ঝালকাঠিতে মামলা তুলে নিতে বাদীকে হুমকির প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন

ঝালকাঠি প্রতিনিধি:

ঝালকাঠি সদর উপজেলার বাড়ৈগাতি গ্রামের শারীরিক প্রতিবন্ধী আ. বারেক খন্দকারের দোকানে অগ্নিকাণ্ডের বিষয়ে আদালতে দায়েরকৃত মামলা তুলে নিতে হুমকি দিচ্ছে বিবাদীরা। অব্যাহত হুমকিতে নিরাপত্তাহীনতায় ঝালকাঠি প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেছেন মুদি ব্যবসায়ী ও শারীরিক প্রতিবন্ধী আব্দুল বারেক খন্দকার। এসময় তার স্ত্রী ও দুই কন্যা সন্তান উপস্থিত ছিলেন।

সোমবার (৬ এপ্রিল) বিকেল ৪টায় তিনি সংবাদ সম্মেলন করে অব্যাহত হুমকির অভিযোগ জানান।

এসময় তিনি বলেন, আমি একজন প্রতিবন্ধী মানুষ। একটি মুদি দোকান চালিয়ে পরিবারের ভরণপোষণ বহন করি। গত ৬ ফেব্রুয়ারি রাতে একদল দুষ্কৃতিকারী আমার দোকানটি আগুন দিয়ে পুড়ে ফেলে। সম্পূর্ণ পুড়ে ছাই হওয়ায় সেখান থেকে দোকানের মালামাল কিছুই সংরক্ষণ করা সম্ভব হয়নি। এ ঘটনায় আদালতে সন্দেহজনক ব্যক্তিদের আসামি করে মামলা করেছি। ওই মামলার আসামীরা আমাকে মামলা তুলে নিতে বিভিন্ন ধরনের হুমকি অব্যাহত রেখেছে। গত ২৭ মার্চ সদর থানা থেকে তদন্ত কর্মকর্তা মামলাটি তদন্তে গেলে তখনও আসামি পক্ষের লোকজন আমাকে প্রকাশ্যে হুমকি দেয়। এ ঘটনায় আমি চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি এবং মামলার তদন্ত কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা করছি।

তিনি আরও বলেন, বারৈগাতী এলাকার তালতলা বাজারের মুদি দোকানেই রাত্রিযাপন করতাম। তবে গত ৬ ফেব্রুয়ারি শুক্রবার রাতে শারীরিক অসুস্থতার কারণে দোকান বন্ধ করে বাড়িতে চলে যাই। আসামীরা ধারণা করেছিল আমি দোকানের ভেতরেই আছি। আমাকে হত্যার উদ্দেশ্যে দোকানে পেট্রোল ও কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। এতে দোকানে থাকা টিভি, ফ্রিজ, চাল, ডাল, আটা, আলু, মরিচ, বিস্কুটসহ বিভিন্ন মালামাল পুড়ে যায়। এতে প্রায় ৯ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এ ঘটনায় গত ৯ মার্চ ঝালকাঠির সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আঃ মতিন হাওলাদার (৪৫), আলমগীর তালুকদার (৪৮), আঃ জলিল শেখ (৪৪) ও মনির হোসেন (৪০)-এর নাম উল্লেখ করে নালিশি অভিযোগ দায়ের করি। অভিযোগ দায়েরের পর থেকেই আসামীরা মামলা তুলে নিতে বিভিন্নভাবে হুমকি দিয়ে আসছে। তারাও সরাসরি হুমকি দিয়ে বলে, “তোকে চেয়েছিলাম শেষ করে দিবো কিন্তু প্রাণে বেঁচে গেলি। এমনিতেই তোর এক পা নেই, এখন অন্যটাও থাকবে না।” আসামি পক্ষের সন্ত্রাসী লোকজনের এমন হুমকিতে জান-মাল এবং পরিবার-পরিজন নিয়ে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।

প্রধান আসামি আঃ মতিনসহ অন্যান্য আসামীরা আমার দোকান পুড়িয়ে আমাকে স্থানীয় কিছু বিএনপির নেতাদের নামে মামলা দিতে বলে। নির্বাচনের আগে বিএনপির লোকজনই দোকান পুড়িয়েছে, অন্য কেউ নয়—এমন কথা বলতে আসামীরা আমাকে চাপ প্রয়োগ করে। আমাকে বলা হয়, তাদের নামে মামলা দিলে মামলার সব খরচ তারা বহন করবে এবং নতুন দোকান তৈরি করে দেবে। কিন্তু তারা যাদের নামে মামলা দিতে বলছে, তারা সবাই নেছারাবাদ কায়েদ সাহেব হুজুরের মাজারে গিয়ে শপথ করেছে যে তারা এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত নয়। তাহলে আমি কেন তাদের নামে মিথ্যা মামলা দেবো। তাছাড়া ঘটনার রাতে আসামীরা দলবদ্ধ হয়ে ওই এলাকায় মহড়া দেয়, যা এলাকাবাসী প্রত্যক্ষভাবে দেখেছে এবং সাক্ষী রয়েছে।

“আসামি আঃ জলিল শেখ পূর্বেও এ ধরনের অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় জড়িত ছিল এবং ঘরে আগুন দেওয়ার ঘটনায় সিআইডির তদন্তে তার সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়ায় আদালতে অভিযুক্ত করে প্রতিবেদন দিয়েছে।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *