীব্র ভাষায় ভারতের আগ্রাসী আচরণের নিন্দা জানান।

সমাবেশে গণঅধিকার পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক হাসান আল মামুন বলেন, “ভারত বারবার আমাদের সীমান্তে অনুপ্রবেশ করছে, নিরীহ বাংলাদেশি নাগরিকদের নির্বিচারে হত্যা করছে  অথচ এর কোনো জবাবদিহি নেই। এই আগ্রাসন আর মেনে নেওয়া হবে না। বাংলাদেশের মাটি ও মানুষের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় গণঅধিকার পরিষদ রাজপথে ছিল, আছে এবং থাকবে।প সরকারের কাছে আমাদের স্পষ্ট দাবি  ভারতের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্কের পুনর্মূল্যায়ন করতে হবে এবং সীমান্ত হত্যার বিচার নিশ্চিত করতে হবে।”

তিনি আরও বলেন, “একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশ কোনো প্রতিবেশী দেশের আধিপত্য মেনে নেবে না। জনগণের রক্তের দামে অর্জিত এই স্বাধীনতা রক্ষায় আমরা সর্বদা সোচ্চার থাকব।”
সমাবেশ থেকে বক্তারা অবিলম্বে সীমান্ত হত্যা বন্ধ, ভারতীয় অনুপ্রবেশ রোধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ এবং নিহত বাংলাদেশিদের পরিবারকে যথাযথ ক্ষতিপূরণ প্রদানের জোর দাবি জানান। পাশাপাশি বাংলাদেশ সরকারকে ভারতের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক মহলে কার্যকর কূটনৈতিক তৎপরতা চালানোর আহ্বান জানানো হয়।
বক্তারা বলেন, সীমান্তে নিরীহ বাংলাদেশি নাগরিকদের হত্যা কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়,  এটি পরিকল্পিত আগ্রাসনের অংশ। এর বিরুদ্ধে জাতীয় ঐকমত্য গড়ে তুলতে হবে এবং আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর দৃষ্টি আকর্ষণ করতে হবে।

সমাবেশ শেষে গণঅধিকার পরিষদের পক্ষ থেকে ঘোষণা দেওয়া হয়, ভারতীয় আগ্রাসন অব্যাহত থাকলে আগামী দিনগুলোতে আরও কঠোর ও ব্যাপক কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। দেশের প্রতিটি জেলা ও উপজেলায় একযোগে প্রতিবাদ কর্মসূচি পালনেরও ঘোষণা দেওয়া হয়।

উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে একাধিক হত্যাকাণ্ড ও অনুপ্রবেশের ঘটনা দেশজুড়ে ব্যাপক ক্ষোভ ও উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। জনমনে পুঞ্জীভূত এই ক্ষোভেরই প্রতিফলন ঘটেছে আজকের এই বিশাল বিক্ষোভ সমাবেশে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *