নিজস্ব প্রতিবেদক:
একটি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি রেজিস্ট্রেশন অফিসে নিয়োগবিহীন ব্যক্তিদের মাধ্যমে অফিস পরিচালনা, রেকর্ড সংরক্ষণ এবং চাবি নিয়ন্ত্রণের মতো স্পর্শকাতর দায়িত্ব পালনের অভিযোগ উঠেছে। এতে প্রশাসনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের পাশাপাশি নিরাপত্তা ও দুর্নীতির ঝুঁকি তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
অভিযোগ অনুযায়ী, ইমরান হোসেন ও মোস্তফা কামাল নামের দুই ব্যক্তি অফিসের স্থায়ী কর্মচারী না হওয়া সত্ত্বেও নিয়মিত অফিসের গুরুত্বপূর্ণ রেকর্ড রুমের তালা খুলে কাজ পরিচালনা করছেন। অথচ সরকারি বিধিমালা অনুযায়ী, এ ধরনের দায়িত্ব কেবলমাত্র নিয়োগপ্রাপ্ত অফিস সহকারীর ওপর ন্যস্ত থাকার কথা। কিন্তু বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, গুরুত্বপূর্ণ নথি ও রেকর্ড সংরক্ষণের দায়িত্ব অযোগ্য ও অননুমোদিত ব্যক্তিদের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে, যা গুরুতর অনিয়মের শামিল।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, শুধু ইমরান ও মোস্তফাই নন, আরও কয়েকজন ব্যক্তি—যেমন আকিব হোসেন, আয়নাল হোসেন এবং ইউসুফ হাওলাদার—কোনো প্রকার সরকারি নিয়োগপত্র ছাড়াই দীর্ঘদিন ধরে অফিসে কাজ করছেন। তারা কীভাবে এবং কোন প্রক্রিয়ায় এই দায়িত্ব পালন করছেন, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এতে সরকারি নিয়োগ নীতিমালা ও স্বচ্ছতা নিয়ে জনমনে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
অভিযোগের আরেকটি গুরুতর দিক হলো ঘুষ লেনদেন। জানা গেছে, সাব-রেজিস্ট্রার আব্দুল কাদেরের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি ঘুষের লেনদেনের বিষয় সামনে এসেছে। প্রতি বুধবার রাতে রাজধানীর ফার্মগেট এলাকায় অবস্থিত তার বাসায় ইউসুফ হাওলাদার নগদ অর্থ পৌঁছে দেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এরপর প্রতি বৃহস্পতিবার আব্দুল কাদের সাহেব বিমানে করে সিলেট যাতায়াত করেন, যা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা।
এ বিষয়ে সচেতন মহল বলছে, একটি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি দপ্তরে এ ধরনের অনিয়ম চলতে থাকলে তা শুধু প্রশাসনিক শৃঙ্খলাকেই দুর্বল করে না, বরং জনসেবার মানও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বিশেষ করে রেজিস্ট্রেশন অফিসের মতো জায়গায় যেখানে জমি ও সম্পত্তি সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ দলিল সংরক্ষণ করা হয়, সেখানে নিরাপত্তা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি।
স্থানীয়রা দ্রুত এ বিষয়ে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। তারা মনে করছেন, সংশ্লিষ্ট দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের উচিত দ্রুত তদন্ত কমিটি গঠন করে অভিযোগের সত্যতা যাচাই করা এবং দোষীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা।
এদিকে, অভিযোগের বিষয়ে সাব-রেজিস্ট্রার আব্দুল কাদের কিংবা সংশ্লিষ্ট অন্য কোনো ব্যক্তির আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে বিষয়টি নিয়ে ইতোমধ্যে এলাকাজুড়ে আলোচনা-সমালোচনার ঝড় উঠেছে। সচেতন নাগরিকরা বলছেন, এ ধরনের অনিয়মের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে ভবিষ্যতে আরও বড় ধরনের দুর্নীতি ও প্রশাসনিক বিপর্যয়ের আশঙ্কা রয়েছে।