শিশু সৈকত (৭) হত্যা: ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই রহস্য উদঘাটন, মূল অভিযুক্ত গ্রেফতার

মোহাম্মদ হোসেন হ্যাপী:

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় চাঞ্চল্যকর শিশু সৈকত (৭) হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। হত্যাকাণ্ডের মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই মূল অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। অভিযুক্তও ঘটনার সঙ্গে নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ০৫ এপ্রিল ২০২৫ তারিখ বিকেল আনুমানিক ৫টা ৩০ মিনিটে ফতুল্লা থানাধীন উত্তর নরসিংহপুর এলাকায় হাজী হাশেম স্পিনিং মিলের পাশে সুমন মিয়ার একটি পরিত্যক্ত বাড়ির ভেতর থেকে শিশু সৈকত ইসলামের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহত সৈকত ইসলাম স্থানীয় বাসিন্দা মো. রঞ্জুর ছেলে।

মরদেহ উদ্ধারের পর প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, শিশুটির মাথা ইট দিয়ে থেঁতলানো এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। এছাড়া মলদ্বারে আঘাতের আলামত পাওয়া যায়, যা ঘটনাটিকে আরও নৃশংস ও হৃদয়বিদারক করে তোলে।

এ ঘটনায় নিহতের ভাই মো. সজিব মিয়া বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে ফতুল্লা মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলাটি গুরুত্বসহকারে নিয়ে দ্রুত তদন্ত শুরু করে পুলিশ।

নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান মুন্সীর নির্দেশনায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) তারেক আল মেহেদীর তত্ত্বাবধানে এবং ফতুল্লা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মো. আব্দুল মান্নানের নেতৃত্বে একটি বিশেষ আভিযানিক দল গঠন করা হয়। একই সঙ্গে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. হাসিনুজ্জামানের নেতৃত্বে তদন্ত কার্যক্রম জোরদার করা হয়।

তদন্তের এক পর্যায়ে প্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ঘটনার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই নরসিংহপুর এলাকা থেকে মো. জীবন মিয়া (১৫) নামে এক কিশোরকে আটক করা হয়, যে আইনের সঙ্গে সংঘাতে জড়িত শিশু হিসেবে চিহ্নিত।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জীবন মিয়া হত্যাকাণ্ডে নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করে। সে জানায়, ঘটনার দিন সে শিশু সৈকতকে জোরপূর্বক বলাৎকার করে। এ সময় সৈকত কান্নাকাটি শুরু করে এবং বিষয়টি তার বাবাকে জানিয়ে দেওয়ার হুমকি দিলে জীবন মিয়া আতঙ্কিত হয়ে পড়ে। পরে ঘটনাস্থলেই একটি ইট দিয়ে শিশুটির মাথায় একাধিক আঘাত করে তাকে হত্যা করে।

ঘটনার পর অভিযুক্তকে আদালতে সোপর্দ করা হলে সে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করে।

এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, মামলার তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে এবং প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *