মোঃ আরাফাত হোসেন (বনি):
সমাজকল্যাণ এবং মানবাধিকার রক্ষায় অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ‘দৈনিক স্বাধীন সংবাদ অ্যাওয়ার্ড ২০২৬’-এর জন্য মনোনীত হয়েছেন সমাজকর্মী ও মানবাধিকারকর্মী আনুড়ি হিজড়া। আগামী ২৮শে এপ্রিল রাজধানীর সেগুনবাগিচাস্থ কচি-কাঁচা মিলনায়তনে এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে তার হাতে এই সম্মাননা তুলে দেওয়া হবে।
আনুড়ি হিজড়া বর্তমানে ‘পদ্মকুঁড়ি হিজড়া সংঘ’-এর প্রতিষ্ঠাতা ও সভানেত্রী হিসেবে অত্যন্ত নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করছেন। এই সংগঠনের মাধ্যমে তিনি দীর্ঘদিন ধরে হিজড়া জনগোষ্ঠীর সাংবিধানিক অধিকার রক্ষা, জীবনমান উন্নয়ন এবং সামাজিক বৈষম্য দূরীকরণে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সাথে সমন্বয়ের মাধ্যমে পদ্মকুঁড়ি হিজড়া সংঘ হিজড়া জনগোষ্ঠীর কল্যাণে অত্যন্ত সুনামের সাথে এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।
আনুড়ি হিজড়া কেবল একজন দক্ষ সংগঠকই নন, বরং একজন নিভৃতচারী দানবীরও। তিনি প্রতি বছর পবিত্র রমজান মাসে নিজস্ব অর্থায়নে খতম তারাবিহ্-র আয়োজনসহ অসহায় ও দুস্থ পরিবারগুলোকে নিয়মিত খাদ্যসামগ্রী ও আর্থিক সহায়তা প্রদান করে আসছেন। এছাড়া দয়াগঞ্জ এলাকার স্থানীয় মসজিদ ও মাদ্রাসার উন্নয়নে প্রতি সপ্তাহে কার্পেট, মাইক, সিমেন্ট ও নগদ অর্থ সহায়তা প্রদানসহ নানাভাবে বহুমুখী অবদান রাখছেন তিনি। প্রতি বছর রমজানে ৪টি মসজিদে প্রায় ২০০ মানুষের ইফতারের ব্যবস্থা করার পাশাপাশি ৩০টি হিজড়া মক্তব প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রেও তিনি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন। একইসাথে মানবিক দায়বদ্ধতা থেকে তিনি প্রতি বছর শীতার্তদের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ এবং অসহায় মানুষের লাশ দাফনের কাজেও নিয়মিত আর্থিক সহায়তা প্রদান করে আসছেন।
বৈশ্বিক করোনা মহামারীর সময়ে যখন সাধারণ মানুষের জীবন বিপর্যস্ত ছিল, তখন আনুড়ি হিজড়া নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সাধারণ মানুষ ও হিজড়া জনগোষ্ঠীর পাশে দাঁড়িয়েছেন। আর্থিক সহায়তার পাশাপাশি তিনি মানসিক সাহস ও খাদ্য সহায়তা প্রদান করে মানবিকতার এক অনন্য নজির সৃষ্টি করেন। তিনি বঙ্গবাজার অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তায় হিজড়াদের সাথে নিয়ে ২২ লক্ষ টাকা এবং ২০২৪ সালে বন্যার্তদের জন্য টিএসসিতে ৭০ হাজার টাকা অনুদান প্রদান করেছেন।
সর্বমহলে প্রশংসিত এই ব্যক্তিত্বের অর্জন সম্পর্কে সংশ্লিষ্টরা জানান, সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং সামাজিক বৈষম্য দূরীকরণে আনুড়ি হিজড়া’র এই নিরন্তর প্রচেষ্টা আগামী প্রজন্মের জন্য এক অনন্য অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে। সমাজকল্যাণে এমন মহতী ভূমিকার জন্যই তাকে এই মর্যাদাপূর্ণ সম্মাননার জন্য যোগ্য হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। তার এই প্রাপ্তি হিজড়া জনগোষ্ঠীর অধিকার আদায়ের সংগ্রামকে আরও বেগবান করবে বলে আশা করা হচ্ছে।