স্টাফ রিপোর্টার:
গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের ৫৭ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর পদপ্রার্থী বাইস্তা শামীম ওরফে বিএম শামীমকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ভাইরাল ওই ভিডিওতে তার বোনকে মাদকজাতীয় দ্রব্য হিসেবে হেরোইন সেবনরত অবস্থায় দেখা গেছে বলে দাবি করা হচ্ছে। ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই স্থানীয়ভাবে নানা আলোচনা-সমালোচনা ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরেই বিএম শামীমের পরিবারের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে। এলাকাবাসীর একাংশের দাবি, তিনি বিএনপির বিভিন্ন পদপদবি ব্যবহার করে এলাকায় প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। অভিযোগ অনুযায়ী, রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে তিনি স্থানীয় পর্যায়ে নানা ধরনের কর্মকাণ্ড পরিচালনা করেন, যার কারণে অনেকেই প্রকাশ্যে প্রতিবাদ করার সাহস পান না বলে দাবি করেন স্থানীয়রা।
এদিকে ভাইরাল হওয়া ভিডিওকে কেন্দ্র করে আরও অভিযোগ উঠেছে যে, বিএম শামীমের বোন নিয়মিতভাবে এলাকায় কিছু মাদকসেবীর সঙ্গে ওঠাবসা করেন এবং মাদক সেবনের মতো কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকেন। তবে এসব অভিযোগের কোনো স্বাধীন বা নির্ভরযোগ্য সূত্র থেকে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। স্থানীয় কিছু বাসিন্দা বলছেন, ভিডিওটি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে এবং বিষয়টি নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ বেড়েছে।
অন্যদিকে, অভিযুক্ত রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব বিএম শামীমের বিরুদ্ধে পূর্বেও নানা ধরনের অভিযোগ উঠেছিল বলে স্থানীয় সূত্র দাবি করলেও, সেগুলোর সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি। তিনি নিজেকে সাবেক আহ্বায়ক সদস্য, টঙ্গী পূর্ব থানা বিএনপি এবং সাবেক সাধারণ সম্পাদক, ৫৭ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপি, গাজীপুর মহানগর হিসেবে পরিচয় দিয়ে থাকেন বলে জানা গেছে।
ভিডিও ভাইরালের পর এলাকাবাসীর একটি অংশ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দ্রুত হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন। তাদের মতে, ঘটনাটির পেছনে প্রকৃত সত্য উদঘাটন করা জরুরি এবং যদি কোনো ধরনের মাদক সংশ্লিষ্টতা বা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড থেকে থাকে, তাহলে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত।
অন্যদিকে, অভিযুক্ত বিএম শামীমের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তার কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়াও এখন পর্যন্ত জানা যায়নি। ফলে উত্থাপিত অভিযোগগুলো একতরফা দাবি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে এবং এ বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা চলছে এবং তদন্তের দাবি উঠছে।
আইনশৃঙ্খলা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ ধরনের অভিযোগ ও ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তা দ্রুত যাচাই করা প্রয়োজন, কারণ অপপ্রচার বা ভুল তথ্যের মাধ্যমে ব্যক্তিগত ও সামাজিক ক্ষতির ঝুঁকি থাকে। একই সঙ্গে প্রকৃত অপরাধ থাকলে তা আইনের আওতায় আনা উচিত বলেও তারা মত দিয়েছেন।
এদিকে পুরো ঘটনাকে কেন্দ্র করে গাজীপুরের ৫৭ নম্বর ওয়ার্ড এলাকায় এখনো চরম উত্তেজনা ও আলোচনার পরিবেশ বিরাজ করছে। স্থানীয়রা দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন।