পাহাড়ের শান্তি ও সুস্থ সাংবাদিকতা: সময়ের দাবি

বান্দরবান প্রতিনিধি:

বান্দরবানের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি এবং স্থানীয় গণমাধ্যম বনাম রাজনৈতিক দলের পাল্টাপাল্টি অবস্থান আমাদের কিছুটা ভাবিয়ে তুলছে। বিশেষ করে সাংগ্রাইয়ের মতো একটি বড় উৎসবের প্রাক্কালে যখন কোনো সংবাদকে কেন্দ্র করে ‘উস্কানি’ বা ‘ভুল তথ্য’ ছড়ানোর অভিযোগ ওঠে, তখন সেটি কেবল রাজনৈতিক বিতর্ক থাকে না, বরং সামাজিক সম্প্রীতির ওপরও প্রভাব ফেলে।

একটি গভীর বিশ্লেষণে কয়েকটি বিষয় সামনে আসে:

১. তথ্যের সত্যতা ও দায়বদ্ধতা: গণমাধ্যমের কাজ বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশন করা। যদি কোনো নির্দিষ্ট উৎসব বা দলকে কেন্দ্র করে উস্কানিমূলক তথ্য প্রচার হয়, তবে তা সাংবাদিকতার নীতিমালার পরিপন্থী। তথ্যের অবাধ প্রবাহ যেমন জরুরি, তেমনি সেই তথ্যের সত্যতা যাচাই করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

২. রাজনৈতিক সহনশীলতা: কোনো সংবাদের প্রতিবাদ জানানোর গণতান্ত্রিক অধিকার সবার আছে। তবে সেই প্রতিবাদ যখন আইনি পথে হাঁটার কথা বলে, তখন তা অবশ্যই স্বচ্ছতা ও প্রমাণের ভিত্তিতে হওয়া বাঞ্ছনীয়। পাহাড়ের শান্তি বজায় রাখতে সব পক্ষকে সংযত আচরণ করতে হবে।

৩. উৎসবের পবিত্রতা: সাংগ্রাই পাহাড়ের মানুষের প্রাণের উৎসব। এই উৎসবের রঙ যেন কোনো রাজনৈতিক দ্বন্দ্বে ম্লান না হয়, সেদিকে খেয়াল রাখা আমাদের সবার দায়িত্ব। উৎসব হোক সম্প্রীতির, রাজনীতির নয়।

আমরা চাই পাহাড়ে সুস্থ ধারার সাংবাদিকতা টিকে থাকুক এবং রাজনৈতিক দলগুলোও পরমতসহিষ্ণুতার পরিচয় দিক। ভিত্তিহীন সংবাদ যেমন বর্জনীয়, তেমনি ঢালাওভাবে কোনো মাধ্যমকে অভিযুক্ত করার আগে সত্য-মিথ্যা যাচাই করা প্রয়োজন। পাহাড়ের সাধারণ মানুষ কেবল শান্তি এবং উন্নয়ন চায়।

আসুন, উস্কানি বা গুজব এড়িয়ে আমরা একটি সুন্দর ও শান্তিপূর্ণ বান্দরবান গড়ে তুলি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *