বান্দরবান প্রতিনিধি:
বান্দরবান সিভিল সার্জন কার্যালয়ে অনিয়ম ও দুর্নীতির গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। সরকারি ক্রয় প্রক্রিয়ার গুরুত্বপূর্ণ অংশ ই-জিপি (e-GP) সংক্রান্ত কাজ এক বহিরাগত ব্যক্তিকে দিয়ে করানো এবং ঘুষের বিনিময়ে টেন্ডার বণ্টনের চেষ্টা—এমন অভিযোগ ঘিরে জেলায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। মঙ্গলবার (২২ এপ্রিল) বিকেলে কয়েকজন স্থানীয় সাংবাদিক হঠাৎ সিভিল সার্জন কার্যালয়ে উপস্থিত হলে বিষয়টি সামনে আসে। এ সময় দেখা যায়, সিভিল সার্জনের ব্যক্তিগত ও গুরুত্বপূর্ণ ল্যাপটপ ব্যবহার করে এক অচেনা ব্যক্তি অফিসের সংবেদনশীল কাজ পরিচালনা করছেন। উপস্থিত সাংবাদিকরা তার পরিচয় জানতে চাইলে প্রথমে তাকে অফিসের কম্পিউটার অপারেটর ‘ইব্রাহিম’ হিসেবে পরিচয় দেওয়া হয়। তবে জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায়ে তিনি নিজের প্রকৃত নাম ‘জাকারিয়া’ বলে স্বীকার করেন।
পরবর্তীতে অনুসন্ধানে জানা যায়, জাকারিয়ার বিরুদ্ধে পূর্বে প্রতারণার অভিযোগ রয়েছে এবং ২০২৪ সালে তাকে সংশ্লিষ্ট একটি অফিস থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছিল। অভিযোগ রয়েছে, তিনি দীর্ঘদিন ধরে দেশের বিভিন্ন স্থানে নিজেকে ‘কনসালটেন্ট’ পরিচয়ে কাজ করে আসছেন এবং বিভিন্ন নামে ঠিকাদারি কার্যক্রমের সঙ্গেও যুক্ত। সাংবাদিকরা সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ শাহীন হোসাইন চৌধুরীর কাছে জানতে চান, কেন একজন বিতর্কিত বহিরাগত ব্যক্তিকে এনে সরকারি গুরুত্বপূর্ণ ই-জিপি কার্যক্রম পরিচালনা করানো হচ্ছে এবং জেলার ভেতরে দক্ষ জনবলের কোনো অভাব রয়েছে কি না। জবাবে সিভিল সার্জন বলেন, “আমি তার সম্পর্কে বিস্তারিত জানি না। আমার স্টাফ সুভাস নম্বর দিয়েছিল, তাই তাকে ডেকেছি।” নিজের ব্যক্তিগত ও গুরুত্বপূর্ণ ল্যাপটপ একজন অচেনা ব্যক্তিকে ব্যবহারের অনুমতি দেওয়ার বিষয়ে তিনি কোনো সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে পারেননি। তিনি শুধু বলেন, “ই-জিপির কাজ করানোর জন্য তাকে আনা হয়েছে।”
এদিকে অভিযোগ উঠেছে, সিভিল সার্জন ও ওই বহিরাগত ব্যক্তি জাকারিয়ার মধ্যে যোগসাজশে বড় অংকের টাকার বিনিময়ে বিভিন্ন টেন্ডার নির্দিষ্ট ঠিকাদারদের মধ্যে বণ্টনের চেষ্টা চলছিল। জানা গেছে, মোট ৬টি গ্রুপে টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—ওষুধ সরবরাহ, ফার্নিচার ক্রয়, গজ-ব্যান্ডেজ ও কটন, চিকিৎসা যন্ত্রপাতি, লিনেন সামগ্রী এবং কেমিক্যাল সরবরাহ। স্থানীয় সচেতন মহলের অভিযোগ, একটি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি প্রতিষ্ঠানে এ ধরনের অনিয়ম শুধু প্রশাসনিক শৃঙ্খলার পরিপন্থী নয়, বরং জনস্বার্থের জন্যও মারাত্মক হুমকি। সরকারি ক্রয় প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত না হলে স্বাস্থ্যসেবার মানও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে বলে তারা আশঙ্কা করছেন।
এ ঘটনায় দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে এ ধরনের অনিয়ম প্রতিরোধে কঠোর নজরদারির আহ্বান জানানো হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে ইতোমধ্যে জেলার বিভিন্ন মহলে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়েছে। প্রশাসনের উচ্চ পর্যায়ের হস্তক্ষেপ ছাড়া এ ধরনের অভিযোগের সুষ্ঠু সমাধান সম্ভব নয় বলে অনেকে মত দিয়েছেন। বিশেষ সূত্রে আরও জানা গেছে যে, চট্টগ্রামের এক বিএনপি পন্থী চিকিৎসক নেতা এই ই-জিপি কাজের প্রক্রিয়ার সঙ্গে গভীরভাবে লিপ্ত রয়েছেন।