ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় র‍্যাব-৯ ও জেলা প্রশাসনের যৌথ অভিযান—অবৈধ জ্বালানি তেল মজুদ ও অতিরিক্ত দামে বিক্রি, ৩ প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা

স্টাফ রিপোর্টার:

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় অবৈধভাবে জ্বালানি তেল মজুদ এবং অতিরিক্ত দামে বিক্রির অভিযোগে র‍্যাব-৯ ও জেলা প্রশাসনের যৌথ অভিযানে তিনটি প্রতিষ্ঠানকে সর্বমোট ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। একই সঙ্গে বিপুল পরিমাণ জ্বালানি তেল জব্দ করা হয়েছে। মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল ২০২৬) সকাল ১০টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত জেলার সদর থানাধীন বিভিন্ন এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

অভিযান সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‍্যাব-৯, সিপিসি-১, ব্রাহ্মণবাড়িয়া এবং জেলা প্রশাসনের একটি যৌথ দল অভিযান চালায়। এ সময় জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯ এর ৫২ ধারায় অবৈধভাবে জ্বালানি তেল মজুদ ও অতিরিক্ত মূল্যে বিক্রির দায়ে তিন ব্যক্তিকে দোষী সাব্যস্ত করে জরিমানা করা হয়। দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন—গোকর্ণঘাট দক্ষিণপাড়ার বিল্লাল মিয়া (২০ হাজার টাকা), একই এলাকার শরিফ (২০ হাজার টাকা) এবং ছয়বাড়িয়া এলাকার জামাল (১০ হাজার টাকা)। অভিযানে সর্বমোট ৫০ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয় এবং প্রায় ১০ হাজার লিটার জ্বালানি তেল জব্দ করা হয়।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, সাম্প্রতিক সময়ে জ্বালানি তেলের বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী অতিরিক্ত লাভের আশায় তেল মজুদ করে উচ্চ দামে বিক্রি করছে। এর ফলে সাধারণ ভোক্তারা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন এবং বাজার ব্যবস্থায় অস্থিরতা তৈরি হচ্ছে। এসব অনিয়ম ঠেকাতে নিয়মিত নজরদারি ও গোয়েন্দা তৎপরতা জোরদার করা হয়েছে।

র‍্যাবের পক্ষ থেকে জানানো হয়, প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই বাহিনীটি মাদক, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারসহ বিভিন্ন অপরাধ দমনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। পাশাপাশি জনস্বার্থবিরোধী যেকোনো কর্মকাণ্ড—বিশেষ করে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য ও জ্বালানি নিয়ে কারসাজি—দমনে তারা কঠোর অবস্থানে রয়েছে। আইন অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি যদি এমন কোনো কাজ করেন যার মাধ্যমে ভোক্তার জীবন বা নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা থাকে, তবে তাকে অনূর্ধ্ব তিন বছরের কারাদণ্ড বা অনধিক দুই লাখ টাকা জরিমানা অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত করা যেতে পারে।

অভিযান পরিচালনাকারীরা আরও জানান, এই ধরনের অপরাধে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ অব্যাহত থাকবে এবং বাজারে স্বাভাবিক পরিস্থিতি বজায় রাখতে কঠোর নজরদারি চালানো হবে। একই সঙ্গে জনগণকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলা হয়, কোথাও এ ধরনের অনিয়ম চোখে পড়লে দ্রুত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানাতে হবে।

জেলা প্রশাসনের এক কর্মকর্তা বলেন, “অবৈধভাবে জ্বালানি তেল মজুদ করে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করা একটি গুরুতর অপরাধ। এতে শুধু ভোক্তারা ক্ষতিগ্রস্ত হন না, বরং দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতির ওপরও নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। তাই এ ধরনের অপরাধ দমনে আমরা নিয়মিত অভিযান চালিয়ে যাচ্ছি।”

র‍্যাব-৯ এর পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়েছে, দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং জনস্বার্থ রক্ষায় তাদের চলমান গোয়েন্দা তৎপরতা ও অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *