উত্তরা পশ্চিম থানাধীন ‘পূর্ণিমা’ আবাসিক হোটেলে অসামাজিক কার্যকলাপের অভিযোগ, এসআই মেহেদীর দায়িত্ব অবহেলা

স্টাফ রিপোর্টার:

রাজধানীর উত্তরা পশ্চিম থানাধীন হাউজ বিল্ডিং এলাকায় তিতাস গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন অফিসের পাশে অবস্থিত ‘আবাসিক হোটেল পূর্ণিমা’ নামের একটি হোটেলে দীর্ঘদিন ধরে অসামাজিক কার্যকলাপ ও মাদক সংশ্লিষ্ট আড্ডা চলছে—এমন অভিযোগ উঠেছে।

স্থানীয় সূত্র ও অভিযোগকারীদের দাবি, হোটেলটির আড়ালে নিয়মিতভাবে মাদক সেবন এবং অনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালিত হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে এক সাংবাদিক জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করলে ঘটনাটি উত্তরা পশ্চিম থানার ডিউটি অফিসার এসআই মেহেদীকে দায়িত্ব দেওয়া হয় বলে জানা যায়।

অভিযোগ অনুযায়ী, দায়িত্ব পাওয়ার পর এসআই মেহেদী ঘটনাস্থলে না গিয়ে বিষয়টি এড়িয়ে যান। অভিযোগকারীদের দাবি, তিনি পরে জানান যে তার লাঞ্চের সময় ছিল, ফলে তাৎক্ষণিক কোনো ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয়নি। এছাড়া স্থানীয়দের একাংশের অভিযোগ, পরে তিনি হোটেল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করেন এবং কার্যকর কোনো আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি।

তবে এসব অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি।

অন্যদিকে, হোটেল মালিকদের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে যে তারা প্রভাবশালী একটি চক্রের মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে এসব কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে এবং স্থানীয় প্রশাসনের কিছু অসাধু সদস্যকে অর্থের বিনিময়ে ম্যানেজ করে থাকে।

স্থানীয়রা আরও জানান, ওই এলাকায় একাধিক আবাসিক হোটেলকে কেন্দ্র করে মাদক ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডের একটি চক্র সক্রিয় রয়েছে, যার ফলে সাধারণ মানুষ ও পরিবেশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

এদিকে একই এলাকার একটি হোটেলকে ঘিরে পূর্বের একটি ঘটনার প্রেক্ষিতে ‘রংধনু আবাসিক হোটেল’-এর মালিক শফিক নামের এক ব্যক্তিকে হত্যার ঘটনা ঘটেছে বলেও স্থানীয়ভাবে আলোচনা রয়েছে। তবে এ বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

এসআই মেহেদী অভিযোগের বিষয়ে বলেন, তিনি ধারণা করেছিলেন ৯৯৯-এ ফোন করার পর পক্ষগুলোর মধ্যে আপস-রফা হয়ে যেতে পারে। তাই তিনি ঘটনাস্থলে না গিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কঠোর ব্যবস্থা নেননি বলে দাবি করেন।

এ বিষয়ে উত্তরা পশ্চিম থানার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে বলে জানা গেছে। স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত তদন্ত করে অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি।

এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা চলছে এবং পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *